অভিশপ্ত আত্মা (৩য় পর্ব )- শুভ্র ভৌমিক জয়

২য় পর্বের শেষের দিকে যা ঘটেছিলো…
যা বলছিলাম, তোদের এই বংশ বলিদানে খুশি হয়েছেন আত্মাদের অাদি বাদশা। তোর মায়ের রূপের পরিবর্তন হচ্ছে। সে আর বুড়ি হবে না, চামড়াও কুঁচকাবে না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সে যুবতী হবে ধীরে ধীরে। তবে অমরত্ব পেতে হলে তোর বউয়ের গর্ভ থেকে আসা পঞ্চম সন্তানটাকে ত্যাগ করতে হবে।
জন্ম হবার ঠিক পঞ্চমতম বছরের পাঁচ দিনের শেষ রাতে তোকে তোর মেয়ের মাথার ঠিক মাঝ বরাবর থেকে একটি সোনালী চুল সংগ্রহ করতে হবে। তার থেকে এই সোনালী চুল পুরো আস্তো অবস্থায় নিয়ে তা বছরের পূর্ন আলোকিত চাঁদের জোৎসা আলোতে নিয়ে এক দৃষ্টিতে সোনালী সেই চুলে তাকিয়ে থাকবি। তবেই তুই আর তোর মা অমর হবে। মনে রাখিস তোর পঞ্চম মেয়ে কোনো সাধারণ মেয়ে মানুষ হয়ে জন্মাবে না। তার পঞ্চম বছর একজন যুবতী মেয়েকে হার মানাবে। দৈবিক শক্তি কতটুকু হবে আন্দাজ করা মুশকিল তবে মনে রাখিস যতদিন এ কথা তোর মেয়ে না জানবে ততোদিন পর্যন্ত তোরা বাঁচতে পারবি। যদি সে পঞ্চম বছরে পাঁ রাখে আর তোদের উদ্দেশ্য জানতে পারে তাহলে তোদের জীবন কেউই আর বাঁচাতে পারবে না। আর মনে রাখিস সেই অভিনব মেয়ের সোনালী চুলেই তোদের অমরত্ব লুকিয়ে আছে। চার সন্তানের আত্মা তাকে রক্ষা করছে প্রতিনিয়ত। ভাবিস নে কাজ এতোটা সহজ হবে।
সামনের দিনগুলোতে পদে পদে বিপদ সামনে দাঁড়িয়ে তোদের স্বাগতম জানাবে……
৩য় পর্বের অপেক্ষায়..
অসমাপ্ত
অভিশপ্ত আত্মা(ধারাবাহিক)
৩য় পর্ব (শুভ্র ভৌমিক জয়)
আর একটি কথা বলে রাখি তোদের সকল কাজ শেষ হওয়ার পর ক্রমাগত ভাবে ঐই চার সন্তানকে যেভাবে হত্যা করেছিলি ঠিক সেইভাবে ৫ম সন্তানকেও মেরে ফেলতে হবে। তা না হলে তোদের সকল কার্য সম্পাদন হবে না আর তোরাও সফল হবি না। তবে আবারও বলে রাখছি, কাজটা শেষ করা তোদের জন্য সহজ হবে না আর তাকে হত্যা সে তো অনেকটা আলাদিনের মতো!
সেইদিকে তাদের এই কথাগুলো শুনে থমকে যায় উপমা। এমন কোনো পিতাও কি আছে যে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মেয়েকে এইভাবে বলি দেওয়া কথা ভাবতেও পারে?
অমিত আমার সন্তানের পিতা হওয়ার যোগ্য নয়! ভাবতে লাগলো উপমা। যে এখনো পর্যন্ত এই পৃথিবীর আলো দেখেনি তাকেই খুন করার তারিখ ঠিক হয়ে গেছে।
সে কীভাবে এগুলো করতে পারছে? অমরত্ব পাওয়ার ভাবনায় মানুষ এমন করতে পারে?
ওরা কি ঐই অভিশপ্তদের মায়াজালে এতোটাই জড়িয়ে গেছে?হে স্রষ্টা,এমন জাহেলি পিতার ঘরে কোনো মেয়েকে আর জন্ম দিও না আর আমাকেও ক্ষমা করে দিও। আত্মহত্যা মহাপাপ জেনেও তবুও আজ আমি সে পথ বেছে নিতে যাচ্ছি।
এ সংসারে কোনো মানুষ থাকতে পারেনা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ঐই সরু ও ভায়ঙ্কর গুহা থেকে বেরিয়ে আসে উপমা।কোনো প্রকার ভাবতে না পেরে চিৎকার দিয়ে সবাইকে একত্র করতে চাইছিলো সে। পরক্ষণেই ভাবলো যারা এসব করতে পারে তারা আরও আট-দশটা খুন এমনি এমনিই করতে পারবে।চিৎকার করে লোক একত্র করলে তারা অন্য কোনো বাহানা ঠিকই খুঁজে বের করে নিবে। তার চাইতে নিজেই এমন নরক থেকে বের হয়ে যাই।
ভাবতে ভবতেই উপমা নিজের রুমে ঢুকেই আত্মহত্যার চেষ্টা করলো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উপমা সফল হয়নি তাতে।
সকলে তার আত্মহত্যার মোটিভ ভাবছে চার বার মৃত সন্তান প্রসব করার দুঃখে মেয়েটা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে সত্য ঘটনাটি সবার অন্তরালে মাটি চাপা পারে যাচ্ছে দিনের পর দিন। আর এসবের জন্য উপমার উপর সকলের নজরদারি আরো কড়াকড়ি আকার ধারন করেছে। চাইলেও এখন নিজের ক্ষতি করতে পারবে না উপমা। তাই ভাবলো আমার সন্তান আমি জন্ম দিবো। তাকে লালন-পালন ও দেখার সব সার্বিক দায়িত্বটুকু আমারই।আমার সাথে আমার সৃষ্টিকর্তা আছেন। সে তার সৃষ্টিকে বিপদ থেকে অবশ্যই রক্ষা করবেন।
সময়ের স্রোতে বেশ অনেকগুলো দিন কেটে গেলো মাঝে। সেই দিন থেকে অভিনয় করতে করতে পঞ্চময়ীর জন্ম পর্যন্ত নিখুঁত অভিনয়ে সফল হলো উপমা। কেউ মুহুর্ত্বের জন্যেও টের পায়নি যে উপমা তাদের নোংরা কাজের সবকিছু জেনে গেছে। পঞ্চময়ীর জন্মের পরে হাসপাতাল থেকে লাশ চুরি এবং তার পিঠে পাওয়া কালো দাগ যেন এসব অভিনয়েরই কিছু অংশবিশেষ।
হাসপাতাল থেকে লাশ হঠ্যৎই গায়েব হওয়াতে অমিতের বিশ্বাস আরও গাড় হয় যে পঞ্চময়ী মায়াবী শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছে। সেই কারনে অমিত কিছুটা চিন্তিত বেখেয়াল সে। উপমাও ঠিক এমনটাই চাচ্ছিল যে তার স্বামী অমিত কিছুটা উৎসুক থাকুক।নিজের অমরত্ব লাভের প্রত্যাশা পূরন মনে হয় হচ্ছে প্রায়। মূর্খ অমিত! অভিশপ্তদের অসামান্য প্ররোচনায় এটাই ভুলে গেছে “মানুষ মরণশীল”। আর অন্যদিকে এই ব্যাপারগুলোর সুযোগ নিচ্ছে অভিশপ্তরা।
এদিকে সুযোগের সৎ ব্যবহার করে উপমা কিছু গহণা আর নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায় পঞ্চময়ীকে নিয়ে।সে যাই করুক না কেনো নিজের নারি ছেঁড়া সন্তানের সুরক্ষা তৈরি করা তারই প্রথম কর্তব্য।উপমা পাড়ি জমায় ঘন বসতিপূর্ন আধুনিক সৌন্দর্যের প্রতীক ব্যস্ততম এক শহরে। গ্রামের মূর্খ স্বামী শাশুড়ীর আড়াল থেকে বেশ অনেকটা দূরে। যেখানে তাদের দুষ্ট চোখের আলো পর্যন্ত পৌঁছাবে না উপমার কিংবা তার ৫ম সন্তানের শরীরে।
এতটুকু চেষ্টার পর তবুও পায়নি ছাড়া সেই দুষ্টমতিদের হাত থেকে। অমিত নিজের স্বার্থে কখনোই পিছু পাঁ হাটে নি। অমিতের সন্দেহ ছিল উপমার উপর।তাই সকলের অন্তরালে নিজের গুপ্ত গোয়েন্দা লাগিয়ে রাখছিলো উপমার পেছনে।ব্যস্ততম এই শহরেও সে তার পিশাচ স্বামীর নজরবন্দি হয়ে রইল। ‘কে’ ই বা জানতো? অমিত এতোটা চালাকি করবে? তার মস্তিষ্কে যে অমরত্বে বিষ ঢালা।সেই কঠিন বিষে ধংস হবে শহর সাথে ধংস হবে পৃথিবীও।
অন্যদিকে ব্যস্ত এই শহরটায় চতুর পঞ্চময়ীর মাঝে অজানা কিছু শক্তির আবির্ভাব হতে শুরু করলো। কিন্তু তা ছিলো উপমার চোখের অন্তরালে। উপমার চোখে এখনও পঞ্চময়ী একটা সাধারণ মেয়ে ও নিজের কলিজার টুকরা। তবে মাঝে মাঝেই উপমা তার চার সন্তানের মুখ দেখতে রুমের কোনো এক কোণে পড়ে থাকে। আতকে উঠে তখন তার মন। চারপাশে নিস্তব্ধতা ছেয়ে বিষাদের তিক্ত অতীত মনে করিয়ে দেয় তাকে ঐই নর পিশাচের কথা। ব্যস্তশহরে তারা তাদের নিজেদের এক আপন জীবন গড়ে তুলতে শুরু করে।
পঞ্চময়ীর এক নতুন নাম দেয় উপমা। সে তার নাম রাখে “ওমা”। তাকে তার পুরাণো কথা গুলো কিছুই বলেনা সে। উপমা চায়নি ওমা জানুক তার জন্মদাতা পিতা আসলে কতোটা নিচু মানুষিকতার হয়ে আছে।
সুখে দিন যাচ্ছে তাদের প্রায় ৩টা বছর।
উপমা আর ওমা দু’জনেরই ভোর রাতে এক বিষাদ সপ্নে ঘুম ভেঙ্গে যায়। দাঁড়িয়ে যায় উপমা ও তার ছোট্ট মেয়েটি। ছোট্ট ছোট্ট পাঁয়ে মায়ের সাথে নিজেকে মিলাচ্ছে সে। একজন আদর্শ মেয়ে হয়ে যখন উঠতেছিল সে ঠিক তখনই পিচাশের সাথে নতুন করে ব্যস্ত এই শহরটায় দেখা। উপমা তাদের বারান্দায় কিছু সময়ের জন্য হাঁটা-হাঁটি করছে। হঠ্যৎই ঘুরে দাঁড়াতে পিছন থেকে …… উধাও। নিয়ে গেছে তাকে নর পিশাচের সেই ভয়ংকার …………
অসমাপ্ত রচনায়…
৪র্থ পর্বের অপেক্ষায়….
অভিশপ্ত আত্মা (১ম পর্ব )- শুভ্র ভৌমিক জয় পড়ুন

অভিশপ্ত আত্মা (২য় পর্ব )- শুভ্র ভৌমিক জয় পড়ুন