আমার ক্যাম্পাস। – চৌধুরী সাইমন

FB_IMG_1538991338783
একটা সময় আমিও এই ক্যাম্পাসের প্রথম পর্বের ছাত্র ছিলাম, আমার ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম দিন শুর হয় ছাত্রাবাস দিয়ে।
অবশ্য ছাত্রাবাসে থাকাটা আমার জন্য তেমন বড় কিছু নয়,কারণ আমি ক্লাস ৬ থেকেই ছাত্রবাসে থেকে অবস্তু। যাইহোক প্রথম দিন প্রথম রাত নতুন জায়গা, একটু খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক। আমার রুম নাম্বার ছিল ১২৮। এই নতুন পরিবেশে আমার একমাত্র পরিচিত ছিল আমার বন্ধু আদনান। কারণ আমারা দু’জন-ই ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে এক সাথে লেখাপড়া করতামএবং একি ছাত্রাবাসে থাকতাম, আদনানের ‘মা’ আমায় বিশ্বাস করতো আর আমার ‘মা’ আদনান কে।
যাক আদনান আর ছাত্রাবাসে উঠেনি ওর পরিচিত এক বড় ভাই এর সাথে মেসে উঠেছে সে আর ছাত্রাবাস জীবনে থাকতে চায়না এইবার মুক্ত পাখি হতে চায়।
কিন্তু আমি ছাত্রাবাসে উঠে যাই । আমার ছোট কাকা আমাকে নিয়ে গিয়েছিল, এখনো আমার চোখে ভাসে আমার কাকা চলে আসার সময় নিরবে দুই ফোটা চোখের জল ফেলেছিল। তারপর কাকা চলে আসে কিন্তু আসার আগে আমি আমার এলাকার কিছু বন্ধু পাই সিয়াম, ইমন এবং শরিফ।
নিজের মধ্যে অনেক টা সাহস চলে আসে, আস্তে আস্তে সবার গার্ডিয়ান বাড়িতে চলে যাচ্ছে।
আমার আর ভালো লাগছে না কাকার সেই নিরবে ফেলা দুই ফোটা জল আমার স্কুল জীবন এর বন্ধুমহল সবার স্মৃতি আমায় শান্তিতে থাকতে দিচ্ছেনা।
হঠাত সিয়াম উচ্ছ কন্ঠে বলে উঠে বন্ধু মন খারাপ না করে উপভোগ কর।
সত্যি আমাদের ক্যাম্পাস টা না উপভোগ করার মতো, আমার পাহাড়ি পরিবেশ ছোঁট থাকতে অনেক ভালো লাগতো, আমাদের ক্যাম্পাস টা ছিল ৩০ একর জায়গার উপর, ক্যাম্পাসের চারিপাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়, সবুজ-শ্যামল অসাধারণ লাগতো।
যাইহোক ছাত্রবাসে প্রথম রাতে মনে মনে চিন্তা করছি একটা সাদা শার্ট দেখে কবে যে এই ৪ বছর শেষ হবে, কিন্তু আজ আল্লাহ্ যদি চায় আর মাত্র অল্প কয়েকটা দিন, হায়রে সময়, এতো তাড়াতাড়ি ছুটে চলে, কতো অপরিচিত মানুষ কে পরিচিত করে। কতো নাম না জানা মানুষ এর নাম মনে শক্ত হয়ে আটকে রাখতে শিখায়।
রাতে আমার আর সিয়াম এর ফেইসবুক নিয়ে তুমুল ঝগড়া, আমার লাইক বেশি আমার ফ্রেন্ড বেশি,এই সেই।
আমি ক্লাস শুরু হবার দুইদিন আগে চলে গিয়েছিলাম।
সকালে সেই আলু ভাজি,ডাল-ভাত আমার জন্য তা আর নতুন কিছু নয়।
কিন্ত কষ্টের ব্যাপার আগের ছাত্রাবাসের তুলনাইয় এখানে খাবারের তেমন টেষ্ট ছিল না।
আর পাঙাশ এর পরিমাণ বেশী ছিল যেইটা বিরক্তিকর।
যাইহোক আমার ছাত্রবাসের ২য় দিন আমি সকালে আমার রুমে চলে আসি, সকালে টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে এমনি তে প্রথমে আমার রুমে আসলো সিজান, খাদেম ওরা কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট এবং আমার এলাকার ও ।
তারপর আসলো বদরুল সিভিল ডিপার্টমেন্ট।
তারপর রিপন কম্পিউটার ডিপার্টমেন্ট।
দুইজন সিভিল দুইজন কম্পিউটার।
সবাই সেটিং বদরুল চিকণ চাকণ, বাহিরে চলে গেলে, রাতে ফিরল।
আগেই বলে রাখা ভালো আমাদের ছাত্রবাসে+ক্যাম্পাসে শক্ত নেটওয়ার্ক নাই,তাই আমাদের একটা বাশের কেল্লার হল রুম ছিল সেইখানে এক সাথে ৩০০ জন পরীক্ষা দিতাম। সেইখানে নেটওয়ার্ক কিছুটা পাওয়া যেত, ফেইসবুকে ঢুকে পাড়তাম, স তো আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার সেই দিক দিয়ে যাচ্ছিল আমাদের একেক জন এর পা মাথার উপরে ছিল।
অবশ্য স্যার হোস্টেল লাইফের ২য় দিন ব্যাপার টা জানতে চাইছিল কে কে ছিল।
আমি ছাড়া সবাই হাত উঠাইছিল।
তাই আমি আজ ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি স্যার।
একজন প্রিন্সিপাল স্যার থাকবে অন্যরকম মুডে, তার ছাত্রদের খাওয়াদাওয়া, নিরাপত্তা উনার জীবন গল্প নিয়ে শুরু করা কি কোন মানে হয়।
হুম আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার এমন নরম মনের মানুষ উনার ভালোবাসার সত্যি অতুলনীয়।
বেচে থাকোন স্যার আমাদের মাঝে হাজারো বছর।
তার পরের দিন ক্লাস শুরু আমি পেয়ে যাই এক যাক বন্ধু, এই বন্ধুমহল নিয়ে ক্লাস শেষে পাহাড় এর আনাচে কানাচে ছোটাছুটি করতাম বুজেনি তো ছোঁট ছিলাম তারপর একটা অচেনা যায়গা তাহার প্রতি জানার একটা কৌতূহল কাজ করছে।
তারপর হোস্টেল ক্লাস সব মিলিয়ে বন্ধুমহল বড় হতে শুরু হল।
এখন মনের মতো প্রয়োজন ছিল একটা বড় ভাই যাহার মাধ্যমে আমি এগিয়ে জেতে পাড়বো।
আল্লাহর রহমতে তা আর দেড়ি হয়নি একজন বড় ভাই পেয়ে গেলাম যাহার ভালোবাসা আপন ভাইকে ও হার মানাবে।
আস্তে আস্তে এভাবেই আমার জীবন চলতে শুরু । এইভাবেই ১ম পর্ব থেকে শুরু করে আজ ৭ম পর্বে। আমার বন্ধুর সংখ্যা এখন অনেক অনেক, অনেক গুলি বছর এক সাথে ছিলাম সিভিল ডিপার্টমেন্ট নয় সিভিল একটা প্রোডাক্ট।
ভালোবাসি সিভিল ১০ব্যাচের প্রতিটা হারামি কে।
বিপদ আপদ বলতেই তোরা ছিলি।
একজন রাগ করলে তিন জন রাগ কমাতাম।
রাগের মিনিট থাকতো ২ মিনিট আর খালার দোকানের চা খাওয়ালে সব শেষ।
একটা সময় ছিলাম মোস্ট জুনিয়র আর আজ মোস্ট সিনিয়র।
মজার ব্যাপার কি যখন জুনিয়র ছিলাম তখন চিন্তা করতাম কবে সিনিয়র হবো আর আজ মোস্ট সিনিয়র কিন্তু সিনয়রের চাইতে জুনিয়র থাকার মজার বেশী।
কিভাবে তাই না হুম আপনাদের একটা গঠনা বলি আমি ছিলাম অনেক চঞ্চল পাখি সবাই কে আপন করতে জাস্ট ২০ মিনিট সময় লাগত, সবটা ছাত্রাবাস জুড়ে ৩০০/৪০০ জন এর বেশী থাকতাম তার মধ্যে বড় ভাই ১৫০ এর বেশী , কিন্তু আমি সবার মন জয় করে নিয়েনিতাম।
কখনো গল্পে কখনো কাজে।
কখনো মজার মজার কথা বলে।
তো আমার জন্য কোন বড় ভাই ক্যান্টিনে জেতে পারতো না কারণ সবাই ২ লিটার এক লিটার শুধু শিলি দিতাম
গ্রামের ভাষায় একটা প্রবাদবাক্য আছে চুরের ১০ দিন মালিকের ১ দিন, তাই আমি আমার বড় ভাই এর রুমে একদিন গিয়ে দেখি সবাই এক সাথে, সবাই আমায় বলল আজ নাকি আমায় খাওয়াতে হবে, আমি ও কোন অংশে কম নয় রাজী হয়ে গেলাম বললাম চলেন খাওয়াই।
সবাই নাস্তা করতে বসলো কিন্তু কেউ খাচ্ছেনা সবাই অবাক বলার সাথে সাথে নাস্তা,তারপর আমি বল্লাম খাওয়াদাওয়ার সময় চিন্তা করতে নেই ভাই।খাওয়াদাওয়া শেষ আমি বিল দিয়ে আমার বড় ভাই মীর সজিব ভাইয়ের ওয়্যালেট উনার হাতে ধরিয়ে দেই।
কারণ উনি সবার আগে আমায় খাওয়ানোর জন্য ধরেছিল তারপর সবাই।
উনি টের-ই পায়নি কিভাবে আমি ওনার ওয়্যালেট নিয়ে বিল দিয়েছি।
আস্তে আস্তে ৩য় পর্বের বড় ভাই লেখাপড়া শেষে ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিয়ে চলা যায়। ক্যাম্পাস বড়ভাই শূণ্যতা রোগে ভোগছে। তারপর আমাদের জুনিয়র তিন ব্যাচের শুধু ভাই ভাই ডাক শুনে আমাদের পথ চলা। প্রতিটা সকাল শুরু হতো তোদের মোখ দেখে। তোদের অনেক বকা দিয়েছি, রাগ দেখিয়েছি। বিশ্বাস কর সব কিছু তোদের ভালোর জন্য। আর সব-সময় তোরা মনে রাখবি ছোঁটরা অন্যায় করে না ছোঁট রা ভুল করে। আর কিছুদিন পর হয়তো বিদায়বেলার শুর উঠবে। হয়তো কে কি হারাবে তা জানিনা কিন্তু আমরা হারাবো ৪ব্যাচ জুনিয়র আপন ভাই। ভালো থাকিস তোরা তোদের ভালোবাসা আমরা কোন দিন ভুলতে পারবনা। দোয়া করি বড় হ মানুষ এর মতো মানুষ হয়। তোদের ভালোবাসার কাছে শাহজাহান এর তাজমহল ও অনেক ছোঁট। তোদের প্রতিটা ভালো কাজে আমাদের দোয়া এবং ভালোবাসা সব কিছু আছে।

কমেন্ট করুন