বিয়ে – শিল্পী জুলী।

পড়ালেখা শেষ হতে না হতেই মেয়েদের মনে বিয়ের স্বপ্নটি জেকে ধরে। বলতে গেলে তাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য বিয়ে, সংসার, স্বামী, সন্তান। এর সাথে জড়িত নেগেটিভ দিকগুলো তখন কল্পনাতেও আসে না। যা কিছু মাথায় আনাগোণা করে সবই রোমান্টিকতায় ভরপুর। ফলে আগ্রহ তীব্র থেকে তীব্রতায় ধাবিত হয় যখন কন্ট্রোল আর হাতে থাকতে চায় না– আগেতো বিয়ে হোক তারপর যা হয় হোক ।
আমাদের এক পরিচিত অতি আধুনিক মেয়ে প্রেমের টানে ঘর পালিয়ে বিয়ে করলো। প্রতিদিনই তার ডাটপাট দেখতাম। বিয়ের খবর শুনতেই পরের দিন ছুটে গেলাম তাকে দেখতে। দেখি মাথায় ঘোমটা দিয়ে বাঁশের বেড়ার রান্নাঘরে সমানে রুটি বেলছে। আগের রাতেই মাত্র বিয়ে হয়েছে। আমাদের দেখে রুটি বেলতে বেলতেই মুচকি মুচকি হাসলো সে।
যেই মেয়ে প্যান্ট-টপস পরে বাতাসে চুল উড়িয়ে হাওয়ায় ভাসতো বিয়ে হতেই মাটির রান্নাঘরে পিড়িতে বসে রুটি বেলাবেলি। বয়স কম, দ্রুত প্রেমের ঘোরও কেটে যায় তার। স্বামী ভালো থাকলেও বেশী দিন টেকেনি সে বিয়ে। দিন রাত আটা-রুটি, চাল-ডালের জীবনের জন্যে তখনও তার প্রস্তুতি ছিল না।
বিয়ে যত না রোমান্টিক তার চেয়ে বেশী বাস্তবতার ধাক্কা সামলানো। যার জন্যে পরিপক্কতার দরকার হয়। কিন্তু যখন মানুষের রিপ্রোডাকটিভ সিস্টেম চালু থাকে তখন বিবেকের চেয়ে আবেগ তাড়া করে বেশী। যেই প্রেমে মানুষ ঘর-পরিবার ছেড়ে আরেক জনের হাত ধরে অন্যের পরিবারে প্রবেশ করে অনেক সময়ই সেই হাতটি নির্ভরতার হয় না। তদুপরি বিয়ের কিছুদিন যেতেই ভালোবাসার সেই আবেগ প্রশমিত হয়ে বাস্তবতাকে দেখায়। ততদিনে যা ক্ষতি হবার হয়ে যায়।
নিজের সুখে অন্যের উপর নির্ভরশীল হলে সুখ আর সুখ থাকে না, হয়ে যায় দুঃখ।নিজের উপর নির্ভর করতে পারাই মানুষের সুখের প্রথম শর্ত। অন্যের উপর নির্ভর করলে বেশী দূর চলা যায় না।
বিয়েও সুখের হয় তখন যখন নিজের পায়ের নীচের মাটি মজবুত থাকে।
পরনির্ভরতায় সুখ নেই। বিয়ে আকর্ষণীয় থাকে স্বনির্ভরতায়। নইলে আজ না হলেও দু’দিন পর সেই ঝাল পোহাতে হয়।