বৃষ্টির প্রথম প্রহরে সুপর্ণা’র স্পর্শ।

লেখা ঃ মীর সজিব

সকাল থেকেই মুষলধারায় বৃষ্টি। এই সময়টাতে খুব দরকার ছিলো বৃষ্টিটার। কাল বৈশাখীর আগমন আজ এই বৃষ্টি দিয়ে জানান দিলো। যদিও এখনো বসন্তকাল। বসন্ত মানেই প্রেমিকযুগলদের ভালোবাসা সতেজ হয়ে উঠা। মনের মধ্যে একটি রঙিন ভাব চলে আসা।

বৃষ্টি’র পরিমাণ বেশি হওয়াতে বাইরে বের হওয়ার কোন উপায় নেই। তবে বৃষ্টি আসলে আমি একটু স্বস্তি পাই। তবে সকল বৃষ্টিই আমাকে স্বস্তি দেয় না কিছু বৃষ্টি আমার উপর অনেক চাপের কারণও হয়ে যায়।আজকের বৃষ্টি আমার জন্য স্বস্তি। বৃষ্টিতে সিভিল প্রজেক্ট এর কাজ বিঘ্ন ঘটায় সেখানে ভিজিটে যেতে হয় নি।

শুধু যে বৃষ্টি আমার স্বস্তির কারণ তা কিন্তু নয়। আরেকজন তো আছেই। যার কাছে আমি সব সময় বোকা প্রেমিক বোকা স্বামী। বৃষ্টি বেশি থাকায় সুপর্ণা’র ও আজ হাসপাতালে যেতে হচ্ছে না, ফোন করে জনিয়ে দিয়েছে আজ আসবে না সে।
মাধ্যমিক থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করাটাই মনে হয় ভালো ছিলো। একজন আরেকজন এর জন্য এত সময় ব্যয় করতাম দূরে থেকেও। আর এখন একই ছাদের নিচে থেকেও নিজেদের সময় দিতে পারছি না।

সুপর্ণা’র হাসপাতাল আর আমার সিভিল প্রজেক্ট। তবে সম্পর্কের এতদূর আসা সবটাই সুপর্ণা’র ক্রেডিট। পাগলি মেয়েটা এখনো অন্ধের মতোই বিশ্বাস করে। একটি সম্পর্কে ভালোবাসার পরিমাণের চাইতে বিশ্বাস এর পরিমাণটা বেশি থাকা উচিত।

অনেকদিন পর আজ বসন্তের বৃষ্টি। দুজনের মনেই কেমন যেন একটা বসন্তের ছোয়া লেগে গেলো। আমাকে সকালের নাস্তা দিয়ে সুপর্ণা গোসলে চলে গেলো। আমিও বোকা স্বামীর মতো তার গোসলখানায় যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই বৃষ্টির সকালে গোসল করতে হবে কেন, পরিবেশ আজ এমনেই ঠান্ডা। তাকিয়ে থাকার মাঝেই যে কখন খাবার খেয়ে নিলাম বুঝতে পারলাম না। হয়তো খুধা বেশি ছিলো।

খাবার শেষে টিভির রিমোট হাতে নিতেই আমার সামনে এক পরী এসে দাঁড়িয়েছে। আমিতো প্রথম ভয় পেয়েছিলাম। টিভি স্ক্রিন থেকে কোন মডেলিং মেয়ে বের হয়ে আসলো নাকি।

পায়ে নূপুর, লালা সাদায় মিশ্রিত শাড়ী তবে শাড়ীর নিচে একটি লাল কাপড়ও খানিকটা দেখা যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত শাড়ী পরার অভ্যাস না থাকলে যা হয় আরকি। শাড়ীর অংশ দেখা শেষ করছি আর বসন্তের রঙ মনে বেড়েই যাচ্ছে, শাড়ির পরেই চলে আসলো লাল হাতাকাটা ব্লাউজ আর গলার নিম্নাংশে হালকা মেকআপ এর ছোঁয়া। লাল লিপস্টিকে আচ্ছাদিত ঠোঁট, যেন সদ্য খোসা থেকে ছোলানো কমলার দু’টি পিছ। নাকটিও যেন কেমন কামনাকাতুর হয়ে আছে। কাজলনয়ন দুটি চোখ কাজলে আচ্ছাদিত। কালো চুলের খোপায় গোলাপের অভাব মনে হচ্ছে। আমি একপলক তাকিয়ে থেকেই এত কিছু নির্ণয় করে ফেলেছি যে মাথায় সারাদিন শুধু ইট পাথরের ভাবনা সেই মাথায় আজ এত ভালোবাসার ভাবনা কিভাবে এলো।

আমি সুপর্ণা’কে কিছু বুঝতে না দিয়ে তার চুড়ি পরা হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে গেলাম। বারান্দায় সদ্য ফুটা পবিত্র গোলাপটি হয়তো আজ আমার জন্য এত সুন্দর করে ফুটেছে। গাছ থেকে গোলাপটি সুপর্ণার কালো চুলের খোপায় বসিয়ে দিলাম। দুইটি গোলাপের সৌন্দর্য আমাকে বরাবরের মতোই বসন্তের ভ্রমর বানিয়ে দিচ্ছে। বাইরে মোষলধারে বৃষ্টির ছোঁয়া আর আমার সামনে বসন্তের বাসন্তী এসে দাঁড়িয়ে। এই একটি মুহূর্তে নিজেকে সামলানো কোন পুরুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। নারীর প্রেমের কাছে সব পুরুষই পরাজিত। আর আমি বোকা স্বামী কিভাবে জয়ী হতে পারি। সুপর্ণার কাঁধে হাত রেখে তার লিপিস্টিকে আচ্ছাদিত ঠোঁটের কাছে আমার মুখ নিতেই সুপর্ণা তার হাত দিয়ে থামিয়ে পাশের ছাদ দেখিয়ে দিলো, সেই ছাদে নব্য বিবাহিত কাপলটি বৃষ্টিতে ভিজছে আর মিটিমিটি হাসির রাজ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। সুপর্ণা আর আমি তাদের আনন্দের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

আমার নীরবতা ভেঙে দিয়ে সুপর্ণা বলে আমাদের বেডরুমটা আজ সুন্দর সব ফুল দিয়ে সাজিয়েছি। আমিও সেই বোকা স্বামীর মতো জিজ্ঞেস করি ফুল পেলে কোথায়, সুপর্ণা হাত দিয়ে বারান্দার গাছগুলোর দিকে দেখিয়ে দিলো সত্যিইতো ফুল গাছগুলোতে আজ একটিও ফুল নেই আর একটি গোলাপ বুঝি সুপর্ণা আমার জন্যই রেখে দিয়েছে। তা ভেবেই বোকার মতো হাসি দিয়ে সুপর্ণা কে কোলে নিয়ে বেডরুমের দরজা লাগিয়ে দিলাম। এই বৃষ্টিগুলোতো আমাদের মতো কাপলদের জন্য।

print

কমেন্ট করুন