রিভার ভিউ রেস্তোরা রিভিউ- মীর সজিব।

কর্মব্যস্ততায় জীবন’টা উপভোগ করার সময় পাচ্ছি নাহ। তারপরেও ব্যস্ততা’টাকে ছুটিতে পাঠিয়ে মাঝে মাঝে বের হয়ে যাই একটু শান্তির আশায়।

আজ অসাধারণ একটা উপভোগ করার রিভিউ লিখবো। আসলে তেমন রিভিউ লেখা হয় নাহ। তারপরেও আজ কেন যেন খুব ইচ্ছে করছে রিভিউ লিখার জন্য। কথা বাড়াবো নাহ,

মূল কথায় আসা যাক, ঢাকা টু মানিকগঞ্জ। এই দুই স্থানের ভাগ হয়েছে ধলেশ্বরী নদী’র চলারপথে, পশ্চিমে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা, পূর্বে ঢাকা সাভারের হেমায়েতপুর। এই দুই জেলার যোগাযোগ একটি ব্রীজের মাধ্যমে৷

ব্রীজটি সিঙাইর ব্রীজ নামে পরিচিত, কিন্তু ব্রীজটি ভাষা শহীদ রফিক সেতু হিসেবে নামকরণ করা হয়। ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত এই ব্রীজটিতে বিকেলে হাজারো মানুষের ঢল থাকে। এর চারপাশের সৌন্দর্য, নদীর এঁকেবেঁকে পথ চলা দেখার জন্য মানুষের ভীড় থাকে সব সময়। ঠিক রফিক সেতুর পাশেই পূর্ব প্রান্তে যা হেমায়েতপুরের অংশ।

সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট করা হয়েছে পহেলা জানুয়ারি ২০১৯ থেকে যার যাত্রা শুরু। এই রেস্তরাঁ’টি যেন ব্রীজের সৌন্দর্য কে হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রেস্তোরাঁর চারপাশে বিভিন্ন লাইটিং, পুরো রাস্তা জুড়ে লাইটিং, সন্ধ্যার পর তা যেন এক স্বপ্নপুরী। স্বপ্নপুরী বুঝি ইহাকেই বলে। তা না দেখলে বুঝা সম্ভব নাহ। এই রেস্তোরাঁ টি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে তা যেন শিল্পের কারুকাজ৷ শিল্পীর মনের সৌন্দর্য বুঝি এত সুন্দর হয়। এই রেস্তোরাঁ’র শিল্পীর মনের সৌন্দর্যও এই রেস্তোরাঁয় ফুটে উঠেছে।

বাশের কারুকাজ, মৃৎশিল্পের আবির্ভাব বুঝি আবার এখানে এসে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। এই রেস্তোরাঁয় ম্যানেজমেন্ট সত্যিই চোখে পড়ার মতো। মানুষের বিনয়ীতা এখানে এসে দেখা মিলে। তাদের ব্যাবহার সত্যিই প্রশংসনীয়। চাইনিজ থেকে শুরু করে সবই এখানে পাওয়া যায়। মূল্য তালিকা সাধ্যের মতোই, এমন একটি জায়গায় সাধ্যমতো খাবার পাওয়া যাবে তা অকল্পনীয়। রেস্তোরার সামনে নদী বয়ে চলেছে তার আপন গতিতে। উপরে বিশাল ছাতা দিয়ে গ্রুপ গ্রুপ করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে রুচিশীল ফার্নিচার।

প্রকৃতিকে কাছে পেতে এই রেস্তোরাঁ যেন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। একদিন সুযোগ পেলে ঢু মেরে আসবেন এই রেস্তোরাঁয়। প্রকৃতিকে কাছে পাওয়ার সেই আমেজ যে এখানেই পাবেন। ধন্যবাদ

print

কমেন্ট করুন