বাল্যপতিতাবৃত্তি ! – ইফতেখার হুসাইন সাকিব

 

আমাদের দেশে বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ। যে দেশে কি না বাল্যবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ সে দেশেই ১৮ বছরের নিচে বহু নারীকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানে বড় করে লেখা আছে- গণিকাবৃত্তি নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। (অনুচ্ছেদ ১৮ (২)।
কিন্তু তারপরও সরকার অনুমোদিত বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৮টি গনিকা বা পতিতালয় আছে। এগুলোর টাঙ্গাইল শহরের বেবীস্ট্যান্ড কান্দাপাড়া যৌন পল্লী, রাজবাড়ি জেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লী, খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন বানীশান্তা পতিতা পল্লী, যশোরের বাবু বাজার পতিতা পল্লী, মাড়োয়ারী মন্দির পতিতাপল্লী, ঝালাইপট্রি পতিতাপল্লী, ফরিদপুর শহরের রথখোলা যৌনপল্লী, ময়মনসিংহ গাঙ্গিনাপাড় যৌনপল্লী, জামালপুরের রাণীগঞ্জ পতিতাপল্লী উল্লেখযোগ্য। এসব যৌনপল্লীতে সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী পতিতা রয়েছে।

মজার বিষয় হচ্ছে, এই সব লাইসেন্সধারী পতিতাদের একটি বড় অংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে। এরা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। যে ম্যাজিস্ট্রেট বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্য ছুটে যান আজ তিনিই বাল্যপতিতাদের লাইসেন্স দিয়ে থাকেন।
The Global March Against Child Labour – এর হিসেব মতে বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে পতিতার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৫ সালে মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট অনুসারে অবশ্য ১৮ এর নিচে পতিতার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজারের বেশি। এসব শিশু/কিশোরী পতিতারা শরীরবৃদ্ধির জন্য গরু মোটতাজাকরণ ট্যাবলেট খায় এবং দৈনিক ১৫-২০ জন পুরুষের সাথে দৈহিক মিলন করে।

গত ২০১৬ সালের ৩১শে অক্টোবর ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী নিয়ে একটি রিপোর্ট করে। রিপোর্টে সাংবাদিক জানায়, এ পতিতাপল্লীতে একটি নারী প্রবেশ করে ১২-১৪ বছর বয়সে। (http://ind.pn/2dUUOgO) 
গত বছর বিদেশী কয়েকটি মিডিয়ায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী পতিতাদের ছবিসহ নাম প্রকাশ পায়। সেখানে ১৪ বছর বয়সের আসমা, ১৭ বছর বয়সের কাজল, ১৫ বছর বয়স্ক পাখি, ১৭ বছর বয়সের সুমাইয়াকে খদ্দেরকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় দেখা যায়। (http://bit.ly/2vgGsj3)।

একটু চিন্তা করে দেখুন, কেউ ফোন করে বলবো ১৮ বছর বয়সের নিচে কোন নারীর বিয়ে হচ্ছে, এটা শুনে ইউএনও, ম্যাজিস্ট্রেট দৌড় দিয়ে যায় বিয়ে ভাঙ্গতে। টাঙ্গাইলের ইউএনও ইসরাত সাদমীন দৌড়ে যান মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিতে। এরপর ঐ মেয়ের সাথে পোজ দিয়ে ছবিতুলে সেই ছবি দেশজুড়ে ছড়িয়ে কৃতিত্ব জাহির করেন। কিন্তু বিদেশী মিডিয়ায় যখন সেই টাঙ্গাইল জেলার বাল্যপতিতাদের পতিতাদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে (http://bit.ly/2vgGsj3) তখন কেন ইসরাত সাদমীন দৌড়ে যান না?? কেন তাদের পতিতালয় থেকে উদ্ধার করেন না?? বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রায় আইন প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু শিশু বা বাল্যপতিতাবৃত্তির বিরুদ্ধে আইন আছে সেগুলো কেন প্র‍য়োগ করা হয় না?? বাংলাদেশে দন্ডবিধির ৩৭২, ৩৭৩, ৩৬৪.ক ও ৩৬৬.ক ধারায় বেশ্যাবৃত্তির জন্য অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্রয় ও বিক্রয়ের শাস্তির বিধান বর্ণিত রয়েছে। এসব আইন অনুসারে দণ্ডিত ব্যক্তির ১০-১৪ বছরের জেল হতে পারে। কিন্তু এই আইনগুলো কেন ইসরাত সাদমীনরা প্রয়োগ করেন না ???

আসলে আমরা কি চাই?? আমাদের চাহিদা কি?আমরা কি বলতে চাই?? আমরা বাল্যবিবাহ রুখতে এগিয়ে যেতে পারি,বাল্যবিবাহ রুখে দিতে পারি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে আমরা কেউই এই বাল্যপতিতাবৃত্তি রুখে দেওয়ার জন্য আঙ্গুল তুলি না? আওয়াজ করি না? অথচ এই পতিতাবৃত্তি হাজারো নাবালিকার জীবনকে নরকে পরিনত করে দিচ্ছে।
..
যতদিন পর্যন্ত না আমরা সচেতন হব ততদিন পর্যন্ত কেউই এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে পারবে না? যতই না আমরা প্রতিবাদ করি, কোনো লাভ নেই। দিনশেষে আমরা জিরো। আর ওইদিকে নষ্ট হচ্ছে হাজারো মেয়ের জীবন।
আসুন আমরা একতাবদ্ধ হই? নরক নামক যন্ত্রনা থেকে এদের উদ্ধার করতে সাহায্য করি?
আমরা রুখে দাঁড়ালে রুখে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

(বি.দ্র. লিংক/সূত্রগুলো বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত)

print

কমেন্ট করুন