অভিশপ্ত আত্মা( ৫ম পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয়।

অভিশপ্ত আত্মা( ৫ম পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয়।

লাশ দুটো প্রায় পঁচে গিয়েছে এমন অবস্থায়।
একটা লাশের শরীর চার টুকরো আর অন্যটি তিন টুকরো করা হয়েছে। হলুদ রঙ মাখানো সেই লাশের গন্ধে মুখ বেঁধেছে তারা সবাই।
অমিত আর তার মা দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে, “এ লাশ তো অন্ধকার গুহার মধ্যে থাকার কথা বাহিরে আসলো কী করে?এটা তো অমঙ্গল। আর এ লাশ তো এখন আগের জায়গায় রাখাও মুশকিল হবে।কেন না সকলে দেখে ফেলেছে সব কিছু।হয়তো মাটি চাপা দিতে হবে নয়তো পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
হঠ্যৎই মৃদু স্বরে অমিত বলল, “তাহলে আমার অমরত্ব!?” আর কিছু বলার আগেই উমা দৌড়ে আসে তাদের কাছে। সমস্ত ঘরের লোক একসাথে জড় হয়েছে এমনটা কেনো হয়েছে জানতে এসেছে।
উমা একটা কাজের লোককে বলতে লাগলো….
দাদু ও দাদু কি হয়েছে গো এখানে?
সবাই মুখে কাপড় বাঁধছে কেনো?
লোকটি বললো, আমি তোমার দাদু হই না। আমাকে ভাই বলবা। তোমার বাবা শুনলে রাগ করবে।
যাই করুক আমি তোমাকে দাদুই ডাকবো। মা বলছে আমাকে নাকি কেউ কিছুই করতে পারবে না যতদিন না আমার স্রষ্টা আমার সহায় থাকে।আর এরা তো পুঁচকে মাত্র। এখন বলো এখানে কি হয়েছে? দুইটা মৃত বাচ্চা কে যেন এখানে রেখে গিয়েছে। আমি জানি! আমি জানি!! এ বাচ্চা দুটো এখানে কে রেখেছে। এদের কে মেরেছে তাও আমি জানি। চিৎকার করে বলতে লাগলো উমা। আঁতকে ওঠলেন অমিত। কি বলছে ও এগুলো? ওকি তবে সবাইকে সবকিছু বলে দিবে?ওর কাছে তো মায়াবী শক্তি আছে। ওর এসব তো জানারই কথা। আর ওর মা না বললেও এসব হওয়ার কথা।কেননা ওর শক্তি ওকে কখনো ছায়া হতে দিবে না যতই ও নিজেকে লুকিয়ে রাখুক। পাশ থেকে ফিসফিস করে অমিতের মা বলল,” অমিত পঞ্চময়ীই কি এ লাশ এখানে এনেছে?উপমা এসেই উমাকে নিয়ে ঘরে ভিতরে চলে যায় সবাই ফিসফিস করছে “উমা আসলে কি জানে?
অমিত তাদের চুপ করানোর জন্য বললো। ইস্ ! কি বিশ্রী গন্ধ এগুলোকে সরাও আগে। মুহূর্তের মধ্যেই সবাই নাকে কাপড় দিয়ে লাশ দুটোকে তুলে কদম গাছের নিচেই চাপা দিয়ে রাখে। সেইদিন রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখনও অমিত জেগে আছে। লাশ দুটো যে তার খুবই দরকার। শাবল আর দা নিয়ে সে চললো কদমগাছের নিচে। চকচক করছে মাটি। দুর্গন্ধে ভেজা বাতাসে কেউ ফিসফিস করছে। আর বলছে “আমাদের জন্মের শুরুতেই মৃত্যু! মৃত্যুতেও নেই সুখ! পাপিষ্ঠ বাপ ছাড়ল না আমাকেও!অমিতের শরীরের পশম গুলো কাটা দিয়ে উঠে। থমকে যায় অমিত। চারপাশে শুধু সেইসব শব্দে মাতিয়ে তুলছে তাকে। তবুও বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে মাটি খুঁড়ে লাশ দুটো উঠিয়ে নেয় সে।
লাশ দুটো তুলতেই সব শব্দ নিঃশব্দ হয়ে যায়। স্বাভাবিক এক রাতের মতো হয়ে আসছে। তখন তার হঠ্যাৎই মনে পড়ে তান্ত্রিকের কথা। সে বলেছিল, যখন তোমার চারপাশে সবকিছু উল্টে যাবে। ভয়ংকর সব শব্দ তোমাকে কাবু করবে তখন তুমি দূর্বল হবে। যদি দূর্বল না হও। পিছন ফিরে না তাকাও তবে তুমি হবে বিজয়ী। তোমার লক্ষ হবে পূরণ। সত্যিই আজ হয়তো অমিতের লক্ষ পূরণ হতে যাচ্ছে। সে লাশ দুটো তুলে নিয়ে যেতে পেরেছে। গুহার ভিতরে লাশ দুটো রেখে যখন বাহির হয়েছে তখন দেখে উমা আর উপমা গুহার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। উপমা ঘুমাও নি এখনো? অসহায়ত্ব কণ্ঠে কথাটি বললো অমিত। উপমার চোখে জল জমছে।
তখন উমা বলছে অমিতকে…
ওই বুড়ো বেটা তুই ওখানে কি করছিস এতো রাতে?
অমিত স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে উমার দিকে। নীল চোখে কেমন রাগের আভাস। মেয়েটা কখনো বুঝবেও না ওকে কি করা হবে। কতোটা নির্দয় তার বাবা। হয়তো বাবা নয় একজন মূর্খ পিতার মুখোশ পড়া জানোয়ার তার বাবা।
ছোট্ট উমার গালে হাত দিয়ে বলে, মা-মণিটা তুমি তোমার মায়ের থেকেও মিষ্টি করে বকা দিতে পারো।
“তুই আমাকে মা-মণি ডাকলি কেন?
উমা কথায় কথায় তুই করে বলছে তাদের।
তাছাড়া সবাইকে সম্মান দেয় শুধু দুজন ছাড়া। অমিত উমাকে কিছু বললো না।
উপমার চুলের বিনুনি মুঠোয় ধরে বললো,
বাহ্! তোর মেয়েকে এসব শেখাচ্ছিস?
আমি জানি তুই সবকিছু জেনে গিয়েছিস তাই বলছি চুপচাপ থাক আমার কোনো কাজে বাঁধা দিলে তোকে আর তোর মেয়েকে এক সাথে……..! বাকিটা আর বললাম না।
উপমার চোখ ভিজে গেছে অমিতের নোংরা মানুষিকতা দেখে। পালিয়ে যেতেও পারছে না ওরা। কড়া নজরদারি চলছে ওদের উপর। সেই রাতেই আবার আসছে অমিত উপমার রুমে। রাগান্বিত চোখে এলকোহল এর নেশায় তাদের দুজনকে দেখছে সে। রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে গেলো। উঠনের মাঝ বরাবর কয়েকশ মাংসের টুকো। পাশেই দুটো কাটা মাথা। বিশ্রী ভাবে জখম করা সে চেহারা। ভীষণ রাগ জমানো কষ্টের প্রতিহিংসার খুন মনে হচ্ছে। এইদিকে উমা আর উপমার খোঁজ নেই সমস্ত ঘরে। অমিতের মা চিৎকার করে বলছে, আমার পঞ্চময়ী কোথায়?
৬ষ্ঠ পর্বের অপেক্ষায়
অসমাপ্ত

অভিশপ্ত আত্মা (১ম পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন

অভিশপ্ত আত্মা (২য় পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন

অভিশপ্ত আত্মা (৩য় পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন 

অভিশপ্ত আত্মা (৪র্থ পর্ব) – শুভ্র ভৌমিক জয় – পড়ুন 

Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com