বিয়ে মানে যৌনক্ষুধা মেটানো নয়। -ইফতেখার হুসাইন সাকিব

42777349_320714955368112_4764958682368704512_n

বিয়ে!!!

প্রাচীনকাল বা পৃথিবীলগ্ন থেকেই এই প্রথা চালু হয়ে আসছে। বংশবিস্তার এর জন্য বিয়ে অত্যাবশ্যক। একজন পুরুষ আর একজন নারীর ধর্ম অনুসারে, আইন অনুযায়ী সামাজিকভাবে মিলনের মাধ্যমেই বিয়ের বৈধতা পায়। বিয়ের মাধ্যমে নারীপুরুষ উভয়ই তাদের বাকি জীবন একসাথে স্বামী-স্ত্রী হয়ে অতিবাহিত করে। বিয়ের মাধ্যমেই তারা তাদের বংশের বিস্তার করে।

একজন পুরুষের যতটুকু সর্বাধিকার রয়েছে ঠিক তেমনি একজন নারীর ততটুকু অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল বিয়ে কি শুধু বংশবিস্তার বা যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য??? আমি বললে বলব না?? সত্যি করে বলতে গেলে অনেকেরই এই প্রশ্নের উত্তর অজানা। কারও কারও মতে হয়ত তাই হবে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এরকমই কিছু লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে দেহব্যবসা অহরহ। নিষিদ্ধ বলেন আর লাইসেন্স বা অনুমোদিত বলেন আমাদের দেশ সহ পৃথিবীর প্রত্যেক দেশেই যৌনপল্লী রয়েছে। বিয়ে যদি যৌনক্ষুধা মেটানোর জন্য না হয় তাহলে দেশে এত এত যৌনপল্লী কেন??দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে কেন?? শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আপনি তাদের দেখা পাবেন। টাকার বিনিময়ে তারা তাদের দেহ আপনার কাছে ক্ষনিকের জন্য বিলিয়ে দিবে। কেন??এসব কেন ভাই?? বিয়ের পরে আপনার সন্তান প্রয়োজন??সমস্যা নাই। আপনার স্ত্রী আছে। যদি আপনার স্ত্রী সন্তান জন্মদানে অক্ষম বা কখনও সন্তান জন্ম দিতে পারবে না তখন আপনি কি তাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবেন??? সন্তান জন্মদানের বাহিরেও আপনার স্ত্রীর কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে। যেগুলো পালনে আপনি তাকে সহযোগীতা করবেন। কিন্তু আমরা পুরুষরা বা স্বামীরা কি করছি? তাদের এসব অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করছি। তাদেরকে এসব ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলি।

যদি আপনি তাকে আপনার যৌনক্ষমতা নিবারনের জন্য বিয়ে করে থাকেন তাহলে আপনার বিয়ের কোন প্রয়োজনই ছিল না। আপনার জন্য নিষিদ্ধ যৌনপল্লী রয়েছে। আপনি সেখানে গিয়ে আপনার ক্ষুধা মিটিয়ে আসুন। এটা হতে পারে স্ত্রী হতে পারে স্বামী। স্ত্রী’দের ক্ষেত্রে বলি এবার, বিয়ের পর যদি জানেন বা দেখেন আপনার স্বামী যৌনমিলন করতে অক্ষম বা তার যৌনাঙ্গ তুলনামূলক ছোট বা তার যৌনশক্তি কম তাহলে কি আপনি তাকে ডিভোর্স  দিয়ে দিবেন। যদি তাইই করেন তাহলে আপনার জন্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে দেহব্যবসা। আপনি টাকাও পাবেন সাথে যৌনমিলনও। বিয়ের মাধ্যমে শুধু যৌনমিলন নয় দু’টি মনের মিলনও হয়।

আমরা একে অপরের অধিকার পালনে সাহায্য করি। একজনের সুখ-দুঃখে অন্যজন সবসময় ছায়ার মত পাশে থাকি। বিয়ে যে শুধু যৌনচাহিদা মেটাবে তা কিন্তু নয়। এর বাহিরেও মৌলিক চাহিদাগুলোও মেটাতে হয়। সুখে সংসার করতে হলে সবাইকে সবাই অগ্রাধিকার দিতে হবে। সন্তান ছাড়া কি সুখে থাকা যায় না? সংসার করা যায় না?? এ প্রশ্নের উত্তর আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম। অতঃপর বলা যায় বিয়ে শুধুমাত্র যৌনক্ষুধা বা যৌনচাহিদা মেটানোর জন্য নয়।

print

কমেন্ট করুন