মেহেন্দি লাগায়ো- ওফা ইয়াদ

22449633_1450960521648669_3215053880774970023_n

মেহেন্দি লাগায়ো…
মেহেন্দি লাগায়ো…
ব্যাকগ্রাউন্ড গান বাজছে, আশেপাশের ভাবী নানীর দল আমাকে হলুদ মেহেন্দির আলটিমেট মিক্সার লাগাচ্ছে। এমন জোরে জোরে ডলছে, মনে হচ্ছে এই জীবনে তো বিয়া একটাই নে নানা ভাই জনমের মতো হলুদ মেহেন্দি পইরা নে।

পাশ থেকে আরেক ভাবী বলে উঠলো, লুঙিডা আরেকটু উপরে উঠায়া ডলা দাও, পুরা শইল্যে ভালো কইরা লাগোন লাগবো তো! নতুন জামাইর পুরা শ্যইল চক চক করোন লাগে।
সাথে সাথেই আরেকজন মিক্সার লইয়্যা ডলা মারতে লাগলো!
দাত মুখ খিচে ডলা সহ্য করছি। হলুদ মেন্দির লগে আরো নানান পদ মিশাইছে মনে হয়, নইলে এমন দানা দানা লাগার কোন মানে হয়না।

দুইজন নানী দুই পাশে ডলছে।
– ওই হাত উচা কর, ঢং করো না? বউ আইলে তো আমগ্যোরে ঠিক ই ভুইল্যা যাইবা।
– না নানী, জন্মেও ভুলুম না, যেই ডলা মারতাছো।
– বকর বকর করোন লাগত্যোন হাত দুইডা মেইল্যা ধরো, বগল টগলের নিয়ে লাগায়া লই, পরে সোনার বরণ চিলিক মারবোনা।

আমি ছোট বেলায় স্কুলে পিটি করার মতো করে দুই হাত দুইপাশে মেলে ধরলাম, যেনো টাইটানিকের জ্যাক আমি, শুধু রোজ নাই। নানী ভাবিরা দুই হাত-বগল লইয়্যা এমন টানাটানি করছে, বাংলা সিনেমার নায়িকার সখিরা যেমন করে নায়কের দুই হাতে ঝুলে ঝুলেঃ #আজকে_সখিরে_দিমু_তোমার_হাতে_তুইল্যা ( লা লা লা…. আ আ আ…) টাইপ গান গায়, এমন লাগছে।
আমার সমস্ত শরীর ঘেমে নেয়ে একাকার। পা নাড়াতে পারছিনা।
হলুদ সন্ধ্যা এতো কষ্টকর! সমস্ত শরীর মাখানোর পর এবার মুখে মিক্সার দেবার পালা, পাশের বাড়ির তিন নম্বর ভাবী টিটকারি করলেন
– সোনার চান্দের লাহান মুখ, কাইল থেইক্যা আরেকজনের হইয়্যা যাইবো। আমাগোরে আর কেউ আড় চোকে চাইব্যোনা।

এ কথা বলেই সমস্ত চেহারায় মিক্সার মাখাতে লাগলো…
ত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় আমার সমস্ত চেহারা জ্বলতে শুরু করলো….

– নানী, জ্বলে তো!
– কই জ্বলে?
– নানী মুখ জ্বলতেছে অনেক।
– জ্বলবো ক্যা? ওই আয়শা মেন্দি অলিদ কোন পাডাত বাটছোস?

খালা ক্যান? হেগো রান্না ঘরের পাডাত…

ততোক্ষনে আমি চিল্লাতে চিল্লাতে একাকার..
বিয়াই করুম না, বিয়ার খ্যাতা পুড়ি…ওমাগো….
– আয়শা মইচ বাডনের পাডাত কেউ অলিদ মেন্দি বাডে?

ঃওই হালা দিনে দুপুরে ঘুমের মধ্যে বকিস ক্যান? উঠ( লাথি প্রয়োগ করে খালাতো ভাইয়ের হাকডাক)

(ইশ বিয়ের স্বপ্ন! 😍 প্রতিদিন বিয়া, হানিমুন, বাসরঘরের স্বপ্ন দেখতাম যদি! এরকম ভয়ঙ্কর হলুদ সন্ধ্যা বাদে 😜😜😜)

কমেন্ট করুন