অভিশপ্ত আত্মা (৪র্থ পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয়।

৩য় পর্বের শেষের দিকে যা ঘটেছিলো:
পঞ্চময়ীর এক নতুন নাম দেয় উপমা। সে তার নাম রাখে “উমা”। তাকে তার পুরাণো কথা গুলো কিছুই বলেনা সে। উপমা চায়নি উমা জানুক তার জন্মদাতা পিতা আসলে কতোটা নিচু মানুষিকতার হয়ে আছে। সুখে দিন যাচ্ছে তাদের প্রায় ৩টা বছর। উপমা আর উমা দু’জনেরই ভোর রাতে এক বিষাদ সপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দাঁড়িয়ে যায় উপমা ও তার ছোট্ট মেয়েটি। ছোট্ট ছোট্ট পাঁয়ে মায়ের সাথে নিজেকে মিলাচ্ছে সে। একজন আদর্শ মেয়ে হয়ে যখন উঠতেছিলো সে ঠিক তখনই পিচাশের সাথে নতুন করে ব্যস্ত এই শহরটায় দেখা। উপমা তাদের বারান্দায় কিছু সময়ের জন্য হাঁটা-হাঁটি করছে। হঠ্যৎই ঘুরে দাঁড়াতে পিছন থেকে উমা উধাও।
৪র্থ পর্ব:
নিয়ে গেছে তাকে নর পিশাচের সেই ভয়ংকার মানবেরা। উমাকে খুঁজছে ওর মা। কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। সকালের ছুঁই ছুঁই আলোর মাঝে কখনো উমা বাহির হবেনা।ওর পছন্দের খেলনা আর ভালোবাসার সকল জিনিস তো ও পাশেই ছিল। তারপরে কোথায় গেল উমা? উপমা খুঁজছে উমাকে।
এদিকে বাহির থেকে দুজন এসে বললো,
উপমা, তোমার মেয়েকে তো দেখলাম ওর বাবা কোথায় যেনো নিয়ে যাচ্ছে!
উপমা: ওর বাবা?
চমকে উঠলো উপমা! চোখ মুখে যেন কোনো এক ভয়ঙ্কর আতংকের ছায়া ভীড় করছে।
তারা আবার বলে উঠলো….
হ্যাঁ! চুল পাকা এক ৫০/৫৫ বছরের এক বুড়ো বললো সে তার সম্পর্কে বাবা হয়। তাকে তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। আমরাও কিছু বললাম না কারন দেখলাম তোমার রুম থেকে বেড়িয়েছে। উমাও তো কত সুন্দর করে তার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে ছিলো।
উপমা কান্না কণ্ঠে নির্বাক হয়ে বসে পড়লো।
ভাবতেই পারছে না সে অমিত কী করে ওদের খোঁজ পেয়েছে?উপমা বোকার স্বর্গে বাস করছে। ও কখনোই অমিতের থেকে দূরে যেতে পারেনি। আমিত নিজে ওদের দূরে সরিয়ে রাখছে। কাছে থাকলে যদি কখনো ভুল হয়ে যেতো?
আমিতের সব কিছুতেই এক প্রকার প্রস্তুতিতে ছিল। চুল পেকেছে মানুষের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে তার প্রস্তুতি কাঁচা হবার নয়।
সমস্ত কিছু নিজের হাতে রেখেই নাচিয়েছে উপমাকে।উমার যখন ঘুম ভাঙে তখন সে দেখে একটা নরম বিছানায় শুয়ে আছে সে।
শিমুল তুলোর তৈরি বালিশে মাথা রেখে। কীভাবে ঘুমিয়ে পড়ছে সে নিজেও বুঝতে পারেনি।
চারপাশে মানুষ সবাই নানান কথা বলছে। কেউ কেউ বলছে দেখো অমিতের পঞ্চময়ী এসেছে। নীল চোখে মায়াবী শক্তির আভাসও যেনো ভাসঁছে। ছল ছল চোখে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে উমা।কাউকেই চিনে না সে। কান্নাও করছে না সে। কেমন যেন অনুভব করছে চারপাশের হাহাকার কানভাঙা জোরালো শব্দ।
“তুই আমার পূর্বাভাস গুলোকে খুন করেছিস!তুই অভিশপ্ত তুই মায়াবি। জন্মের সাথে সাথেই আমার পূর্বাভাসকে তুই বালি চাপা দিয়েছিস। তোর বালি চাপ দেওয়া লাশ চারটি এখনো অক্ষত। মনে পড়ে কি? জন্মের সাথে সাথেই তোর মা আমার লাশটাকে তোকে বাঁচানোর জন্য ব্যবহার করেছে। এখন করছিস তুই!”
উমা সব বুঝতে শিখেছে। নিজে নিজে নয় কেউ তাকে শেখাতো মধ্য রাতে ঘুমের ঘোরে।
আজকে আবার অচেনা এক জায়গায় নিজেকে উপস্থাপন করে। অচেনা কিছু তাকে ঘিরে ধরেছে। হঠ্যৎ সে চিৎকার দিয়ে উঠছে আর বলছে “মা কোথায়? আমি মায়ের কাছে যাবো” বলেই কান্না শুরু করে দেয়।
ওর দাদিমা ওর কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলছে…..
দিদিমা: তোমার নাম কি সোনা?
উমা: উমা রায়।
দিদিমা: না না তোমার নাম উমা নয়। তোমার নাম পঞ্চময়ী।
উমা: না আমার নাম উমা। আমার মা রাখছে আমার নাম।
এইদিকে বয়স প্রায় পাঁচের ঘরে আসতে থাকা উমার মুখে স্পষ্ট কথা শুনে সবাই অবাক। শুধুমাত্র দুজন ব্যক্তি ছাড়া। তারা তো
জানত এসব হওয়ার ছিল।
তার দিদিমা তাকে আবার বলতে লাগলো…
দিদিমা: তোমার বাবা কে জানো?
উমা: না! আমার বাবা নেই।
দিদিমা: কি বলছো পঞ্চময়ী? তোমাকে তো তোমার বাবাই নিয়ে আসছে এখানে!
উমা: না না! আমার বাবা নেই।
দিদিমা: চুপ মেয়ে; কে বলছে তোমার বাবা নাই?
উমা: মা বলছে আমার বাবা নেই।
দিদিমা: আচ্ছা পঞ্চময়ী, তোমার মা যদি বলে এটা তোমার বাবা তাহলে তো বিশ্বাস করবে?
উমা: চুপ ডাইনি! তুই আমাকে আর একবারও পঞ্চময়ী ডাকবি না। মা বলছে কেউ যদি তোকে এই নামে বার বার ডাকে তাহলে বুঝে নিবি সেই তোর শত্রু। তার থেকে দূরে দূরে থাকবি। তুই আমার শত্রু!
এই বলেই উমা ওর দাদিমার হাতে কামড় দিয়ে বলে, “তুই আমার কাছে আসবিনা।”
সে বুঝে গিয়েছে উপমা তাকে ভালোভাবেই সবকিছু শিখিয়ে দিয়েছে। তবে তাদের ব্যাপারে বা ওর শক্তি সম্পর্কে কিছুই বলেনি উমাকে। তাই সে দিদিমার সামনে থেকে চলে যায় বাবা অমিতের কাছে।
দিদিমা: অমিত তোর বউ তোর মেয়েকে আবল-তাবল সবকিছু শিখিয়ে দিয়েছে। সে এখন আমাদের কারো কাছেই আসছে না আর ওর নামের ডাকটাও ওকে শিকার করানো যাচ্ছে না।
কর্কট মেজাজি অমিত নিজের মেজাজ শান্ত করে উপমাকে নিয়ে আসতে লোক পাঠায়।
সেই লোকগুলো উপমাকে খুঁজে আনার আগেই উপমা হাজির অমিতের সামনে।
উপমা জানে তার মেয়ে এখানে সুরক্ষিত নয়। যত কষ্টই হোক না কেনো ও এখানেই থাকবে এখন।কিছু বলছে না অমিত। তার কাজের জন্য মা-মেয়েকেই ব্যবহার করতে হবে। অন্তত কিছু মাস ভালো ব্যবহার করা নিজের জন্যই মঙ্গল।
মা আর মেয়েকে এক রুমেই রাখা হয়। রাতে উপমা নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে লাইট জ্বালানো অবস্থায় ঘুমাতে যেতো। উপমার মধ্যরাতে বাথরুমে যাওয়ার জন্য উঠলে সে তার মেয়েকেও উঠিয়ে নেয়। সেই সময় মাআর মেয়ে উঠে দাঁড়ালে হঠাৎ করেই সমস্ত রুমের আলো নিভু নিভু হয়ে আসে। আর হঠ্যৎই আলৌকিক ভাবেই রুমের দরজা খুলে যায়।
চারদিকে ঘিটঘিটে অন্ধকার। হিমেল বাতাসে সুগন্ধি নয় মৃত্যু গন্ধ ভেসে আসছে সবার নাকে। বাড়িতে অবস্থানরত প্রায় সকল লোকজনই পাচ্ছে গন্ধটা শুধু উমা ও তার মা ছাড়া।গন্ধে ঘুমন্ত মানুষের মুখে বমি চলে আসছে।হৈচৈ বেঁধে যাচ্ছিল সমস্ত বাসায়।লোকজন সবাই খুঁজছে কোথা থেকে আসতেছে এই গন্ধ?সকলের অনেক খুঁজে বেড়ানোর পর দুটো লাশ পায় তারা। চার বছর আগের দুটো বাচ্চার লাশ……..
৫ম পর্বের অপেক্ষায়
অসমাপ্ত

অভিশপ্ত আত্মা (১ম পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন

অভিশপ্ত আত্মা (২য় পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন

অভিশপ্ত আত্মা (৩য় পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন