প্রত্যয়ের খোলা চিঠি – শুভ্র ভৌমিক জয়।

প্রত্যেকের জীবনেরই একটা সোনালী সময় সামনে আসে। তখন সেই সময়টায় সে নিজের মতো করে সব কিছুই করতে পারে। তবে অবশ্যই তা সকল ভালো কিছু অনুকূলে থাকাকে বুঝায়। আজ ঠিক তেমনি একজন সুদর্শনকে নিয়ে আমার এই অভিমুখী সাহিত্যের সূচনা করলাম।
বয়স আনুমানিক বাইশ কিংবা তেইশ হবে।
জীবনের প্রয়োজনে নানান দিকে ছুটে বেড়ানো এক যুবক সে। তার এই বয়সটুকুতেও সামাজিক নেশা দ্রব্যে যার কোনো প্রকার হাত নেই। আমিও অনেকটা অবাক হলাম! এ আবার ভাবা যায় নাকি? যে এই যুগের ছেলেরা একটু আতটু নেশা করে না! আসলেই তাই! কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি তাকে স্বচক্ষুতে না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করতাম না। শ্যামবর্ন বিশিষ্ট এক অদম্ম যুবক যে সকলের আন্দাজকে ফাঁকি দিয়ে সামাজিক মূল্যবোধে জাগ্রত। এই বয়সটায় সবারই একটু নানানমুখী চলাফেরা অভ্যাস হয়ে থাকলেও সে এইদিক থেকে বেশ দূরত্বে অবস্থান করে। পরিবার ছাড়াও সামান্য পড়াশুনো আর সামাজিক কাজে সময় কাটতো যার সে আজ আমারই সামনে নিজের জীবনের গল্প নিয়ে হাজির। সে আর কেউ নয় আমারই চলার পথের এক অতিথী মাত্র।নামটা হয়তো এতক্ষনে আপনি আন্দাজ করেই ফেলেছেন। হ্যাঁ, সে অতিথী প্রত্যয়।
সাহিত্যের প্রেমে ঠিকই পড়েছি কিন্তু কখনও প্রেম সাহিত্য রচনা করি নি। প্রত্যয় আজ আমার সামনে তার সেই প্রেম কাব্য নিয়ে উপস্থিত। প্রত্যয়, আমি লেখক হিসেবে এমনিতে কখনও প্রেম সাহিত্য নিয়ে তেমন একটা লিখালিখি করি নি। তাই তোমার গল্পটাকে কিভাবে সবার সামনে উপস্থাপন করবো তা বুঝতে পারতেছি না। যাই হোক, অনেক তো হলো এবার না হয় শুরু করি….
কি বলো প্রত্যয়?
প্রত্যয়: অবশ্যই!
যে জীবনকে জানে কিংবা জীবনের মর্ম বুঝতে পারে সে কোনো পাপ করতে বা করাইতে পারে না। আর জীবনকে বুঝতে হলে তো প্রকৃতি কিংবা সৃষ্টিতে প্রেম প্রদান করতে হয়। তা নাহলে সুবিশাল এই পৃথিবীর মানেটাই বুঝা কষ্টকর হয়ে পড়ে। হ্যাঁ, তাছাড়া এক ঘেয়ে জীবন কারই বা ভালো লাগে বলুন?
সেদিন ছিলো প্রত্যয়ের পর্ব সমাপনীর শেষ বিষয়ের পরীক্ষার আগের রাত। সে সন্ধ্যায়ই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বই পড়তে বসে পড়লো। পড়ার টেবিলে প্রত্যয়ের মন আজ খুবই তাজা। কারন কালই ছ’মাস কালিন পর্ব সমাপনী থেকে প্যারা মুক্ত হবে সে। সেই আনন্দে সে আজ যেন পড়াতেই মন বসাতে পারছে না।
এক প্রকার আনন্দের সহিত মুঠোফোনটা হতে নিয়ে পড়ার টেবিলে বসে পড়লো। পড়ার টেবিলে বইকে সামনে রেখেই সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ডুকে পড়লো। সেইখান থেকেই তার জীবনে আসে নতুন মোড়। মুহুর্ত্বটা বন্ধুত্বের। হ্যাঁ সত্যিই তাই….
যোগাযোগ মাধ্যমটিতে তার প্রথম পরিচয় হয় সেই চোখ ধাধানো সুন্দর আর অপরূপ মায়াবী বর্নধারী এক কিশোরীর সাথে। সেই থেকেই প্রত্যয়ের জীবনের আসে নীলা নামের এক নতুন ছায়া। যে ছায়াকে ঘিরে প্রত্যয়ের আজ হাসি-আনন্দ আর জীবনের বসবাস।
লেখক: প্রত্যয়..সত্যিই! তোমার জীবনের গল্প শুনতে শুনতে আমিই কখন যেন ঘুমিয়ে পড়তে ছিলাম। ভাগ্যিস গল্পে নায়িকার এন্টি হলো। না হলে তো আজ আর সবটা শুনতেই পারতাম না।
প্রত্যয়: আপনি আসলেই মজার মানুষ। দাদা আমি কি তবে শুরু করবো?
লেখক: অবশ্যই!
টুকরো টুকরো করে জমানো হাসি-আনন্দ আর অপ্রতিরুদ্ধ সব দুঃখ বয়ে বেড়ানো এক সাহিত্য সে। পরিচয় না হলে সত্যিই বুঝতে পারতাম না সেটা। সেই দিন থেকেই আমাদের নিয়মিত কথা বার্তা আর হাসি আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া। মেয়েটি খুবই মিশুক প্রকৃতির সহজে সকলের সাথে হাসি-আনন্দের মেতে উঠতে পারে। আমার সাথেও তার শুরুটা এমনই ছিল। সেই থেকেই যেন তার সাথে কথা বলার আগ্রহটা আরো বেড়ে গেলো আমার। বলতে বলতে বন্ধুত্বটা আজ তিন মাসেরও অধিক সময় পেড়িয়ে।
আজ ১৪ই এপ্রিল
সাল ২০১৯ ইং
হঠ্যৎই নীলা মেসেজ করে বললো আজ তার মন অনেক খারাপ। সে কিছু বিষয় নিয়ে খুবই চিন্তিত। বিষয়গুলো ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনো সঠিক জবাব পাই নি। সে কথার মধ্যদিয়েই আমার কোনো জীবনসঙ্গীনি আছে কিনা জানতে চাইলে আমি অকপট হাসিতে উওর দিলাম! আমি তো জীবনে বিয়ে করবো না বলে স্থির করেছি। আর তুমি বলছো আমার তেমন কেউ আছে কিনা? সত্যিই তুমি হাসালে আমায়। এবার সেও আমার কথার উওরে একপ্রকার রহস্যজনক ভাবেই বলে ফেললো, কেনো কখনও প্রপোজ করলে ফিরে আসতে হবে না কি?
আমি ঠিকই তাকে ধরতে পেরেছি। উওরে বললাম কেউ বললে হয়তো ভেবে দেখতে পারি। সে তখনই বিষয়টাকে এক প্রকার তাচ্ছিলের সহিত উড়িয়ে দিয়ে গেলো।
পরেরদিন অর্থ্যাৎ ১৫ই এপ্রিল ২০১৯ ইং…
আজ বাংলা নববর্ষ / পহেলা বৈশাখ।
সকাল থেকে নীলা কোনো মেসেজ দিচ্ছে না।আমিও কেমন যেন সইতে পারলাম না। ভাবলাম আমিই একবার খোঁজ নিয়ে দেখি।
পরে ভাবতে লাগলাম গতকাল আমার হৃদয় বিদায়ক এই বার্তাকে সে তাচ্ছিল করে চলে গেছে আজ আমি তার খোঁজ নিবো না। দেখি আমাকে ছাড়া সে কিভাবে আজকের দিনটা কাটায়…..
ভাবতে ভাবতে দুপুর প্রায় ৩টা বাজতে চললো। আমি একটু পর পর তার মেসেজ অপশানে যাই কিন্তু তার মেসেজ পাই না। খুবই বিরক্তকর লাগছিলো সবকিছু তখন।
হঠ্যাৎই তার মেসেজের অপশানে নজর দিতেই দেখতে পেলাম সে টাইপিং করতেছে অলরেডি। আমার রক্তচাপ তখন যেন ক্রমেই বাড়তে লাগলো। ৩০ সেকেন্ড পার হতেই ওপার থেকে নীলার দিপ্ত প্রেম নিবেদন।
প্রত্যয়, “আমি তোমায় ভালোবাসি”!
অবাক হয়ে মেসেজটার দিকে ১-২ মিনিট তাকিয়ে রইলাম। আমি ঠিক দেখছি তো?
আমার মতো প্রেমরসহীন ছেলেটাকে সে ভালোবাসে? যাই হোক…অতোটা ভেবে লাভ নেই। আমি বরং আমার মনের কথাটা ওকে বলে দেই। যা আর কিছুক্ষন অপেক্ষা করলে হয়তো আমিই ওকে বলে দিতাম।
আমিও তারই সুরে তাল মিলিয়ে উচ্চ ক্ম্পনে তাকে বলে দিলাম,
          “নীলা ভালোবাসি তোমায়!”
সেও যেন একপ্রকার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সে ভাবতে লাগলো এই ব্যাপারে তার কি কোনো অভিযোগ নেই? তবে কি সেও আমাকে আমারই মতো করে হাতে হাত রেখে এক সঙ্গে জীবনের তঁরী পাঁড়ি দিতে চায়?
তার মনে প্রশ্নটা যেন তখনও দোঁয়াশা হয়েই রয়ে গেলো। তবে সে নিয়মিতই অবাক হয়ে
আমার সাথে পথ চলতে শুরু করলো। সেইখান থেকেই শুরু হলো প্রত্যয় আর নীলার জীবনের পথ চলা।
সেইদিন থেকে তাদের হাসি-আনন্দ ভাগ করে নেয়ার খুনশুটিগুলো যেন দ্বিগুনে পরিনত হলো। আমরাও আমাদের মতো করে সকাল সন্ধ্যায় নিজেদের ভালোবাসাটুকু উপভোগ করতাম। কখনও খোলা আকাশের নিচে কখনোও বা কল-কাকলির মাঝে আবার কখনও বা নীলার ছোট ছোট সব আবদারে।
নীলা প্রকৃতি খুবই পছন্দ করে। আর তার এই জিনিসটা আমার খুবই ভালোলাগে।এই ভাবেই আমাদের দিনগুলো ভালোবাসার মাঝে কাটতে থাকে। রাগ-অভিমানগুলো দুজন দুজনের মাঝে আড়াল করে রেখে আমরা ছিলাম অনেকটাই হাসি-খুশি।
নীলা মিশুক প্রকৃতির হলেও ভালোবাসা দেওয়ার মতো তার জীবনে কেউই স্থায়ী ছিলো না। ছোট বেলায় সে সব থেকে কাছের মানুষটিকে(বাবাকে) হারায়। সব মিলিয়ে তার ভালোবাসাগুলো যেনো এক প্রকার অসহায় হয়ে পড়েছিল। আমাকে পেয়ে সে যেন এক রঙ্গিন আকাশকে খুঁজে পেলো। আর আমিও তার শূন্যস্থানগুলোকে পূরনের কিছু মিথ্যে চেষ্টা করে গিয়েছি প্রতি নিয়ত। মিথ্যে চেষ্টা এই জন্য বললাম যে, সে তার এই জীবনে যা হারিয়েছে তা দেওয়ার সামর্থ বা সার্ধ কোনোটাই আমার কাছে ছিল না। শুধু পারতাম প্রচন্ড ভালোবাসা দিয়ে তাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দুঃখগুলোকে ভুলিয়ে রাখতে। কিন্তু চেষ্টায় যেন আমি প্রতি নিয়তই ব্যর্থ হতে লাগলাম। আমার রাগ আমার কিছু অপ্রত্যাশিত অভিমান তাকে যেন আরো অনেকটাই নিরাশ করে তুললো। আর আমি তাকে ভালো রাখার যে প্রতিজ্ঞা নিয়ে তার সাথে একসাথে চলতে শুরু করেছিলাম সেই প্রতিজ্ঞা যে রাগ-অভিমানে এক নিমিশেই ভঙ্গ করে ফেললাম।
যাই হোক, নীলা বেশ ধর্য আর সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছে সব সময়। তার অপরাজিতা মনোভাবের উপর ভিত্তি করেই আমরা আজও একসঙ্গে সেই রঙ্গিন আকাশটার নিচে।
আজ ২৬ই মার্চ
সাল ২০২০ ইং
জানি না কতদিন আমাদের এই মান-অভিমান গুলোর মাঝে সত্যিকারের ভালোবাসাটা লুকিয়ে হার মেনে নিবে তবে আমরা আমাদের দিক থেকে কখনও মনোবল হারাইনি। আমি এটা সাহসীকরার সহিত বলতে না পারলেও সে তা বলতে পারবে যে, এই প্রদ্বীপটি রক্ষার স্বার্থে সে কত সময় কতটা কষ্টকে মাটি চাপা দিয়ে এসেছে।
অবশেষে আমি সেই ভালোবাসার দিকে দৃষ্টি রেখে আর তার পবিত্র ভালোবাসার সম্মান জানিয়ে বলতে চাই, সত্যিই….. তোমার ভালোবাসা মহান। সে দৃষ্টান্ত তুমি আমাকে প্রতিনিয়ত দিয়ে গিয়েছো যদি তোমার ভালোবাসা আমার সাথে থাকে কোনো একদিন প্রতিদান হিসেবে সব সময় তোমারই কাছে চলে আসতে পারবো সবসময়ের জন্য। আমাকে সেই সুযোগটুকু করে দিও।
                                        ইতি
                      তোমার বেপরোয়া ভালোবাসা
                                      প্রত্যয়
লেখক: শেষটা তুমিই করে দিলে প্রত্যয়?
আমাকে কিছু বলার সুযোগ দিবে না?
প্রত্যয়: হ্যাঁ, অবশ্যই! আরে দাদা শেষটা তো আপনিই করতে হবে। আমি তো আপনার মতো ঠিক তেমন সাহিত্যকে জানি না।
লেখক: প্রত্যয়, আমি কিন্তু তোমার মতো এমন চোখ ধাধানো সুন্দরী রমনীকে ভালোবাসা দিতে পারবো না। আমি তো কেবল বাংলা সাহিত্যকে নিয়েই পরে আছি।
প্রত্যয়: দাদা, আপনারও কিন্তু এই বিষয়টাকে নিয়ে একটু চর্চা করা উচিত!
কি বলেন আপনার???
অসমাপ্ত রচনায়….