একজন তারানা হালিম।- রুদ্র সাইফুল।

একজন তারানা হালিম।- রুদ্র সাইফুল।

তারানা হালিম আপার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে পূর্ণিমার চাকুরি হওয়ার খবরে গতকাল থেকেই বাংলাদেশের ভদ্র সমাজের তথাকথিত কিছু নারীবাদীদের পোস্ট আমার চোখে পড়ছে, যারা তারানা হালিম আপার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে পূর্ণিমার চাকুরির বিষয়টিকে খুবই ছোট করে দেখছে, বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে খুব; বিশেষ করে আমরা যারা ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে বিএনপির ক্যাডারদের সেই পাশবিক নির্যাতনের পরে পূর্ণিমার জীবনযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছি বিভিন্নভাবে—আমাদের ভাবাচ্ছে এই পোস্টগুলো!

 

আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি, একটা সময় পূর্ণিমার পড়াশুনার টাকা ছিলো না, বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে যে টাকা আসতো সহায়তা বাবদ তাতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মতো একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার খরচ সামলানো সম্ভব হয়নি পূর্ণিমার পক্ষে, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আর ব্যক্তিগতভাবে আমরা কয়েকজন মিলে নিয়মিতভাবে পূর্ণিমাকে সহযোগিতা করেছি—যাতে পূর্ণিমার পড়াশুনায় কখনো ছেদ না পড়ে; পরবর্তীতে পূর্ণিমা যখন পড়াশুনা শেষ করলো তখন পড়লো নতুন বিড়ম্বনায়!

 

জীবন ধারণের জন্য পূর্ণিমার একটি চাকুরির খুব দরকার ছিলো, সকলের মতোই পূর্ণিমারও একটি সম্মানজনক চাকুরির ইচ্ছে ছিলো; আমিও ব্যক্তিগতভাবে পূর্ণিমাকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে রেফার করেছিলাম, মজার বিষয় হচ্ছে তারা সকলেই পূর্ণিমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো; এর মধ্যে মানবতা নিয়ে কাজ করা বড় বড় কয়েকটি এনজিও-ও আছে।

 

আপনাদের জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম এখানে উল্লেখ করবো, যারা পূর্ণিমাকে একটা চাকুরি দেয়নি শুধুমাত্র ওর সেই নির্যাতিত হওয়ার অতীতকে টেনে; তাহলে জেনে রাখুন সেই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম নামের একটি প্রতিষ্ঠান আছে, এই প্রতিষ্ঠানেও পূর্ণিমাকে রেফার করেছিলাম, একদিন পূর্ণিমা গিয়েছিলো সেখানে সিভি নিয়ে—তারা পূর্ণিমাকে চাকুরি দেয়নি; পরে একদিন যখন ব্র্যান্ড ফোরামের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছিলাম তারা বলেছিলো, “পূর্ণিমাকে চাকুরি দেওয়া সম্ভব না, ওর কোনো অভিজ্ঞতা নেই; তাছাড়া ওর একটি নেগেটিভ অতীত আছে!”
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের স্ত্রী শাহীন আনামের প্রতিষ্ঠান; বাংলাদেশে লোকাল এনজিওগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় একটি ডোনার এজেন্সি। এই মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনেও পূর্ণিমার সিভি আমি নিজে পাঠিয়েছিলাম, ওরাও পূর্ণিমাকে চাকুরি দেয়নি।

 

এ্যাকশন এইড-এও পূর্ণিমার সিভি পাঠিয়েছিলাম, এ্যাকশন এইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির আপা সেই সিভি পাওয়ার পরে আর কখনো আমার ফোনও রিসিভ করেনি—যদি পূর্ণিমার চাকুরির কথাটা তাকে পুনরায় বলি; এ্যাকশন এইড কিন্তু মানবতা নিয়ে কাজ করে!
ইউকে এইড পূর্ণিমাকে চাকুরি দেয়নি, সিভি আমি নিজে পাঠিয়েছিলাম, তারা জানিয়েছিলো পূর্ণিমার অভিজ্ঞতা নেই, পূর্ণিমার নির্যাতনের সেই নারকীয় ঘটনা তাদের জানানোর পরেও তারা চাকুরিটি দেয়নি; মানুষের জন্যই কিন্তু কাজ করে ইংল্যান্ডের এই সংস্থাটি।
শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি—তারা কেউই পূর্ণিমাকে চাকুরি দেয়নি। বাংলা একাডেমির শামসুজ্জামান খান স্যার নিজেই ইগনোর করেছে পূর্ণিমার চাকুরির বিষয়টি—সাক্ষী আমি নিজে। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ভাইও এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিয়েছিলো পূর্ণিমার চাকুরির বিষয়টি; অথচ স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণিমাকে একটা অফিসিয়াল চাকুরি দিতে পারতো—তাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোই সম্মানিত হতো।
তারানা হালিম আপা ও পূর্ণিমা।
পূর্ণিমার চাকুরির জন্য কেয়া কসমেকিস্-এ সিভি পাঠিয়েছিলাম, তারাও পূর্ণিমার নির্যাতিত অতীতের কথা শুনে রাজি হয়নি চাকুরি দিতে; তারা কিন্তু হানিফ সংকেতের ইত্যাদির মাধ্যমে নীতিবাক্য দেশব্যাপী প্রচার করে।

 

পূর্ণিমা যখন চাকুরিহীন, তখন পূর্ণিমাকে হেল্প করেনি কোনো নারীবাদী নেত্রী কিংবা প্রগতির কারবারিরা; আমার জানামতে অনেকে পূর্ণিমার ফোনও রিসিভ করতো না সেই সময়ে—পাছে পূর্ণিমা একটা চাকুরি চেয়ে বসে। একটা সময় পূর্ণিমা বলতে শুরু করলো, “দাদা, আর দরকার নেই কিছু করার, আমি বাচ্চাদের গান শিখিয়েই চলবো; আমাকে কয়েকটি টিউশনি যোগার করে দাও।”
পূর্ণিমার আত্মসম্মানবোধ এতটাই প্রখর ছিলো যে, পূর্ণিমা পড়াশুনার পাঠ শেষ করার পরে আর কখনোই আমাদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নেয়নি; দিতে চাইলেও নিতো না।

 

আজ যে নারীবাদীরা তারানা আপার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে পূর্ণিমার চাকুরি পাওয়াকে ছোট করে দেখছে—বিভিন্ন নেগেটিভ কথাবার্তা ছড়াচ্ছে, তারাও একটা সময় পূর্ণিমাকে ইগনোর করতো; আমি তার সাক্ষী।
আজ যখন দেশের আপামর জনগণ পূর্ণিমাকে ব্যক্তিগত কর্মকতা হিসেবে চাকুরি দেওয়ায় তারানা আপাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে—তখন তথাকথিত নারীবাদীদের শরীর চুলকাচ্ছে; কারণ একটাই তারানা হালিম শেখ হাসিনার সরকারের প্রতিমন্ত্রী।

 

সবশেষে আবারও স্যালুট জানাই তারানা আপাকে, পূর্ণিমাকে খুঁজে বের করে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরি দিয়েছেন; অশেষ কৃতজ্ঞতা ছোট ভাই জয়দেব নন্দীকে—পূর্ণিমার এই চাকুরির পিছনে জয়দেব নন্দীর অশেষ অবদান।
লেখক ঃ
রুদ্র সাইফুল

 

 

Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: [email protected]