পরিবারকে নিয়ে জান্নাতে যেতে চান? -হাবিবুন নাহার মিমি

পরিবারকে নিয়ে জান্নাতে যেতে চান? -হাবিবুন নাহার মিমি

কিছুদিন আগেও আপনি ছিলেন আধুনিকতার স্রোতে গা ভাসানো একজন তরুণী। আল্লাহর অসীম রহমতে আপনি আজ দ্বীনের পথে চলা শুরু করেছেন। কাঁটাযুক্ত পথে বারবার হোঁচট খান, আবার উঠে দাঁড়ান। পরিপূর্ণ দ্বীনদার হতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। উঁচুনিচু দুর্গম পাহাড়ি পথ। বাঁকে বাঁকে ওত পেতে আছে নফসের সুবেশধারী গোলামরা।
হয়তো আপনার প্রচেষ্টায় মিশে থাকা আন্তরিকতার জোরে আপনার রব আপনাকে কবুল করবেন।

 

কিন্তু ভাবুন তো, আপনার যে প্রিয়জনদের ছাড়া জীবনটাকে আপনি কল্পনা করতে পারেন না, তারা যখন জাহান্নামের প্রচন্ড আজাবে অসহনীয় কষ্ট পাবে, আপনার কি ভালো লাগবে সেটা?
আপনি কি শুধু নিজে জান্নাতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাদের রেখে? এতোটা স্বার্থপর তো ছিলেন না কখনো!
তবে কি আপনি ভাবছেন তাদের দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার মতো যোগ্যতা আপনার নেই? অথচ আপনি সেই আদেশটা জানেন, “প্রচার করো যদি একটি আয়াতও হয়।”
কিসের এতো সংকোচ আপনার? নিজে যে পছন্দের পাপকাজটা প্রাণপণে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আপনার প্রিয়জনরা তো এখনো অবলীলায় তা করে বেড়াচ্ছে। শুধু নিজে বাঁচে না মুমিন, সবাইকে সাথে নিয়ে বাঁচে। কাউকে পিছনে ফেলে যায় না।

 

সকল মানুষের দায়িত্ব আপনাকে কেউ নিতে বলছে না, সেটা সম্ভবও না। কিন্তু আপনার পরিবার? তাঁদের সঠিক পথে সহযাত্রী বানানোর চেষ্টা আপনি না করলে কে করবে?
বোধোদয় হলো প্রিয়?
তবে কান পেতে শুনুন—
পাপে জর্জর প্রতিটা আত্মা কাঁদছে, পাপের কালিমামুক্ত নিষ্কলুষ বাতাসে একটু শ্বাস নিতে ওরা বেকারার। আপনার একটু সান্তনার কথা, একটু সহানুভূতি, একটু কান্নাজড়িত শাসন ওই টুকরো হয়ে যাওয়া হৃদয়গুলিকে জোড়া দিতে পারে।

 

ভাবছেন, কিভাবে সম্ভব আমার দ্বারা?
আপনার বাবা, মধ্যবয়সী একজন পরিশ্রমী পুরুষ। আপনাদেরকে আরেকটু ভালো রাখার জন্য তাঁর কি প্রাণান্তকর চেষ্টা! অগোচরে প্রিয় বাবার মুখের দিকে চেয়ে আপনার কি মনে হয়না, এই লোকটা জান্নাতের শান্তিমাখা শয্যায় একটু প্রাণভরে বিশ্রাম নিক?
তবে তাঁকে দাওয়াত দিন শাশ্বত শান্তির পথে। কাজের ফাঁকে যখন তিনি একটুখানি ফুরসত পান, তখন কিভাবে সময় কাটান খেয়াল করুন। যদি দেখেন তার অলস সময়গুলো কাটে ফেসবুক স্ক্রলিং করে, তাহলে তাঁকে তাঁর পথেই দাওয়াত দিন। তার ফেসবুক আইডিতে লগইন করে ইসলামিক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন, ইসলামিক গ্রুপগুলোতে যুক্ত করে দিন তাঁকে। কোনো মর্মস্পর্শী দ্বীনী লেখা চোখে পড়লে তাঁর মেসেঞ্জারে সেটা ফরওয়ার্ড করে দিন।
আপনার মাকে তাঁর কখনো অলক্ষ্যে দেখেছেন? চেয়ে দেখেছেন সরল ওই দু’চোখে কতোটা মায়া আপনার জন্য? সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে শরীর ভেঙে পড়েছে। কাদের জন্য করেন এসব? আপনাদের আরেকটু স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে। আপনি যদি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারেন, প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে আপনার মায়ের করুণ দু’টি চোখ কি আপনার মানসপটে ভেসে উঠবে না?

 

জান্নাতের অশেষ অবসর এই সদাব্যস্ত মানুষটিকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছে হয়?
তাহলে খোঁজ নিন আপনার মায়ের কোন কাজটা পছন্দ? সন্ধ্যায় সব কাজ সেরে তিনি কি সিরিয়াল দেখতে বসেন? সাদামাটা জীবনে তাঁর একমাত্র বিনোদন কি সিরিয়ালের ঘটনাবহুল চাকচিক্যময় জীবন? একদিন মায়ের কাছে গিয়ে চুপচাপ বসুন। তাঁকে বলুন, “আম্মু আমি যদি প্রতিূিন তোমার সুবিধামতো সময়ে তোমাকে ইসলামিক সিরিজ ফোনে দেখাই, তাহলে তুমি কি এই বিধর্মী সিরিয়ালগুলো দেখা বন্ধ করবে?”

 

দেখবেন আপনার মা না করতে পারবেন না। তুলনামূলকভাবে হিন্দুয়ানায় ভরা এই সিরিয়ালগুলোর তুলনায় দিরিলিস আর্তুগ্রুল, কুরুলুস উসমান অনেক উত্তম। ইসলামকে মানুষের জীবনে বাস্তবায়িত হতে দেখে একসময় দেখবেন তিনি সকল সিরিয়াল ছেড়ে ইসলামের মজা পেয়ে গেছেন।
আপনার আদরের ছোট্ট ভাইটা! ওকে ছাড়া একটা দিনও থাকতে পারেন না আপনি। মন কেমন করে। আচ্ছা, জান্নাতের সুমিষ্ট ফলগুলো খাওয়ার সময় আপনার মন কেমন করবে না? তাঁকে জান্নাতের অনাবিল আনন্দের দুনিয়া চেনাতে ইচ্ছে হয়?

 

তাহলে তাঁকে ইসলামের অনুশাসনে জীবন পরিচালনায় উৎসাহ দিন। সে বই পড়তে ভালোবাসলে তাকে সুন্দর সুন্দর ইসলামিক বই উপহার দিন। তাকে একসাথে ডেকে নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করুন। আযান শুনে পাঞ্জাবিটা এগিয়ে দিয়ে মসজিদে পাঠান। তাঁকে কালো-সবুজের স্বপ্ন দেখান, যেখানে যেতে পারলে প্রত্যেকটা মুমিনহৃদয় পরিশুদ্ধির স্বাদ পায়।

 

কিন্তু!
যদি আপনি নিজেই রবের পথের কাঁটাগুলো দেখে ভয় পেয়ে থেমে যান, যদি আপনি নিজেই জান্নাতের সেই অপূর্ব মোহময় নহরের ছায়ায় বসার সুযোগ না পান, তাহলে আপনার পরিবারের সদস্যদের গন্তব্য আপনাকে প্রভাবিত করবে না।
নিজে রব-রাহে চললেই তারা আপনার কথা মানবে, নয়তো আপনার দাওয়াত তাদের কাছে হাস্যরস ছাড়া আর কিছুই মনে হবে না।

 

পরিবারের সবাইকে নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পা বাড়ান, জান্নাতের বাগানে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিবেন। আপনি তাঁর দিকে হেঁটে গেলে, তিনি আপনাকে এগিয়ে নিতে দৌঁড়ে আসবেন। মালিক বড়ই মেহেরবান।
কেউ যদি আপনার ডাক না শোনে, তবে একলা না চলে তাকে আরো জোরে ডাক দিন। তাকে তার ভাষায় ডাকুন। না শুনে যাবে কোথায়?
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com
google.com, pub-4867330178459472, DIRECT, f08c47fec0942fa0