ভালবাসা – মীর হৃদয়।

received_357045618385225

সৃষ্টির প্রথম লগ্ন থেকেই ভালবাসার সৃষ্টি। আদম হাওয়া থেকে শুরু আর শেষের কথা না বলাই শ্রেয়, কারন ভালবাসায় অন্তিম বলে কোনো শব্দ নেই। আজকে ভালবাসা নিয়ে কিছু লিখতে চলেছি.. যা সম্পূর্নই কাল্পনিক,
গল্পের সাথে কেউ বাস্তবিক কোনো চরিত্রের মিল খুজার চেষ্টা না করলেই খুশি হবো। যাই হউক মূল গল্পে আশি…

ছেলেটা অলিন্দ ( কাল্পনিক নাম), আর মেয়েটা নীলা(কাল্পনিক নাম)। দুজনেই ভাল গান করে… যদিও নীলার সাথে অলিন্দের তুলনা করা ঠিক নাহ। কারন নীলা অলিন্দের চেয়ে হাজার গুন ভাল গান করে..
তাদের প্রথম দেখা হয় চট্টগ্রামের একটি কলেজে, যদিও ছেলেটা মেয়েটার চাইতে দুই ক্লাস বড় ছিল কিন্তু বয়সে তারা প্রায় সেইম… আর সব চাইতে মজার বেপার হলো হলো তাদের দুজনেরই বার্থ মাস, ও বছর একই।
কলেজে ছোটখাট একটা কালচারাল প্রোগ্রাম ছিল, যেটাতে গান গাওয়ার প্রার্থি ছিল দুজনেই। প্রথম দেখাতেই অলিন্দের অনেক ভাললাগে নীলাকে,
আর নীলার আচরণ ও খুব সারা দেয় অলিন্দের মনে…
অলিন্দ মেয়েটার সাথে একটু ফ্রি হতে চায়, আর সেটা হয়েও যায় খুব সহজেই.. প্রেক্টিসের তৃতীয় দিনবঘটে সব চেয়ে মজার ঘটনাটা, যথারীতি অলিন্দ প্রেক্টিসে আসে, আর এসেই নীলার খোজে, এদিকে নীলা প্রেক্টিস রুমে.. অলিন্দ রুমে ধুকলো। পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নীলার দিকে, যেন দিন দুনিয়ার কোনো খবরই নেই।
নীলা হয়তো বেপারটা খেয়াল করেছে, চোখ রাঙিয়ে অলিন্দের দিকে আসে নীলা। আর এসেই যেটা বলে সেটা শুনার জন্য সে একদমই প্রস্তুত ছিল নাহ। নীলা অলিন্দকে তুমি করে বলে ফেলে, অলিন্দ তখন খুশিতে আত্তহারা। ঠিক তখনই দ্বিতীয় ঝটকাটা দিল নীলা, অলিন্দের সাথে ডুয়েট গান করার ইচ্ছা পোষণ করে..
অলিন্দের তখন মনে হচ্ছিল এটা তার জীবনের সব চাইতে সুন্দর মুহুর্ত…

অলিন্দ নীলাকে জিজ্ঞেস করলো কি গান করতে চাও?
নীলা জবাব দিল একটা গান আছে যে,
“গাইবোনা আর কোনো গান তোমায় ছাড়া”
অলিন্দের গিটারে তোলা ছিল না গানটা, তারপরও রিদম মিলিয়ে ভুলভাল কর্ডস প্লে করে প্রেক্টিস চালিয়ে যায়, শুরুতে নীলার সুর টা ধরতে একটু সমস্যা হয়, কিন্তু পরে অলিন্দ অনেক চেষ্টা করে ঠিক করে দেয় নীলার সুর…

যেহেতু অলিন্দের গানটার কর্ডস জানা ছিলো নাহ সেহেতু সে অস্থির ছিল, যে করেই হউক গানটা তুলতেই হবে, সে বাসায় আসার পর পরই লেগে পরে এই কাজে, নাওয়া খাওয়া ভুলে ৪-৫ ঘন্টার প্রচেষ্টায় রেডি করে গান… এইবার অপেক্ষায় আছে পরের দিনের জন্য…

পরের দিন কলেজে গিয়ে এক বিশাল ঘটনার সম্মুক্ষিন হয় অলিন্দ..
যেটা ছিল তার কাচে ট্রাজেডির মতো।
নীলার কোন এক কাজিন ভাই অলিন্দ কে ডাকে, অলিন্দের ও মোটামুটি ভালই পরিচয় ওর সাথে, সে অলিন্দকে ডেকে বলে নীলাকে ভালকরে চিনে কিনা। অলিন্দ বলে নাহ, তখন অলিন্দকে সে জিজ্ঞেস করে নীলা যে হিন্দু তুই কি জানিস? অলিন্দের মাথায় তখন আকাশ ভেংগে পড়ে.. তার দুনিয়াটা তখন ঘুরছিলো.. তখন সেখানে আর কি কি বলা হয়েছে তাকে বিশেষ কিছুই মনে নেই তার, কারন অলিন্দের মাথা তখন কাজ করছিলো নাহ।। ছেলেটার সাথে কথা শেষ করে অলিন্দ একটা প্যাকেট সিগরেট কিনে.. আর ওই দিনের প্র‍্যাক্টিস ট্যাক্টিস বাদ দিয়ে সোজা বাসায় চলে আসে.. এক প্যাকেট সিগরেট যে কখন শেষ হয় টেরই পায়নি অলিন্দ, অবস্য এর আগে কখনো এতো সিগরেট খায়নি সে, দিনে সর্বোচ্চ ২ টা-কি ৩ টা।।
তারপর অনেকগুলো বছর কেটে গেলো, অলিন্দের আজো আফসোস হয়, তাদের একসাথে ডুয়েট গান করা হয়নি, হয়নি তার মনের কথাটাও খুলে বলা।
ভালবাসা তো কোন ধর্ম বর্ণ মানে নাহ,
তবে কেন অলিন্দের এভাবে হার মেনে যাওয়া? একি সত্যিই হার মেনে যাওয়া? নাকি প্রহর গুনছে অলিন্দ সঠিক সময়ের, অন্তত মনের কথাটা খুলে বলার জন্য…

print

কমেন্ট করুন