অগ্নিলা একটি মেয়ের নাম ।

আলতা
কিছু সম্পর্কের নাম হয় না। সম্পর্কের মায়ায় চলে যায় দিনগুলো। সেই না বলা সম্পর্কগুলো নিয়েই এই গল্প।
শহর থেকে খুব একটা বেশি দূরে নয় জায়গা’টা। শহরের কোলাহল ও পাশাপাশি বড় বড় ইমারতের চেয়ে এই জায়গাটা একটু ভিন্ন। অনেক ফাকা জায়গা। পাশেই নদী তার আপন গতিতে চলছে। নদী চলায় এই জায়গা’টির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে। কিছুদূর পর পর একটি করে ইমারত দাঁড়িয়ে। একটি থেকে আরেকটি’র দূরত্ব হেটে গেলে প্রায় ৭ মিনিট এর বেশি সময় লাগবে না। এখানের পরিবেশটায় যেন ভিন্ন। শহরে যেন গ্রামের আবহাওয়া। এখানে রাতের আকাশটা অনেক সুন্দর। এখানে আকাশ যেন মানুষের সাথে কথা বলে। ইমারতগুলো’র ছাদ থেকে নদী’র চলে যাওয়াটা খুব মনোরম দেখায়।
আমি নীল,
শীতের ঋতু না আসলেও আজ কেমন যেন  একটু ঠান্ডা আবহাওয়া। প্রায় সময়ই ছাদে যাওয়া হয়। ছাদটা খুব ভালো লাগে আমার কাছে। এই বাসায় এসেছি খুব বেশিদিন না হলেও আবার খুব একটা কম সময় না। মোটামুটি একটা সময় নিয়ে আছি এই বাসায়।
এই বাসা’র দুইতলায় একটি মেয়ে থাকে। আমার থেকে বছর দু’য়েক সিনিয়র হবেন।
শ্যামবর্ণের হলেও চেহারায় অনেক মায়া, মাথা ভর্তি সুন্দর চুলের বাহার। তবে চুলগুলোতেই বেশি সুন্দর দেখায়। বিকেল বেলায়  ছাদে আসলে তার সাথে একটু আধটু আলাপ হয়।
কিছুদিন এভাবে চললেও এখন আমার সাথে অনেকটাই ফ্রি। প্রথমে আপনি বললেও এখন তুমিতে চলে আসছি। ফোন নাম্বার ও আদান-প্রদান হয়ে গেছে এতদিনে। প্রতিরাতেই আমাদের কথা হয় ফোনে। খুব সুন্দর একটি মুহূর্ত। দু’তলা থেকে চারতালায়। মাঝে শুধু একটি তালা। তারপরেও কেন যেন ফোনে কথা বলতে ভালো লাগতো দুজনের। অগ্নীলা প্রতিরাতে আমাকে উনার অতীত জীবনের সুখ দুঃখগুলো শুনাতো। আমিও বাধ্য ছেলের মতো শুনি। আমার এ ব্যাপারটা অগ্নীলা’র খুব পছন্দ। অগ্নীলা একাই সব কথা বলে যেতো।
অগ্নীলা’র ডিভোর্স হয়েছে দুইবছর হতে চললো। একাকিত্ব জীবনটা ওর জন্য অনেক কষ্টের ছিলো। এই দুবছর সময়টা অগ্নীলা’র যুদ্ধে থাকা মানুষগুলোর মতো ছিলো।
অগ্নীলা এখন self dependent. একজন ডিভোর্সি মেয়ের জন্য তার পরিবার ও এক পর্যায়ে কঠোর হয়ে যায়।পরিবারের সদস্যগুলোর আচরণ ও যেন বদলে যায়।
সব মিলিয়ে অগ্নীলা একটি Depression এ ছিলো।
 আমার সাথে অগ্নীলার পরিচয়সীমা অল্প হলেও মনে হতো যেন একে অপরকে অনেক আগে থেকেই জানি ও বুঝি। আমাদের মাঝে কেমন যেন একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলো। ভালোবাসা/বন্ধুত্ব/ নিষিদ্ধ প্রেম নাকি যৌনতা কিছুই আন্দাজ করতে পারি নি এখনো।
তবে কেমন যেন একটা মাদকতা খুঁজে পাই দুইজন দু’জনাতে। সম্পর্কটা কিসের সেটাই জানা হয়নি এখনো।আগ্নীলা আমার থেকে দু’বছরের সিনিয়র হলেও আমাকে কখনো বুঝতে দেয় নি।
মাঝে মাঝে ছাদে যাওয়া হতো দুজনের। অনেক কথা হতো। কখনো প্রেম বিষয়ক আবার কখনো নিষিদ্ব যৌনতা।
রাতের আকাশ আমার খুব ভালো লাগে। তার পাশেই বেয়ে চলেছে নদী। সত্যি রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য জায়গাটা পারফেক্ট।
শীতকাল না হলেও আজকের আবহাওয়া’টা শীতের বার্তা নিয়ে এসেছে। এই শীতের বার্তাটা গ্রহণ করতেই রাতের আকাশ দেখার জন্য ছাদে চলে আসলাম। ছাদ অন্ধকার থাকলেও চারপাশের ইমারতের আলোগুলো খুবই মনোমুগ্ধকর লাগছে। এই শীতের আগমনীতে কাপলগুলো যেন অস্থির হয়ে পড়েছে।এই ইমারতের সবগুলো ফ্ল্যাটের আলোয় নিভানো। শুধু আমার ফ্ল্যাটের আলোয় জ্বলছিলো। সবাই যখন তাদের প্রিয় মানুষ নিয়ে ব্যাস্ত আমি তখন জীবনের মানে খুঁজতে ব্যাস্ত শীতের আগমনী বার্তায়।
ছাদের এককোণে দাঁড়িয়ে এক মনে আকাশ দেখছি একটু শীতও অনুভব করছি। সময়টা কেমন যেন একাকিত্ব লাগছে, পাশে কেউ থাকলে শীতের দিনের আগমনী বার্তাটা খুব সহজেই গ্রহণ করা যেত।
এমন কিছু একটা ভাবতেই পিছন থেকে কে যেন আমাকে জড়িয়ে ধরলো।প্রথমে ভয় পেলেও বুঝাতে বাকি রইলো না। জড়িয়ে ধরেই আমার ঘাড়ে চুম্বন করতে থাকলো।আমি যেন শীতের উষ্ণতা খুঁজে পেয়েছি। আমাকে কিছু বুঝতে না দিয়েই তার মুখ থেকে কিছু শব্দ শুনে আমি স্তম্ব হয়ে গেছি, শব্দগুলো এমন ছিলো, এ রাত টুকু আমার, এই শীতের রাতটুকু আমাকে দূরে ঠেলে দিও না। এখনো আমাকে জড়িয়েই আছে। আমি অগ্নীলা’কে থামিয়ে দিয়ে তার সামনাসামনি হলাম। সে কেমন যেন লজ্জাকাতুর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।তার চোখে আমি যৌনতা দেখতে পাচ্ছি। যৌন ক্ষুধার রুপ আমি এতদিনে তার মাঝে খুঁজে পেয়েছি।
এই নির্জন ছাদে আমি নীল আর অগ্নীলা ছাড়া  কেউ নেই। এই শীতের রাতে সবাই যেন আদীমখেলায় মত্ত। আমি আর অগ্নীলাই ছাদে দাঁড়িয়ে। অগ্নীলা’কে কিছু বুঝতে না দিয়েই তার ঠোটপানে আমার মুখ লাগিয়ে ক্ষুধার্ত বাঘের মতো চুম্বন করতে থাকলাম।অগ্নীলাও যেন ক্ষুধার্থ বাঘিনী।
 আমি যেন এক নতুন স্বপ্নে বিভোর। অগ্নীলা’র যৌন ক্ষুধা আরো বেড়ে গেলো। আমি তাকে কোলে করে আমার রুমে নিয়ে আসি। রুমের দরজা লাগাতেই অগ্নীলা আর নীল একটি দেহ হয়ে গেলো।
[কাল্পনিক]

লেখা ঃ মীর সজিব

 

কমেন্ট করুন