প্রত্যয়ের খোলা চিঠি(পর্ব-২) -শুভ্র ভৌমিক জয়

প্রত্যয়ের খোলা চিঠি(পর্ব-২) -শুভ্র ভৌমিক জয়

আজকাল নিজেকে দেওয়ার মতো ঠিক তেমন একটা সময় পাচ্ছি না। সদ্য ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে আমার বাসার গন্তব্যের পাশেই একটা পেশাদার চাকুরিতে যোগদান করেছি। তাই আগের মতো করে তেমন সাহিত্যচর্চা করাটা হয়ে ওঠে না। আবার এতো ব্যস্ততার মাঝেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে হাইয়ার এ্যাডুকেশনের জন্যও ভর্তি হলাম। সব মিলিয়ে এক প্রকার কোণ ঠ্যাসা জীবন হয়ে উঠলো আমার।

 

নিয়ত কর্ম নিয়ে যতই ব্যস্ত থাকি না কেনো সাহিত্যের প্রতি নিবিড় প্রেম যেন আমার নিয়মিত পিছু ছুটে চলে। আর আমাকে ভাসিয়ে বেড়ায় কখনও বা সপ্নের দেশে আবার কখনও বা সুবিশাল যন্তনার ও বাস্তবতার বেড়াজালে। তাই সাহিত্যকে ছাড়া আমার জীবন যেন এক প্রকার লবনহীন তারকারীর মতো। তাই বয়ে চলা পৃথিবীর এই ক্লান্তিময় মুহুর্ত্বের মাঝেও সাহিত্যকে ছাড়া দিন গুনতে যে বেশ কষ্ট হচ্ছে আমার।

 

জীবনের চলার পথে থামতে হবে কখনও বা চলতে হবে কাউকে না কাউকে সঙ্গী করে। আবার কখনও বা কর্মক্ষেত্রে কিংবা অন্তর -আত্মার মধ্যে থাকা মানুষগুলোকেও সময় দিতে হবে এমন সব ব্যস্ততার মাঝে।তেমনই আমার এক শুভাকাঙ্খী ও ছায়াবন্ধু প্রত্যয়।
যার সাথে সময় না কাটালে হয়তো আমার জীবনে জানার পরিধিটা অনেকটাই কম থাকতো।

 

২রা মার্চ
সাল ২০২১
হঠ্যৎ সেইদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে শহরের কোনো এক চায়ের দোকানের সামনে প্রত্যয়ের সাথে দেখা। আমাকে দেখেই সে যেন এক বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দে মেতে উঠলো।
প্রত্যয়: এই যে দাদা! ও লেখক দাদা!! শুনছেন?
আমি এদিক ওদিক উড়ে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিলো না কেউ আমাকে ডাকছে কিন্তু কানে শুধুমাত্র একটা পরিচিত কন্ঠের আওয়াজ বাজলো। তাই একটু কৌতুহলের বশেই পেছনে ফিরে তাকালাম। তাকাতেই দেখি ওমা সে কি! এতো আমার সাহিত্য সঙ্গী প্রত্যয়।

 

লেখক: আরে প্রত্যয়! তুমি এখানে?
প্রত্যয়: আমি তো দাদা বেকার মানুষ। খাওয়া-দাওয়া চলা-ফেরা সবই প্রায় বাবার হোটেলে। তাই আমার এইখানে থাকাটা আর আড্ডাটা অস্বাভাবিক নয়। তারপর বলেন আপনি এখানে হঠ্যৎ?
লেখক: এইতো অফিস সেরে এইদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। হঠ্যৎই তোমার পরিচিত কন্ঠে ফিরে তাকানো আর তোমাকে পেয়ে যাওয়া।
প্রত্যয়: তো ভালোই হল। অনেকদিন আপনার সাথে ঠিক-ঠাক কথা হয় না। এবার জমিয়ে আড্ডাটাও দেওয়া যাবে সাথে আপনার নবাগত চাকুরির ট্রিটটাও যে আমি পাওনা রয়ে গেছি।
লেখক: এই যাত্রায় তুমি আমায় ছাড়বে না সে আমি জানি। চলে কোথাও যাওয়া যাক। খাওয়াটা তোমার পছন্দের হবে কিন্তু গল্পটা শুনবো আমার পছন্দের বিষয় নিয়ে।
প্রত্যয়: অবশ্যই দাদা! চলেন তাহলে।

 

রিক্সায় করে দু’জনে গন্তব্য এখন প্রত্যয়ের পছন্দের রেস্টুরেন্ট “লা-ভিক্টোরিয়ান্স কুমিল্লায়” ।
প্রত্যয়: রিক্সা ভাড়াটা আজ আমার। আপনি তো আজ আমাকে ট্রিট দিচ্ছেন। এতোটুকু সাহায্য তো আপনাকে করতেই পারি।
লেখক: তোমার রসিকতাগুলো আর গেলো না প্রত্যয়। এই জন্যেই তোমাকে আমার এতোটা ভালো লাগে।
সিঁড়ি বেয়ে আমরা এখন দোতলায়। আমাদের গন্তব্য আর প্রত্যয়ের পছন্দের রেস্টরেন্ট। একটা টেবিলের মুখোমুখি থাকা দুটো চেয়ারে দুজনে বসলাম।
লেখক: প্রত্যয়, কি খাবে বলো?প্রত্যয়: দাদা আপনার কাছে আমার আবদার করতে তেমন একটা বাঁধে না। তাই লজ্জা রাখতে পারি না বলতে আর মুখের জরতা তো কাজই করে না। এই অফিসের ব্যস্ততা কাটিয়ে বাসায় যাচ্ছেন আর আপনাকে এইভাবে নিয়ে আসাটা আমার মনে হয় উচিত হয় নি।
লেখক: আরে কি বলো এসব! তোমার সাথে আমার সম্পর্কটা কখনওই রাগ-অভিমানের ছিলো না। এটা তোমার ভুল ভাবনা। তুমি পছন্দ মতো অর্ডার করো তো।
প্রত্যয়: এই যে ওয়েটার! দুই প্লেট কাচ্ছি বিরিয়ানী আর বিরিয়ানিটা গরম যেন হয়।
আর দাদা আপনার চলবে তো এটা?
লেখক: অবশ্যই!
প্রত্যয়: আচ্ছা দাদা বলেন আপনার আমার জীবনের কি শুনতে এই মুহুর্ত্বের ভালো লাগবে?
লেখক: আমি শুনতে চাচ্ছি আমার ছায়াবন্ধুর জীবনে আসা সেই রুপবতী মেয়েটিকে নিয়ে কাটানো তাদের জীবন প্রেমের গল্পটি। আমি কি শুনতে পারবো?
প্রত্যয়: নীলার কথা বলছেন দাদা?
লেখক: নয়তো কে আর! ক’জনের ব্যাপারে বলেছো আমাকে বলো তো?
প্রত্যয়: কেনো নয় দাদা! অবশ্যই!
লেখক: তাহলে দেরি কেনো? শুরু করা যাক ?
প্রত্যয়: অবশ্যই দাদা!
লেখক: হুম।
প্রত্যয়:  সুচনা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত তার সাথে বেশ হাসি-আনন্দ আর অভিমানে মিশ্রিত সময়গুলো কাটিয়ে এসেছি। আমি আজ আমার সেই সপ্নচারিনী আর অপরুপা যাকে নিজের জীবনের মণি কোনে ঠাঁই করে দিয়েছি আজ সেই নীলার কথাই আপনার কাছে তুলে ধরতে যাচ্ছি।
বেশ হাসি আর সাথে রাগ-অভিমানে মিশ্রিত দিনে আজ আমাদের প্রায় বছর দুইয়ে পড়তে লাগলো। কিছুদিন যাবত আমাদের মাঝে কিছুটা ভুল বুঝা-বুঝি চলছে নিজেদের মধ্যে।
অন্য সময়ও এমন সব রাগ-অভিমান কিংবা ভুল বুঝা-বুঝি হয়ে আসতো। কিন্তু তা মিটে আমরা আবারও এক হয়ে নিজেদের সপ্নের মাঝে এগিয়ে যেতাম দু’জন দু’জনকে নিয়ে।

 

কিন্তু জানেন দাদা, এবারের অভিমানটা তুলনামূলক খানিকটা জোড়ালো। আমাদের মাঝে ৩য় ব্যাক্তি হিসেবে নীলার জীবনে আমি আসার আগে তাকে সার্পোট দিয়ে যাওয়া এক বন্ধুকে নিয়ে।
কোনো এক ব্যাক্তিগত কারনে কয়েকদিন আগে সে আমাকে বললো, প্রত্যয়! আমার সাথে তুমি আর কোনো প্রকার যোগাযোগের চেষ্টা করবে না। সেই দিন প্রচন্ড অভিমানে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছিলাম আমি। কোথাও কোনো সমাধান পাচ্ছিলাম না। আমি রাত ভর কেঁদে কেঁদে নিজেকে সামলে নিতাম। আর দিন শেষে আমার অভিমানগুলো আরো জোড়ালো হতে লাগলো। এক পর্যায়ে নীলার ওপাশ থেকে যোগাযোগ শুরু করা।
আমার অভিমান প্রচন্ড ভাবে বেড়ে যাওয়ার পরই নীলার যোগাযোগ শুরু। আমি এই পাশ থেকে কোনো প্রকার ভালো বার্তাই ওকে দিচ্ছি না। কারন আমি জানি আমার অভিমান আমাকে এতোটাই শক্ত করে দিয়েছে যে, আমি চাইলেও এখন নিজেকে নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে পারবো না।

 

এদিকে নীলা সব কিছু স্বাভাবিক করতে চাইছে কিন্তু আমি তাকে কোনো ভাবেই কোনো সুযোগ দিচ্ছি না। কারন আমি নিজেও জানি না আমার করা অভিমান আসলে কতটা শক্তিশালী আর কতোটা তীব্র ভাবে পৌঁছোতে পারে। অতঃপর নীলা নানান রকম বাহানায় আমার সাথে কোথাও ভ্রমনে যেতে চাইলো। আমি রাজি হচ্ছিলাম না। সেই
থেকে নতুন ভাবে আমাকে নানান বায়ানায় রাজি করলো। আমাদের গন্তব্য চট্রগ্রাম বিভাগের কোনো এক শীতল আবেসে ঘেরা প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যে ঘেরা পরিবেশে।

 

সেখানে আমাদের প্রায় ৩-৪ ঘন্টার কথপকথন আর অভিমানেও তেমন কোনো সমাধান হলো না। অবশেষে পরিনতি আজ বিচ্ছেদের দিকেই অগ্রসর হতে যাচ্ছে। আমাদের এই বিচ্ছেদের কারন তার সূচনা লগ্নের আমার সাথের অভিমানে মাখা বিষাদময় বার্তা আর দ্বিতীয়ত আমার প্রচন্ড অভিমানে মাখা কয়েকদিনের ক্ষোভ।
নীলার সাথে সে দিনে ঝামেলার পর সে আমাকে এক প্রকার বাধ্য করলো তাকে তার সাথে সোস্যাল মিডিয়ার থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে। খুব খারাপ লেগেছিলো ঠিকই কিন্তু নিজের অভিমান কন্টোলে নিতে পারতেছিলাম না আমি। যার পরিনতি হিসেবে আমাদের সেই দিনের এমন একটা রাত কাটতেছিলো।
২-৩ ঘন্টা পর..
রাত তখন ১০ টা বেজে কিছু উপরে। হঠ্যৎ নীলার ফোন কল আসলো আমার ফোনে।
কল ধরতে…
নীলা: সব কিছু ঠিক করবা?
প্রত্যয়: কথা আছে! ইন্টানেটে আসো।
বলেই সোসাল মিডিয়ায় আবার যুক্ত করলাম নীলাকে। তাকে কিছুক্ষণ বুঝানোর পর সে সব কিছু বুঝে আমার কাছে সত্যি প্রকাশ করতে শুরু করলো। তখন আমাদের জীবন গল্পে আসে এক নতুন মোর। আমার মানসিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিলো না সে রাতে আর তার কথাগুলো আমাকে আরো প্রচন্ডভাবে যন্তনা দিয়ে যাচ্ছিলো। সে বলতে লাগলো….

 

নীলা: তোমাকে যে বলেছিলাম, আমার সেই বন্ধু যাকে তুমি আমাদের মাঝে দেখতে চাইছিলে না? তোমার সাথে এমন হাড়ভাঙ্গা বিচ্ছেদের পর আমার মনকে শান্ত রাখতে না পেরে আমি তাকে সোস্যাল মিডিয়াতে আমার সাথে যুক্ত করে কথা বলেছি। ওর সাথে আমার বেশ কিছুক্ষন কথপকথন হয়েছে।
সেই সময়টাতে যেন আমার মাথা প্রচন্ডভাবে ঘুরতে লাগলো। আমি সব অন্যরকম পৃথিবী দেখতে পাচ্ছিলাম। নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে না পেরে মাঝরাতে ল্যামপোষ্টের নিজে নিজেকে জায়গা দিলাম আর কাদঁতে শুরু করলাম। আমাদের অবিচ্ছেদ্দ এই মধুর সম্পর্কের মাঝে ওর বন্ধু যেন এক বিলাসি নাবিক। যা আমি কখনওই মানতে পারছিলাম না। আমার অনুরোধে, আমাকে বুঝতে পেরে নীলা এক পর্যায়ে এসব নিয়ে অনেক কিছু হওয়ার পর নীলা তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলো। আমি ভাবতেও পারি নি এতোদিন পর ওর আবার তার বন্ধু কথা মনে করবে… আর তার সাথে ঠিক মধুমাখা সুরে কথা শুরু করবে।
সে রাত ছিলো এক বিষাদময় রাতের সঙ্গী। আমার জীবনের হার না মানা এক কাব্যের মধ্যমণির মতো। সে রাতে আমাদের প্রায় চার ঘন্টার কথপকথনে অনেক বুঝিয়ে নিজেদের মধ্যে সব কিছু ঠিক করে নিলাম। আর পর দিন নীলার সাথে দেখা করবো তা ওকে জানিয়ে দিলাম। সে আমার জন্য প্রায় অন্য সব দিনগুলোর মতোই ভালোবেসে রান্না করে নিয়ে আসলো।

 

আমরা শহরের কোনো এক আম্রোকাননের নিচে বসে খাবার খাচ্ছিলাম। নীলা নিজ হাতে রান্না করে আমাকে তা খাইয়ে দিচ্ছিলো। ঠিক এমন সময় আমার বিষাদময় কন্ঠে বাজতে লাগলো তার জন্য আমার লেখা এক অবেগঘন চিঠি…..
লেখক: এর মধ্যে মতো কিছু হয়ে গেলো অথচ আমি বা আমার পাঠক কেউই‌ কিছু জানতে পারলাম না? আচ্ছা সেই প্রশ্ন না হয় পরে হবে এখন বলো, নীলাকে উদ্দেশ্য করে লিখা সেই আবেকঘন চিঠিটি কেমন ছিলো?
বলছি দাদা…! একটু কান্না কান্না চোখে প্রত্যয় বললো। ঠিক এমন সময় প্রত্যয়ের অর্ডার করা তার পছন্দের কাচ্ছি বিরিয়ানী নিয়ে ওয়েটার হাজির আমাদের সামনে।
লেখক: বেশ গরম একটা ভাব আসছে তাই না প্রত্যয়?

 

প্রত্যয়: জ্বি দাদা!
লেখক: মজা করে খাওয়া যাবে। আচ্ছা চলো খাওয়া শুরু করি। আর সাথে নীলাকে বলা তোমার চিঠিটাও। কান্না নিয়ন্ত্রনে আনো তুমি আমার সামনে আছো। নিজেকে শক্ত করো প্রত্যয়।
প্রত্যয়: (কান্না থামিয়ে) অবশ্যই দাদা। শুরু করুন আর চিঠিও সাথে করে নিয়ে এসেছি। আপনাকে পড়ে শোনাচ্ছি।
লেখক: অবশ্যই!
প্রত্যয়: মানিব্যাগের জিপার খুলে চিঠিটি বের করে পড়তে শুরু করলো….
আমার অন্তর-আত্মার নীলা,
এতোক্ষনে নিশ্চই বুঝতে বাকি নেই তোমার যে, এই লেখার পেছনের মানুষটি কে? তুমি হয়তো ঠিকই ধরেছো আমি তোমার সেই ভালোবাসা যাকে তুমি তোমার জীবনের ভালো-মন্দ সব কিছু খুব ভালোভাবে শেয়ার করে গেছো। আর আমি কতটা তোমাকে মানিয়ে নিয়েছি তা আমি জানি না তবে আমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছি।
নিজের বিবেককে সাথে নিয়ে আমার কথাগুলো পড়ার জন্য প্রস্তত হও। প্রথমে আমার উপর নিজের বিশ্বাস স্থাপন করো তারপর পড়ো তোমার প্রভুর নামে।
আমার সাথে তোমার চলার পথের দুঃখের সময়গুলোতে এমন কোনো মুহুর্ত্ব নেই যেখানে আমি তোমার কষ্টে কষ্ট পাই নি তোমার খারাপ সময়ে আমার খারাপ লাগে নি। কিংবা তোমার চোখের জলে আমি আড়ালে বসে কাঁদি নি।
তুমি তাও জানো আমি একটা সময় মেয়েতে আসক্ত ছিলাম না। তুমি সেই মেয়ে যাকে আমি অন্যকিছু মাথায় নিয়ে নয় শুধু মাত্র একটু বেশী ভালোবাসা পাবো তোমার থেকে এই ভেবে তোমাকে আমার পাশে রেখে গেছি।

 

আমাদের অভিমান বলো আর ঝগড়া বলো এই সময়গুলোতে তুমি আমাকে অনেক সামলানোর চেষ্টা করো। কিন্তু আমি মানুষটা খুবই বিষাদ ময়। হয়তো দেখেও এসেছো তা। আমি আমার পরিবার ছাড়া তুমিই একমাত্র মানুষ যাকে আমার ভালোবাসায় ছত্রছায়ায় লুকিয়ে রেখেছি। যেদিন থেকে যেনেছি অনেকটা কষ্ট মাথায় নিয়ে বড় হয়েছো ঠিক সেদিন থেকে তোমাকে ভালোবাসার সাথে সাথে নিজের ছত্রছায়ার বেড়া জালে আটকে নিয়েছি। আর তোমার কিসে ভালো/মন্দ হবে তা দেখতে চেষ্টা করেছি। তাই কোনো অশ্লীল ব্যবহার করা ছেলেকে বন্ধু মানতে পারি নি তোমার। আমি সে দিন থেকে বিশ্বাস করে নিয়েছি যে,‌ঈশ্বর হয়তো তোমার সব কিছু দেখার দ্বায়িত্ব আমাকে দিয়েছে। তা না হলে আমি তোমাকে ভালোবাসার সাথে সাথে তোমার কষ্টে কাতর হয়ে আমি তোমার দ্বায়িত্ব নেওয়ার কথা মনে বার বার নাড়া দিচ্ছে কেনো?
আমি কাঁদি। তুমি দেখো না হয় তো তোমার ঈশ্বর দেখেন। আমি তোমার জন্য কাঁদি। অসময়ে কাঁদি। তোমার এইসব ছেলেদের সাথে কথা বলা মানতে না পারাটা আমার দূর্বলতা নয়। মনে হয় যেন আমি আমার ঈশ্বরের দেওয়া দ্বায়িত্ব ঠিক-ঠাক পালন করতে পারি নি। তুমি সরে যাচ্ছো আমার ছত্র-ছায়া থেকে। আমি যত বার তোমার সাথে অভিমান করেছি তুমি ততবার ওদের সঙ্গ নিয়েছো। কিন্তু তুমি বুঝতে পারতেছো না। আজ-কাল পরিবার ছাড়া অন্য কারোর সাথে এমনি এমনি একটা সম্পর্ক গড়তে পারে না। আমি পুরুষ আর আমি এটা জানি একটা পুরুষের চাহিদা কি? তাই যাকে সত্যিই বন্ধু ভাবছো সে তোমার বন্ধুত্বের বেড়াজালে থেকে তোমাকে ব্যবহারের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে কি না একটু ভেবে নিও। হয় একটা কথা তুমি বললা যে তোমাকে সে খুব বুঝে। এই যেমন ধরো কান্না করতেছো। না দেখে বলে দিলো। এর মাঝে তোমাকে জানার বা বুঝার বিশালতা থেকে ইম্প্রেসটাই বেশী গুরুত্বপূর্ন মনে হয়েছে আমার কাছে। তবে তোমার মতোবাদ ভিন্নও থাকতে পারে। একটা কথা বলে রাখি। তুমি সবটা ভালো নিজের কখনওই বুঝো না। আমি তোমাকে চিনি আমি বললাম। তাই তোমাকে অন্যেরা চাইলেই ভালোটা বুঝাতে পারবে আবার খারাপটাও বুঝাতে পারবে। তোমার মনের দরজাটা খুবই নরম। তাই তোমাকে কেউ চাইলেই বুঝিয়ে নিতে পারতে পারে। সকল বন্ধু ,বন্ধু নয় আবার অনেক বন্ধুও, বন্ধু নয়।

 

তাই নিজেকে সময় থাকতে গড়ে নাও। তোমার সাথে বন্ধুত্বের সুযোগ নিলে হয়তো ওদের মতো মানুষের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। তবে তোমার জীবনটাকে তুমি আর তখন মেনে নিতে পারবে না। তাদের বন্ধুত্বও তখন ফুরিয়ে যাবে। তাতে তোমার রাস্তা তখন বিষাদময় হবে। তুমি সুন্দর তোমার মনের দিক থেকে । তাই বলছি, আমার কথা গুলোকে শুধু কথা হিসেবে নিও না। উপলব্ধি করতে শিখো। মনের মধ্যে আমার প্রতি বিশ্বাস আনো। আর একজন শুভাকাঙ্কি হিসেবে বার্তাটি গ্রহন করো। প্রয়োজনে ২ বার পড়ো। নিজের মাঝে ইগো আর বিচার ক্ষমতা রেখে।

 

আর একটা কথা বলে রাখি, শীতকালে খেজুরের রস চাষীরা চাষ করে। চাষীরা যখন গাউছটাকে ঠিক ঠাক করে রসের জন্য কলসি দিয়ে আসে ঠিক তখন আশে পাশের পাখিগুলো সেটাকে ধরতে পারলে সেই লোভের ফাঁদে বার বার আসে সেই খেজুর গাছের কোনে। শীত চলে গেলেও একটু মধু রসের আশায় সেই রসের আঙ্গিনায় বার বার সে ফিরে আসে।
আমার কথার অর্থটা আমাকে পজেটিভ ভেবে বুঝে নিও। তাহলে কিছু ধরতে পারবা।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। আর করি বলেই তোমাকে ভুল পথের পথিক না হওয়া থেকে বার বার চেষ্টায় থাকি ফেরানোর। র্তীর্থের কাকের মতো বসে থাকি এইসবের থেলে দূরে রাখতে। এগুলো তোমার ভুল নয় এগুলো পরিস্থিতির মায়াজাল। সেই ফাঁদে তোমাকে পড়তে দিতে চাই না আমি। দেখো কিছু একটা খারাপ হলে তোমার সাথেই হবে। আমি হয়তো দ্বায়িত্ব পালনে ব্যার্থ ভেবে কিছুদিন খারাপ লাগবে। কিছু দিন শেষে ক্ষতিটা তোমারই হবে। এই যন্তনা তোমায় ঘুমাতে দিবে না। আর দিন শেষে এগুলো করলে আমি আরো যন্তনা পাবো এই ভেবে নিজের অজান্তেই অনেক বড় ভুলে পা দিয়ে ফেলবা। পরে এখন যেমন ভাবতেছো আমি তোমাকে চাচ্ছি না যেহেতু তুমি আমাকে যন্তনা বলো আর কষ্ট বলো তা দেওয়ার জন্য রাগ ও ক্ষোভের বশে যা করবা তা তোমারই কর্মফল হবে আর তা তোমাকেই ভোগ করতে হবে। নরক যন্তনায় ভোগবে তখন কাউকে তখন বলার সুযোগ হবে না এই সব বিষয়।

 

আমি তোমার কাছের মানুষ তাই তোমাকে সব কিছু ভেঙ্গে বুঝিয়ে দিলাম। আমার বিশ্লেষনে মনে কষ্ট নিও না। বরং বুঝার চেষ্টা করো আমি কর্ম আর কর্মফল বা পরিনতিটার কথা তোমাকে জানিয়ে দিলাম। তাতে যদি তুমি আমার কথাগুলোকে নিজের ভালোবাসার উপহার বা উপদেশ ভাবো তাহলে আমার সময় করে লিখা আর তোমাকে দেওয়ার জন্য ধন্য মনে করবো।
আর একটা কথা আমার কথাগুলো তোমাকে কোনো আঘাত করার জন্য না। শুধু বুঝানোর জন্য। আমি পৃথিবীটাকে যেমন বুঝি তার থেকে বললাম। আমি তোমাকে তোমসর কাজ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলি নি। কোনো কিছুতেও সোঁজা কথায় বাদা দেই নি। শুধু তোমার বিকেকটা জাগ্রত করতে চাইছি।
ভুলক্রটি ক্ষমা করো।
ইতি
তোমার আদুরে প্রত্যয়

 

লেখক: বাহ্ ! বেশ ভালো বুঝিয়েছো তো ওকে। কিন্তু কথা হলো তোমাদের সম্পর্ক এখন কেমন? তোমার লেখা এ চিঠি নীলা ঠিক কেমন ভাবে নিয়েছে?
প্রত্যয়: সে আমাকে বুঝেছে আর বলেছে আমি নিজের মাঝে তোমার হারানো উপলব্ধি করতে পারি না। তাই অতি অভিমান আর রাগের বশে নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারি নি। তোমার সাথে বিচ্ছেদ সইতে পারি নি আমি। আমায় তুমি ভুল বুঝো না। আমি ওর সাথে সকল যোগাযোগ বন্ধ রাখবো। যাতে তোমার খারাপ লাগবে এমন কিছুই আর করবো না। শুধু আমার পাশে থেকে তোমার ভালোবাসায় আমাকে রাঙ্গিয়ে যাও বহুদূর পর্যন্ত। তবেই আমি ভালো থাকবো আর তোমাকেও ভালো রাখবো।

 

লেখক: বাহ্! তোমাদের মাঝে বোঝাপড়া তো বেশ দারুন মনে হচ্ছে। খুব সুন্দর ভাবে দু’জন দু’জনকে বুঝে নিলে। যা এমন প্রেমে স্বাভাবিক ভাবে দেখা যায় না।
প্রত্যয়: জ্বি দাদা!
লেখক: এই পুরো গল্প শেষ করে ফেললে আর তোমার খাবার এখনও প্লেটে পড়ে রয়েছে? আমার তো তোমার গল্প শোনার মাঝে খাওয়াও হয়ে গেলো। শেষ করো খাবারগুলো….
প্রত্যয়: জ্বি খাচ্ছি। আচ্ছা দাদা একটা কথা বলুন তো?
লেখক: হ্যাঁ বলো?
প্রত্যয়: আমার আর নীলার ব্যাপারে যখন আপনাকে প্রথম বলেছিলাম? তখন আপনাকে আমি একটা ব্যাপারে আমন্ত্রন জানিয়েছিলাম। তা কি আপনার মনে আছে?
লেখক: জ্বি হ্যাঁ ঠিক কি ব্যাপারে জেনো বলেছিলে?
প্রত্যয়: আমাদের লেখক দাদার সহধর্মীনিকে আমরা কবে দেখতে পাবো? মানে এই যুগে তো মোটামুটি সবাই প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত হয়। সেই ব্যাপারে আপনি কি করলেন?
লেখক: দেখো প্রত্যয় আমার দাঁড়া এসব হবে না। (একটু মুচকি হেসে)
প্রত্যয়: দাদা আপনি লেখক একজন আর আপনার লেখায় প্রেমের গল্প থাকবে না তা কি করে হয়? আমার মতো মানুষের গল্প আর কতদিনই বা লিখবেন?
লেখক: (এক প্রকার কথা এরিয়ে গিয়ে বলতে লাগলো) তোমার খাবার তো প্রায় শেষ আমি তাহলে বিলটা দিয়ে আসি।
প্রত্যয়: ঠিক আছে!আপনি যেহেতু কিছুই বলবেন না তাহলে এবারে আপনার প্রেমের দ্বায়িত্বটা না হয় আমিই নিলাম….
আমি কিছুদূর এগিয়ে গিয়ে ক্যাশ-কাউন্টারে বিলটা জানতে চাইলে ম্যানাজার বলল, জ্বি আপনাদের আসছে চারশত আঁশি টাকা….

 

অসমাপ্ত রচনায়।
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com