অপরিচিতা – সোহাগ ইসলাম।

58796942_295615108025434_1205931446967992320_n
ভালোবাসা শব্দ টা ৪ অক্ষরের হলেও এর বিশালতা অনেক। এর যেমন কোন শেষ নেই তেমনি এটা শুরুর পদ্ধতির ও শেষ নাই। কখন কে কাকে কিভাবে ভালোবেসে ফেলে তা বুঝ অনেক দায়। ভালোবাসা হয় চোখের দেখা থেকে আবার ভালোবাস হয় শুধুমাত্র ফোন কলের একটা অজানা মানুষের কন্ঠ থেকে, আবার ভালোবাস হয় একটা মুনষ এর সাথে শুধু মাত্র কয়েক টা দিন মেসেজ করা থেকে। ভালোবাস বড়ই অদ্ভুত।
প্রতিদিন এর মতো আজকেও ইমরান তার বন্ধুর করা ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো । তার বন্ধুরা কলেজের জন্য প্রস্তুতি নিতেছে। সেও তাড়াহুড়া করে হয়ে কলেজের জন্য রেডি হয়ে গেলো।কলেজ বাস ছাড়ার শেষ সময় হচ্ছে ৮:১০ মিনিট। কলেজে ক্লাস শুরু হয় ৯ টা বাজে। তাই এক প্রকার দৌড়ানোর মত রুম থেকে বাহির হলো সবাই । সময় মতো বাসে গিয়ে উঠলো ইমরান। ইমরান সিটে বসে ভাবতেছিলো এতো কলেজ নয় যেনো কেজি স্কুল এতো সকাল এ ঘুম থেকে উঠে কলেজে যাওয়ার কোনো মানে হয়? ইমরান একটা প্রাইভেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর ৩য় বর্ষের কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এর স্টুডেন্ট। ভাল্লাগেনা এই কলেজ বলে সিটে বসে রইছে ইমরান। বাস চলতেছে কলেজের উদ্দেশ্যে । বাসের ঝাকুনিতে ঘুম চলে আসছে বলে ঝিমাচ্ছিলো ইমরান। বাস তার আপন গতিতে চলতেছে। হঠাৎ কেনো যেনো বাস ব্রেক করলো।
ও হ্যা এটা হচ্ছে পরের বাস স্ট্যান্ড এখান থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী উঠে তাই প্রায় ৫ মিনিট এর মতো বাস এখানে থামিয়ে রাখবে। ইমরান প্রচুর বিরক্তি বোদ করতেছিলো, ঘুমটা চলে এসেও চলে গেলো। ইমরান সব সময় বাসের জানালার পাশে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে পছন্দ করে। সকাল বেলার ঘুম নষ্ট করে এই বাস জার্নি আর আশে পাশের সব কিছু থেকে নিজেকে অন্য জগতে ভাবার এটাই সুন্দর রাস্তা। হঠাৎ করে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাতেই সে একটা মেয়েকে দেখে সে থমকে গেলো। কোন মতেই সে তার চোখ ফেরাতে পারছিলো না। এতোক্ষন এর ক্লান্তি এবং ঘুম যেনো হঠাৎ কোথায় চলে গেলো বিলিন হয়ে। মেয়েটা কি অপরূপ ভাবে হাসছিলো।কথায় আছে হাসলে মুক্তা ঝড়ে, যেনো এটাই সেই হাসি । এ হাসি কোন সাধারন হাসি মনে হচ্ছে না। এরকম হাসি সে আগে কখনোই দেখেনি । আশে পাশে কি হচ্ছে যেনো সব ঝাপসা হয়ে গেছে । তার দৃষ্টি শুধু সেই অপরূপ মেয়েটার দিকে । মেয়েটার চোখে কাজল দেয়া , চোখগুলা এতো মায়াবী যে মনে হয় দুনিয়ার সব মায়া অই দু চোখেই ঢেলে দিয়েছে আল্লাহ্‌।মনে হচ্ছে সেই চোখে কাটিয়ে দেয়া যাবে অনন্তকাল মেয়েটা কি কারনে এই মিষ্টি হাসি দিয়েছে বা কাকে দেখে হাসি দিয়েছে তা সে যানে না। শুধু জানে অই হাসি আর দু চোখের মধ্যে ইতিমধ্যে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে।
এখন সে শত চেষ্টা করলেও আর নিজেকে খুজে পাবে না। তাকিয়ে থাকতে থাকতে ৫ মিনিট এর মতো কেটে যায় । এদিকে স্টুডেন্ট উঠা শেষ বলে বাস আবার চলা শুরু করেছে। তার কাছে মনে হচ্ছিলো বাস টা কেনো এখনোই চলে যাচ্ছে ? আরো কিছুক্ষন থাকলেই তো পারতো। সে ওকি দিয়ে মেয়েটাকে দেখছে। বাস অনেকটা দূর চলে আসছে তাই আর দেখা যাচ্ছে না। সে যেনো একটা ঘোরের মধ্যে পরে আছে এখন তার মনে হচ্ছে বাস থেকে নেমে যাওয়া উচিত ছিলো । যাইহোক কলেজ চলে আসছে । ক্লাসে বসে বসে শুধু সেই হাসির কল্পনা করতেছে, কিভাবে একটা মেয়ে এতো সুন্দর হাসতে পারে? কিভাবে একটা মেয়ের চোখ এতো সুন্দর হতে পারে? রাতে তেমন একটা ঘুম হলো না তার , সে শুধু ভাবতেছিলো কখন সকাল হবে আর কখন সে যাবে। মনে মনে দোয়া করতেছিলো কালকে যেনো সেই মেয়েটাকে আবার দেখতে পায়। আজকে সবার আগে ইমরান ঘুম থেকে উঠেছে এখন ৫ টা বাজে ,কিন্তু বাস ছাড়বে ৮ টা বাজে । সময় যেনো ফুরাচ্ছে না প্রতিটা মিনিট যেনো আজ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ইমরান কে এতো আগে ঘুম থকে উঠে রেডি হয়ে বসে আছে দেখে তার বন্ধুরা এক্টু অবাক ই হয়। আজকে ইমরান আধ ঘন্টা আগেই বাসে এসে বসে রইছে আর বাস ছাড়ার প্রতিক্ষায় আছে। অবশেষে বাস ছড়লো ইমরান এর যেনো সেই অজানা মেয়টাকে দেখার আগ্রহ ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে।
পরবর্তী বাস স্ট্যান্ড এসে বাস থামলো। সে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাচ্ছে মেয়েটাকে দেখতে পাচ্ছে না। নিজের অজান্তেই কেনো যেনো সে এক অজানা কষ্ট অনুভব করতেছে। কিছুক্ষন পরে দেখলো কালকের সেই মেয়েটা হেটে যাচ্ছে আর একটা মেয়ের সাথে । সে বুঝতে পারলো এখানে হয়তো সেই মেয়েটার জন্যই মেয়েটা দাঁড়িয়ে ছিলো গতকাল। আজকে অই মেয়েটা সময় মতো চলে আসছে বলেই মেয়েটা চলে যাচ্ছে । তার অনেক জোরে বলতে ইচ্ছে করতেছে এখন যেয়োনা একটু অপেক্ষা করো এখানে। কিন্তু মেয়েটা চলে গেছে। এদিকে বাস টাও ছেড়ে দিয়েছে। যাইহোক মেয়েটাকে তো অন্ততো দেখতে পেয়েছে, এই ভেবেই ইমরান অনেক খুশি। তার পর থেকে পরে দুই দিন সে মেয়েটাকে বাস স্ট্যান্ড এ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে। ইমরান ও বাসের জানালার পাশে বসে বসে সেই মেয়ের দিকে সীমাহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো। কিন্তু মেয়েটা একবারের জন্য ও তার দিকে তাকাইয় নি। হয়তো মেয়েটা তাকে খেয়াল ই করে নাই। তেমনি আজকেও মেয়েটার দিকে তাকিয়ে কল্পনার সাগরে বাসছে ইমরান। আজকে মেয়েটা হঠাৎ ইমরানের দিকে খেয়াল করে।
প্রথমে নরমাল ভাবে তাকালেও মেয়েটা বুঝতে পারে ইমরান মেয়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । তাই মেয়েটা অন্যদিকে তাকিয়ে ফেলে। বাস চলে যাচ্ছে তারপর ও ঘার ঘুরিয়ে ছেলেটা তাকিয়ে আছে এটা দেখে মেয়েটা বেশ অবাক হয়। মেয়েটার নাম ইশরাত। বাস স্ট্যান্ড থেকে এক্টু দূরে একটা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট এ প্রথম বর্ষের বিজ্ঞনা বিভাগ এর ছাত্রী। প্রতিদিন এখানে তার বান্ধুবির জন্য অপেক্ষা করে। তার বান্ধুবী চলে এসে বলে চল অনেক্ষন বসে আসিছ বুঝি? ইশরাত বললো নাহ বেশিক্ষন হয় নাই বলে দুজনেই কলেজের উদ্দেশ্যে চলে গেলো। ইমরান সবার আগে ঘুম থেকে উঠে কলেজের জন্য রেডি হচ্ছে , প্রতিদিন কলেজে যাওয়া শুরু করেছে দেখে তার বন্ধুরা বলে কিরে কলেজে কারো উপর প্রেমে পড়ছোছ নাকি ? কাহিনি কী? আজকাল এতো ভালো হয়ে গেলি কিভাবে ? আগে শাপ্তাহে দুই দিন ই অনেক জোর করে কলেজে নিয়ে যেতে পারতাম না আর এখন প্রতিদিন যাচ্ছিস? ইমরান বললো তেমন কিছুনা দুস্ত। বাস সেই স্ট্যান্ড এসে থামলো মেয়েটাও বসে আছে ইমরান তাকিয়ে আছে সেই অচেনা মেয়েটার দিকে। আর ভাবতেছে বাস থেকে নেমে গিয়ে মেয়েটার সাথে কথা উচিত হবে কিনা? কিন্তু মেয়েটাতো আর যানে সে এই মেয়ের জন্য প্রতিদিন কলেজে যাচ্ছে ,প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে মেয়েটাকে আগামীকাল দেখবে সেই আশা করে ঘুমাচ্ছে। তাছাড়া মেয়েটা কি তার সাথে কথা বলবে? একজন অপরিচিতো ছেলের সাথে নিশ্চই মেয়েটা কথ বলতে সাচ্ছন্দবোধ করবে না। ইশরাত তার বান্ধবীর জন্য অপেক্ষা করতেছে , চোখের সামনে কলেজের বাস টা থেমে আছে। আর সেই বাসের একটা ছেলে এক অন্যরকম চাহনীতে তার দিকে তাকিয়ে আছে তার দৃষ্টি সরতেছে না ইশরাত এর উপর থেকে। ইশরাত তার বান্ধুবির একটা হাসির কাহিনি মনে করে হাসতেছিলো । সেই ছেলেটার এরকম ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকতে দেখে হাসি থামিয়ে দিয়ে এক্টু রাগি দৃষ্টিতে তাকালো, ছেলেটা হঠাৎ ইশরাত এর এই দৃষ্টি দেখে অপ্রস্তুত ভাবেই ঘাড় ঘুড়িয়ে ফেললো । ইশরাত এটা দেখে হেসে ফেললো, ছেলেটা আবার তাকালো কিন্তু ইশরাত তার দিকে তাকিয়ে আছে বলে আবার ঘাড় ঘুড়িয়ে নিলো। এদিকে বাস ছেড়ে দিলো ছেলেটা বারবার পেছনে তাকচ্ছে ।
ইশরাত এর বান্ধবীও চলে আসছে। সে তার বান্ধবীকে ঘটনা টা বলে ছেলেটাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে করতে চলে গেলো। এদিকে ইমরান এর বোক ধর ধর করে কাপতেছে মেয়েটার দিকে তাকানোর কারনে হয়তো অনেক রাগ করছে, তার উপর মেয়েটা কেমন দৃষ্টি তে তাকিয়েছে তার দিকে। মেয়েটা তাকে কি ভাববে ? নিশ্চই ভালো ভাববে না। মেয়েটা কি কাল থেকে এখানে থাকবে? এসব ভাবতে থাকলো। আজকেও প্রতিদিন এর মতো ইশরাত তার বান্ধবীর জন্য বসে আছে । কলেজের সেই বাস টাও এসে থামলো তার সামনে। আজকেও সেই ছেলেটা একি ভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আজকে ইশরাত লক্ষ্যকরলো ছেলেটার চাহনীতে লুকিয়ে আছে না বলা অনেক কথা । হয়তো সে অনেক কিছুই বলতে চাচ্ছে। ইশরাত নিজেকেই নিজে বললো আমি কি ভাবতেছি এসব । এক্টু রাগী চেহারা করেই সে ছেলেটার দিকে তাকালো। ইমরান ও দৃষ্টি সরিয়ে নিলো কিন্তু এক্টু পর তাকচ্ছে। এটা দেখে ইশরাত যেখানে ছিলো সেখান থেকে এক্টু দূরে চলে গেলো। এটা দেখে ইমরান মনে হয় এক্টু কষ্ট ই পেলে । সে ভাবলো মেয়েটা মনে হয় তার দিকে এভাবে তাকানো টা নিতে পারে নাই। তার উচিত ছিলো এক্টু শতর্ক ভাবে তাকানো। মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে না। হয়তো রাস্তার অন্যদিক টাতে চলে গেছে। ইমরান মন খারাপ করে বসে রইলো বাস ও ছেড়ে গেলো।
ইশরাত এর বান্ধবী আসছে, ইশরাত সেই ছেলেটার কথা আবার বললো। তার বান্ধবী বললো ছেলেটা মনে হয় তোর প্রেমে পড়ছে রে বলে জোরে এক হাসি দিলো। সে বললো ধূর যা কি যে বলিস তুই। পরের দিন বাস এসে আবার সেই স্ট্যান্ড এ এসে থামলো ইমরান সেই মেয়েটাকে আশে পাশে তাকিয়ে খোজে পাচ্ছে না। সে ভাবতে লাগলো হয়তো মেয়েটা কালকের কারনে আর এখানে এসে দাঁড়াবে না । সে মনে মনে এতো কষ্ট পাচ্ছিলো যে কান্না করতে ইচ্ছে করতেছিলো। পাগলের মতো এদিক সেদিক তাকাচ্ছিলো। বাস ছেড়ে যাবে এর এক্টু আগে দেখে মেয়ে টা হেটে স্ট্যান্ড এর দিকে আসতেছে তার মানে আজকে মেয়েটা বাসা থেকে একটু দেড়ি করে বাহির হইছে তাই আসতে দেড়ি হইছে। ইশরাত হেটে আসছে আর বাসের দিকে তাকিয়ে দেখে সেই ছেলে টা তার দিকে তাকিয়ে আছে। আর তার মুখে অনেক খুশির ভাব ফুটে উঠতেছে। তার মধ্যে ছেলেটা তাকে দেখে একটা মুচকি হাসি দিলো। ইশরাত এর কেনো যানি ইচ্ছে হচ্ছিলো তার দিকে তাকাতে কিন্তু সে অন্যদিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলো ।
যেহেতু আজ কে দেড়ি হইছে তাই বাস ও ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ইশরাত বাসের দিকে তাকিয়ে আছে ছেলেটা এদিকে সেদিক তাকানোর ভান করে তার দিকে তাকাচ্ছে। আজকে তার বান্ধবী বললো কিরে তোর প্রেমে দেওয়ানা ছেলেটা কি আজকে তোর দিকে তাকিয়েছিলো? সে শুধু হাসলো আর অন্য কথা বলে এই টপিক টা চেঞ্জ করে ফেললো। ইশরাত শুয়ে রইছে রাত প্রায় ১২ টা বাজে। হঠাৎ সেই ছেলেটার কথা মনে পড়লো । ছেলেটা কে কখন থেকেই বা তার দিকে তাকিয়ে থাকে? তার এই তাকানোর মানে কি হতে পারে? ছেলেটা তো দেখতে মনে হয় অনেক ভদ্র ।
তাছাড়া চেহারাতে কেমন একটা মায়া মায়া ভাব আছে। সে কি করবে সেও কি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকবে নাকি ইগ্নোর করবে ? আচ্ছা সেই ছেলে কে নিয়ে কি ভাবা ঠিক হচ্ছে ? আর কেনোই বা সেই ছেলেকে নিয়ে ভাবতেছি??? আজকে ইশরাত ছেলেটার দিকে তাকিয়ে চোখ রেখেই একটা সুন্দর হাসি দিলো । তখন ইমরান এতোটা খুশি হইছিলো যা সে প্রকাশ করতে পারবে না। ইমরান ও আজকে দৃষ্টি সরিয়ে না নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে হাসি দিলো। ইশরাত নিজের অনিচ্ছা সত্যেও সেই ছেলের মায়ায় জড়িয়ে গেলো। নিজের মন কে তো আর কট্রোল করা সম্ভব না। ইশরাত ও সেই অচেনা অজানা ছেলের আশায় বাস স্ট্যান্ড এ বসে থাকে। কখন আসবে সেই বাস আর সেই ছেলেকে দেখবে। ইশরাত এর মনেও সেই ছেলের জন্য এক অজানা ভালো লাগা সৃষ্টি হয়ে গেছে। এভাবে অনেক দিন হবে দেখে দেখে চলে গেছে। সব ঠিক ঠাক ই যাচ্ছিলো।
আজকেও ইশরাত বাস স্ট্যান্ড এসে পড়েছে আর সেই বাসের অপেক্ষায় আছে সে। কি এমন টান এই ছেলের প্রতি যে তার সময় ই ফুরায় না এখানে আসলে? এসব ভাবতেছে তার মধ্যেই সেই বাস এসে থামলো। সে আগ্রহ নিয়ে তাকালো সেই দিকে কিন্তু আজকে সেই ছেলে যেখানে বসতো সেখানে অন্য একটা ছেলে বসে আছে। ইশরাত হেটে এক্টু সামনে গিয়ে ভালো ভাবে তাকালো কিন্তু সেই ছেলেকে দেখলো না। ইশরাত এর মন টা খারাপ হয়ে গেলো। যেনো সেই অচেনা ছেলেটাকে একটা পলক না দেখলে সে আর হাসতে পারবে না। কেনোই বা সেই ছেলে আজ আসলো না? শরীর খারাপ না তো? এসব চিন্তা করতে সে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে । বাস ছেড়ে চলে যাচ্ছে আর সে সেই বাসের দিকে মলিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে যদিও সেই বাসে সেই ছেলেটা আজকে নেই। তার চোখ ভিজে গেছে। কোন এক অজানা এক মায়ায় তাকে কষ্ট দিচ্ছে প্রচন্ড ।
বাস টা আর দেখা যাচ্ছে না তার পর ও ইশরাত সে দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। নিজের মনের মধ্যে অনেক নিস্তব্দতা কাজ করছে মনে হচ্ছে সে আর আজকে কলেজে যাবে না বাসাইয় ফিরে যাবে। এরি মধ্যে হঠাৎ পেছন থেকে নিস্তব্দতা ভেদ করে একটা ছেলের কন্ঠ্য ভেসে আসলো তার কানে । কে যেনো তাকে বললো “এই যে শুনছেন?”। ইশরাত চোখ মুছতে মুছতে পেছনে তাকিয়ে দেখলো সেই বাসের ছেলেটা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে একটা লাল গোলাপ। ছেলেটা মুখে হাসি নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ইশরাত এর হাত পা যেনো জমে গেছে, ছেলেটাকে দেখে কিছুক্ষন চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলো চোখ বেয়ে কয়েক ফোটা পানি পড়ে গেলো । এ চোখের পানি টা কষ্টের ছিলো না এটা ছিলো আনন্দের। ইশরাত এর মনে হলো অনেক বড় কিছু একটা হারাতে গিয়েও ফিরে পেয়েছে ।
কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পর ইশরাত বললো হ্যা শুনতেছি বলুন। ইমরান এগিয়ে এসে বললো অই দুটি কাজল মাখা চোখে কখোনই পানি মানায় না । ইশরাত সুন্দর একটা হাসি দিলো। ইমরান তার হাতের ফুল টা এগিয়ে দিয়ে বললো এটা আপনার জন্য । ইশরাত ফুল টা হাতে নিয়ে বললো কখনোও এই চোখে পানি আসতে দিবেন না তো? ইমরান বললো অই দু চোখে পানি আর এই মিষ্টি হাসি বিলিন হওয়ার আগে যেনো আমার মরন হয়।
print

Hits: 40

কমেন্ট করুন