অভিশপ্ত আত্মা (২য় পর্ব) -শুভ্র ভৌমিক জয়

১ম পর্বের শেষ অংশে যা ঘটেছিলো….
অমিত এই অন্ধকার রাত্রিরে হেঁটেই চলেছে। তার চলার পথ যেন শেষই হচ্ছে না। অমিতে বাড়িতে ডুকার রাস্তা ছিল একটাই আর তার আসে-পাশে ছিল ঝোপ-ঝাড়ে ভরা বিভিন্ন রকমের ফলের বাগান । বাড়ির কাছা-কাছি আসার পর অমিত অনুভব করতে লাগলো হয়তো কেউ ওর পিছু নিয়েছে।পেছনে লক্ষ্য করতেই অমিত দেখতে পায় রাস্তায় দেখা হওয়া সেই অভিনব সাদা কাপড়ে মোড়ানো নারীটি তারই পিছু পিছু এই পর্যন্ত চলে এসেছে।
অভিশপ্ত আত্মা(ধারাবাহিক)
২য় পর্ব (শুভ্র ভৌমিক জয়)
অমিতের সারা শরীর সিউরে উঠলো। সে আত্মনাথ করে কোনো রকম বাড়ির আঙ্গিনায় পা রাখলো। হয়তো বা সময় পেড়িয়ে যাচ্ছে বলেই অমিতকে এই ভয়ানক সংকেত দিয়ে যাচ্ছে ঐই আগুন্তক আত্মা।অন্যদিকে আমাদের সবার অজানা এক রহস্য ফাঁস হতে থাকলো।
উপমা’র চার সন্তান মৃত জন্মায় নি। তাদের মেরে ফেলা হয়েছিলো। পঞ্চময়ী’কেও মরতে হবে। পাঁচ বছরের ৫ম তম দিনের শেষ রাতটা তার জন্য মৃত্যু অপেক্ষা করছে।
উপমার চার সন্তানের মৃত্যু রহস্য হয়ে থাকছে সবার সামনে। সবার কাছে এই‌ শিশুগুলোর মৃত্যুর জন্য শুধু উপমা দায়ী।সে মৃত বাচ্চা জন্ম দেয়। মূলত এই চার নব-জাতকের মৃত্যু শুধু সাধনার জন্য দিতে হয় অমিতকে তার মায়ের কাছে।এরা তো নিষ্পাপ এদের আয়ুতে সাধনা পূর্ণ পায়। আর তাই তাদের জীবন ত্যাগের মধ্য দিয়েই তারা তাদের সাধনায় পূর্নফল লাভ করবে।
অভিশপ্তরা বার বার মুক্তির চেষ্টা করে। অভিশপ্ত? অভিশপ্ত আত্মার চেয়ে মানুষ আরো বেশী নিষ্টুর। আলোর রঙ্গিন দুনিয়ার আড়ালে যে নোংরামি আছে তা তো এখন সবারই চোখের সামনে জ্ঞেয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কালো জাদু আছে তো আপনার নামের সংস্পর্শও আছে বেশ! তবে তাদের এই কালো জাদু বা কঠিন সাধনা যা কিছুই বলেন তা নোংরা কিছু দিয়েই হয়।
অমিত আর তার মা অমরত্ব লাভের আশায় এ কাজ গুলো করে যাচ্ছে। তাই ৫৪ বছর বয়সে সে ১৬ বছর বয়সী উপমাকে বিয়ে করেন যেখানে তাদের পরিবারের কেউ পূর্ণ বয়স্ক মেয়েদের ছাড়া বিয়ে করেনি। সব কিছুই একপ্রকার পূর্ব পরিকল্পনা করেই করেছে অমিত। তার অমরত্ব পেতেই হবে। ১৭ থেকে ২২ পর্যন্ত প্রতি বছরেই বাচ্চা নিতে হয়েছে উপমার।বার বার মৃত বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে উপমা।
অমিত ও তার ছলনাময়ী মা চারটি বাচ্চা উৎসর্গ দেয় সেই ভয়ংকর অভিশপ্ত আত্মাকে। ফলে সেই অভিশপ্ত আত্মা অমিতের মায়ের রূপের পরিবর্তন করে স্থায়ী করছে। সে যত বয়সী হবে ততো যুবতী হতে থাকবে। ঠিক তেমনটাই ঘটবে অমিতের ক্ষেত্রেও।
৫ম ও শেষবারের মতো নবজাতককে অভিশপ্তের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সাধনার নিয়ম অনুযায়ী নিজের পরিবারের নবজাতক সন্তানের রক্ত দিয়ে করতে হবে এই সাধনা। আর সাধনার মূলে রয়েছে ত্যাগ। অমিতও ঠিক সেই ত্যাগগুলো শিকার করছে। চারটি সন্তানের পর শেষটা পঞ্চম বছরের প্রথম পাঁচ দিনের রাতে শয়তানকে উৎসর্গ করতে হবে এই নবজাতককে। তাহলেই তারা তারা পাবে অমরত্ব। চারদিকে যখন একপ্রকার হাসি-আনন্দের মধ্যদিয়ে মিষ্টিমুখ চলছিলো ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে উপমা তার ৫ম সন্তানটাকে নিয়ে পালিয়ে যায় অনেক দূরে অন্য কোনো নগরীতে। হয়তো উপমা সেদিন সব কিছু বুঝতে পেরে গিয়েছিলো।
যেদিন তার চতুর্থ সন্তানের মৃত্যু হয় সময়টা তখন ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে……
তার বয়স তখন কেবল মাত্র একুশ পেরিয়েছে। বছরের পর বছর লাগাতার বাচ্চা নেওয়াটা কেমন অস্বাভাবিক মনে হয় তার কাছে। ঠিক তখনই টানা তিনটে সন্তানের মৃত্যুর পরে সন্দেহ জাগে তার মনে। উপমার বালিশের নিচে কতগুলো মন্ত্রপুত তাবিজের পুটলি রাখা দেখে সে ভাবে “আমার স্বামী ভুল কিছু করছে না তো?”
আমি সকল নিয়ম সঠিক ভাবেই পালন করছি তবুও কেন আমার সন্তান মৃত হবে? ডাক্তাররা ও কিছু বলছেনা আমাকে!!!?
তাদের মুখ হয়তো বন্ধ করে রাখা হয়েছে ধন কিংবা অর্থ সম্পদের মাধ্যমে। এমন কি আমার সন্তানদের মৃত দেহ পর্যন্ত দেখানো হচ্ছে না আমাকে।
“কী চলছে তার মনে??”
সন্দেয়ের সেই বেলায় দৌড়ে শাশুড়ী মায়ের ঘরে যায় সে। সেই রুমটায় কেউ নেই। শুধু ঘরে এক কোনে একটি তন্ত্রে-মন্ত্রের উপকরনে সাজানো এক লাল কাপড় বিছিয়ে রাখা। মনে হচ্ছে মাত্র কেউ সেটা বিছিয়ে রেখে গিয়েছে। সমস্ত রুমে কেউ নেই আর বাসায় ও তেমন কেউ দেখা যাচ্ছে না। ৫ম সন্তানের প্রসব হয়েছে ঘণ্টা পাঁচ-ছয় হবে। কিন্তু উপমার তার শরীরে তেমন কোনো ব্যাথা অনুভব করছে না। তাহলে কী হচ্ছে এসব? তবে কি তারা আমার সম্তানটাকে কবর/দাহ দিতে গিয়েছে? ভাবতে ভাবতেই সে ফ্লোরের উপর তন্ত্রে-মন্ত্রের উপকরনে সজ্জিত লাল কাপড়টার উপর মনের বেখেয়ালে পড়ে গেলো।
উপমা সেই স্থানে পড়তেই সামনের বিস্ময় লাল কাপড়টা নিজের জায়গা থেকে সরে যায়। আর তার থেকে বেরিয়ে আসে এক বিশাল সুরঙ্গ। প্রাচীন কাল থেকেই নাকি এটা তাদের বাসায় ছিল। সে বিয়ের পর শুনছে এই সুরঙ্গের কথা কিন্তু কখনো দেখে নি এই ভয়ানক বিশাল সুরঙ্গটি।
আজ নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলো না সে। কানগুলোকে থামিয়ে রাখতে পারছিল না ভিতর থেকে ছুটে আসা বিসাদময় এই কান্নার আওয়াজ থেকে।
এইসব দেখে থমকে গেছে উপমা। কোনো কিছু না ভেবেই সেই ভয়ঙ্কর সুরঙ্গের ভিতরে প্রবেশ করলো সে। সে শুনেছিলো এই সুরঙ্গে সর্বসাধারন মানুষের প্রবেশ নিষেধ। তবুও মনে হচ্ছে এই সুরঙ্গের ভিতরে হয়তো বা তার জীবনের কিছু রয়েছে। মায়ের মন টানছে যে ভিতরের সেই দিকটায়। অনেকটা ভিতরে ঢুকতেই সে দেখতে পায় তার শাশুড়ীমা বসে আছে এক ভয়ানক আলো-ছায়ার সামনে। তার পাশেই উপমার স্বামী অমিত। সামনে তাদের ৪র্থ সন্তান শুয়ে কান্না করছে। তেমন আক্ষেপ নেই কারোই।
হঠ্যাৎ করেই এক সাদা কাপড়ে সজ্জিত নারী এসে এই নবজাতকটাকে চার টুকরো করে ফেললো। পুরো পৃথিবী যেন থমকে যায় তখন আর শক্তি হারিয়ে ফেলে উপমা। কথা বলার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে সে। নড়ছে-চড়ছে না উপমা, শুধুই কান পেতে শুনছে তাদের কথা।
সাদা কাপড়ে সজ্জিত সেই আলো-ছায়ার খেলায় থাকা অভিনব এই নারী ভয়ঙ্কর কন্ঠে তাদের বলছিলো, তোদের চতুর্থ ত্যাগের পরীক্ষা শেষ হতে চললো। তোরা আজ সফল বাছা। অমরত্ব লাভের জন্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিস তোরা। তোদের এমন উৎসর্গে আমাদের বাদশা পাবে তার ভয়ানক অভিশাপ থেকে মুক্তি।আত্মাদের বাদশা মহারাজকে এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে নিয়ম অনুসারে এমন এক পরিবারের পর পর ৫ জন নবজাতককে লাগবে যে পরিবার প্রাচীনকাল থেকেই তন্ত্র ও মন্ত্র বিদ্যার সাথে সরাসরি সংযুক্ত। আজ এই ভয়াবহ ঘটনাগুলোর সমাপ্তির মধ্যদিয়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে অভিশাপে প্রীরিত আত্মাদের বাদশা মহারাজের অভিশপ্ত জীবন।‌ ফলে অভিশপ্ত এই আত্মার অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে আবারও তিনি ঘুরে বেড়াবেন স্বতন্ত হয়ে সাধারন মানুষের ক্ষতি সাধনে। আর অন্যদিকের তান্ত্রক পরিবারের ২ সদস্য পাবে অমরত্ব।
যা বলছিলাম, তোদের এই বংশ বলিদানে খুশি হয়েছেন আত্মাদের অাদি বাদশা। তোর মায়ের রূপের পরিবর্তন হচ্ছে। সে আর বুড়ি হবে না, চামড়াও কুঁচকাবে না। বসয় বাড়ার সাথে সাথে সে যুবতী হবে ধীরে ধীরে। তবে অমরত্ব পেতে হলে তোর বউয়ের গর্ভ থেকে আসা পঞ্চম সন্তানটাকে ত্যাগ করতে হবে।
জন্ম হবার ঠিক পঞ্চমতম বছরের পাঁচ দিনের শেষ রাতে তোকে তোর মেয়ের মাথার ঠিক মাঝ বরাবর থেকে একটি সোনালী চুল সংগ্রহ করতে হবে। তার থেকে এই সোনালী চুল পুরো আস্তো অবস্থায় নিয়ে তা বছরের পূর্ন আলোকিত চাঁদের জোৎসা আলোতে নিয়ে এক দৃষ্টিতে সোনালী সেই চুলে তাকিয়ে থাকবি। তবেই তুই আর তোর মা অমর হবে। মনে রাখিস তোর পঞ্চম মেয়ে কোনো সাধারণ মেয়ে মানুষ হয়ে জন্মাবে না। তার পঞ্চম বছর একজন যুবতী মেয়েকে হার মানাবে। দৈবিক শক্তি কতটুকু হবে আন্দাজ করা মুশকিল তবে মনে রাখিস যতদিন এ কথা তোর মেয়ে না জানবে ততোদিন পর্যন্ত তোরা বাঁচতে পারবি। যদি সে পঞ্চম বছরে পাঁ রাখে আর তোদের উদ্দেশ্য জানতে পারে তাহলে তোদের জীবন কেউই আর বাঁচাতে পারবে না। আর মনে রাখিস সেই অভিনব মেয়ের সোনালী চুলেই তোদের অমরত্ব লুকিয়ে আছে। চার সন্তানের আত্মা তাকে রক্ষা করছে প্রতিনিয়ত। ভাবিস নে কাজ এতোটা সহজ হবে। সামনের দিনগুলোতে পদে পদে বিপদ সামনে দাঁড়িয়ে তোদের স্বাগতম জানাবে……
৩য় পর্বের অপেক্ষায়..
অসমাপ্ত
বি:দ্র: প্রথম পর্ব পড়তে ব্রাউজ করুন অভিশপ্ত আত্মা ( ১ম পর্ব) -শুভ্র ভৌমিক জয়

কমেন্ট করুন