প্রশ্নবন্দী – আর এইচ আর রাশেদ।

উফ কি গরম লাগলে,জ্যামটাও লাগার আার সময় ফেলনা।আর কতক্ষন বসে থাকবো বাসে? কখন যে বাসায় যাবো! এমনটাই ভাবছি আমি।

এমন সময় হঠাৎ গায়ের সাথে ধাক্কা লাগলো, কে যেন পাশের সিটে বসলো। বিরক্ত হয়ে পাশে তাকালাম, আর পাশে তাকাতেই অবাক হয়েগেলাম।যেন সাক্ষাৎ একটা পরীর দেখা পেলাম । তাকিয়েই আছি। সেও তাকিয়ে অবাক দৃষ্টিতে। এমন সময় বাসটা আবার চলে শুরু করল। গতি জড়তার সূত্র মানতে গিয়ে অবাক দৃষ্টির অবসান ঘটলো।

মিষ্টি সুরে, কোমল মনে বলে উঠলো স্যরি,আপনাকে বিরক্ত করলাম বুঝি? নাহ কি যে বললেন না,বিরক্ত হবো কেন,এটাই তো স্বাভাবিক। একটু মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে ছিল, আর তার চোখ দুটো কি যেন বলতে ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগেই চোখ সরিয়ে নিলো। কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে সিটের সাথে হেলান দিয়ে আছে।আমি দেখতে ছিলাম অপরুপ এই সৃষ্টিকে।

কিছুক্ষন এভাবেই কাটছিল সময়টা। যদিও গরমে ঘেমে গিয়েছিলাম কিন্তু গরমের অনুভুতিটা পাচ্ছিলামনা। এরই মধ্যে বাস কন্টাক্টের বলল্ল আপু কোথায় যাবেন ভাড়াটা দেন। ব্যাগ থেকে দশ টাকার দুইটা নোট দিয়ে বলল শ্যামলি যাবো। সময়টা হতাশায় কেটেগেল।শ্যামলির কাছে আসতেই আমাকে একটু নাড়া দিয়ে বলল, আপনার কাছেকি একশো টাকায় ভাংতি হবে দুইটা পঞ্চাশ টাকার হলেও চলবে।

আমি মানিব্যাগে হাত দিতেই বাস কন্টাক্টের বললো আমরা কাছে আছে আমি দিচ্ছি। তা শুনতেই রেগে গিয়ে বললো আমি কি আপনার কাছে চাইছি, যান আপনার কাজ করেন। পাশের সীটে থাকা দুই ভদ্র লোক চমকে উঠলো আর আমিও।

একটা বিশ, তিনটা দশ আর একটা পঞ্চাশ টাকার নোট দিয়ে বল্লাম এই নিন আপনার ভাংতি টাকা। টাকাটা নিয়ে বল্লো ধন্যবাদ , এইযে আপনার চেঞ্জ। কোথায় যাবান আপনি? আমি বল্লাম এইতো হেমায়েতপুর। ও….! আমার বাস-স্টপ চলে এসেছে, আমি গেলাম। বলতে বলতে বাস থেমে গেল,সেও নেমেগেল। আমি আর কিছুই বল্লাম না, শুধুই ভাবতে ছিলাম যে কি হলো এইটা? এই প্রশ্নে বন্দী হয়েই বাসায় ফিরলাম।।।

print

কমেন্ট করুন