পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ- রফিকুল ইসলাম।

বই: পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ
বইয়ের লেখক: আহমদ ছফা
সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষ সখ্যতা গড়েছে পশুপাখির সাথে, বৃক্ষের সাথে। এই সখ্যতা কি শুধু ভালো লাগা, না প্রয়োজনীয়তা, না গভীর জীবনবোধ দর্শন। বন্য অবস্থায় মানুষ সখ্যতা গড়েছে কুকুরের সাথে, লালন পালন করেছে, পারিবারিক সদস্য করে নিয়েছে। আচ্ছা, কুকুরের সাথে মানুষের কেনো সখ্যতা?
সবুজ খোলা প্রান্ত দিয়ে হাটতে সবারই ভালো লাগে। আচ্ছা, সবুজ কেন আমাদের ভালো লাগে? জীবনবোধ কি সবুজের সাথে বাঁধা?
আহমদ ছফার গভীর জীবনবোধ দর্শনের পরিচয় পাওয়া যায় পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ উপন্যাসে। কার্নিশে পড়ে থাকা তুলশিবৃক্ষ, তরুশিশু নয়নতারা কে দিয়েছেন সন্তানসম মর্যাদা। বৃক্ষের সাথে আপন মনে কথা বলেছেন, বৃক্ষের প্রাণশক্তি অনুভব করেছেন। অপত্য তরুশিশুর বেড়ে উঠা, খুদা, চাহিদা, রোগ-শোক -ভালোবাসা অনুভব করেছেন মানুষের আঙ্গিকে।
ছাদের কার্নিশে খাবার ছিটিয়ে অনুভব করেছেন পাখিদের জীবনবোধ। পাখিরাও মানুষের মতো কৃতজ্ঞতা বোধ প্রকাশ করে, গান গায়, যৌনতা প্রকাশ করে, অন্যে পাখির উপর খবরদারি করে, প্রতিযোগিতা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কৃষি বাগানের মাধ্যমে উপন্যাস শুরু হলেও গল্পের প্লট থেমে থাকেনি তরুলতায়। বরং বৃক্ষের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক চরিত্রের সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছেন। গাছের সাথে কথা বলা শিক্ষক চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সুবিধাবাধী ঐতিহাসিক রাজনৈতিকদের, লেখক সুবিধাবাদী চরিত্রের নাম দিয়েছেন মৌজীববাদ অর্থাৎ মধু খেয়ে যারা বাঁচে ! কতো শক্তিশালী প্রতিবাদ।
লেখক কিন্তু সত্যিই চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের নামে গড়ে তুলেছিলেন ‘এস এম সুলতান পাঠশালা’।