স্বপ্ন! – ইফতেখার হুসাইন সাকিব।

স্বপ্ন! চারটি অক্ষরের সংমিশ্রণের একটি শব্দ। স্বপ্ন খুবই ছোট একটি শব্দ কিন্তু এর বিশালতা অনেক। আমরা প্রতিনিয়তই স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন দেখতে আমাদের নেই কোন মানা। ছোট-বড়,ধনী-গরীব এবং সকল ধর্মের সকল জাতের মানুষই রোজ স্বপ্ন দেখে। কোন ধর্মেই বা কোন সমাজেই এর উপর কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে হ্যাঁ! আমাদের স্বপ্নগুলো হতে হবে সৎ নিয়তের এবং সামাজিকতার মধ্যে। যাতে করে দশজন ব্যক্তি এর বাহবা দিতে পারে।
প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক বলেছিলেন “স্বপ্নইতো মানুষের জীবন। আমরা জীবনের প্রথম দিন থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করি”। আসলেই তাই। যখনই আমরা স্বপ্ন’র অর্থ এবং উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারি তখনই আমরা স্বপ্ন দেখা শুরু করি।
..
হাজারো ব্যস্ততার মধ্যেও আমরা স্বপ্ন দেখি। যখন ছোট ছিলাম তখন স্বপ্ন দেখতাম আমিও একদিন বড় হব। যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন স্বপ্ন দেখতাম একদিন আমি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ব, যখন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তাম তখন স্বপ্ন দেখতাম আমিও একদিন উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ব। আর এখন আমি স্বপ্ন দেখি আমিও একদিন গ্র‍্যাজুয়েটধারী হব। এই যে ছোট থেকে আমাদের স্বপ্ন দেখা শুরু এবং এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখান থেকেই তো আমরা আমাদেরকে গুছিয়ে নিচ্ছি ধীরে ধীরে এবং ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করছি। এর ধারাবাহিকতাটা আদি-অন্ত থেকে শুরু হয়ে এসেছে। আমাদের পূর্বপুরুষেরাও স্বপ্ন দেখেছিলেন বর্তমানে আমরাও স্বপ্ন দেখছি।
তবে এই স্বপ্নের ভিতরে একটা স্বপ্ন সবাই দেখে যেটা হলো আমাদের “ভবিষ্যত বা ক্যারিয়ার “। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি।
..
আবার কেউ কেউ তার প্রিয়জনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে আবার কেউ কেউ তার আপনজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। এটাইতো জীবন। জীবন মানে থেমে থাকা নয়। যতদিন পর্যন্ত না তুমি স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে পারবে ততদিন পর্যন্ত তুমি স্বপ্ন দেখে যাও। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না। একে বাস্তবে রুপ দিতে হবে আর তার জন্য প্রথম ধাপটা হবে তোমার লক্ষ্য নির্ধারন করা এবং তা স্থির করা। তারপর তোমাকে সেই স্বপ্নের পিছনে দৌড়াতে হবে স্বপ্নকে তাড়া করতে হবে। স্বপ্নকে তাড়া করতে হলে তোমার জীবনে পিছুটান আসবেই। সেই পিছুটানকে যদি তুমি জয় করে আসতে পারও তাহলে তুমি তোমার স্বপ্নকে সত্যি করতে পারবে। তুমিও একদিন সফল ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
স্বপ্ন পূরনে বাঁধা দেওয়ার মতো অনেককে পাবে কিন্তু স্বপ্ন দেখানোর মতো এই সমাজে কাউকে পাবে না। যে তোমাকে সাহস যোগাবে। স্বপ্ন দেখার দায়িত্ব আমাদের। তা আমাকেই দেখতে হবে এবং তা আমাদেরকেই পূরন করতে হবে।
স্বপ্ন দেখাটাকে দায়িত্ব এজন্যই বলছি কারন স্বপ্ন না দেখলে তোমার ভবিষ্যত জিরো। তুমি যদি স্বপ্ন না ই দেখো তাহলে তুমি কি করবে? কি খাবে? কি পড়বে? কোথায় থাকবে?
এজন্যই বলেছি যে স্বপ্ন দেখাটাও আমাদের দায়িত্ব। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি।
.
আমরা স্বপ্ন দেখি নতুন পোষাক ক্রয় করার এবং তা পরিধান করার। আমরা স্বপ্ন দেখি পরিবারের মুখে হাসি ফুটাবার। আমরা স্বপ্ন দেখি আগামীকাল বেঁচে থাকার। আমরা স্বপ্ন দেখি আমাদের জীবন গড়ার। আমরা স্বপ্ন দেখি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে রাসূলের আদর্শে জীবন গড়ার। আমরা স্বপ্ন দেখি পবিত্র হজ্জ পালন করার। তবুও আমরা স্বপ্ন দেখি।
..
আজও অনেকে স্বপ্ন দেখে আমি তিনবেলা ভাত খাবো। অন্যদিকে কেউ স্বপ্ন দেখে আমি তিনতলা বাড়ি তৈরি করব। দিনশেষে আমরা সবাই সেই একই বৃত্তের ভেতরে। আমরা সবাই স্বপ্নবাজ। সবাই কিছু না কিছু পাওয়ার জন্যই স্বপ্ন দেখে। কেউ না পেয়ে পাওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখে আর কেউ পেয়েও আরও পাওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখে। তবুও কেউ থেমে নেই। থেমে নেই কারও দৈনন্দিন পথচলা।
একজন দিনমজুরও স্বপ্ন দেখে কাল যদি সে কাজ করে মজুরি পায় তাহলে তার পাতিলে ভাত থাকবে। আর তা না হলে তাকে পরিবারসহ না খেয়ে থাকতে হবে।
একজন শিল্পপতিও স্বপ্ন দেখে সে কিভাবে আরও একটি কারখান তৈরি করতে পারবে। এসব স্বপ্নইতো প্রতিনিয়ত আদান-প্রদান হচ্ছে আমাদের সমাজে।
..
তবুও কি আমরা স্বপ্ন না দেখে আছি? এর উত্তর হবে না। স্বপ্নের উপরেইতো আমরা বেঁচে আছি। স্বপ্নইতো আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যায়। স্বপ্নইতো আমাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমরাই যতই স্বপ্নের দিকে এগুচ্ছি ততই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। তারপরেও কিন্তু আমাদের স্বপ্ন দেখা থেমে নেই।