“সেই তুমি এলে?” – মিলন শাহরিয়া খাঁন।

“সেই তুমি এলে?” – মিলন শাহরিয়া খাঁন।

রবিন এর জীবন থেকে তন্বি চলে গেলো! কোথায়? হটাৎ ত্বন্নির যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়াটা রবিন মানতে পারছে না।কাউকে বলতেও পারছেনা।কারন সম্পর্কটা বেশি গভীর হয়নি।কিন্তু যার গিয়েছে সে বুঝছে কি গেলো!
বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো।রবিন বড় ব্যবসায়ী হয়েছে।
হঠাৎ একদিন কোন এক অফিসে পরিচিত কন্ঠ শুনতে পেলো।পেছন ফিরে পরিচিত কাউকে চিনতেও পারেনি।
রবিন ইচ্ছা করেই আবার ঐ অফিসে গেলো।সব কিছুর ফাকে সে কিছু খুজছে।
হ্যা পেয়েছে পরিচিত একটা বান্ধবী।কথা হলো তার সাথে।
বান্ধবী: রবিন ত্বন্নির সাথে আমার এই অফিসে একদিন দেখা হয়েছিলো।কথাও হয়েছিলো দু- তিন মিনিট।
রবিন: অবাক হয়ে কথাগুলো শুনছে।সব অপেক্ষা এখন যেন অভিমানে রুপ নিলো।ভাল- অনাগ্রহ প্রকাশ করলো রবিন।
সেই থেকে রবিন প্রায় ঐ অফিসে যাতায়াত করতো।
রবিন আর নিজেকে আড়াল করতে পারছেনা।ঐ অফিসের এমডিকে বলেই ফেললো আপনার অফিসে কি ত্বন্নি নামে কেউ,,,,,,,,,,?
এমডি: হ্যা ও আমার অন্য ফার্ম দেখাশুনা করে, কিন্তু কেনো বলুনতো?
রবিন: ছাত্র জীবনে আমরা পরিচিত ছিলাম।
অফিসে রবিনের জিজ্ঞাসার কথাগুলো ত্বন্নিকে জানানো হলো।
ত্বন্নি বুঝে উঠতে পারছেনা কি করবে সে।এতো বছর পর না পাওয়ার আকাঙ্খা যেন উতলে উঠছে।
ত্বন্নি নিজের অজান্তেই বলে ফেললো রবিন আমার কে সেটা রবিনও জানেনা।
ত্বন্নি রবিনের অফিসের ঠিকানা যোগাড় করলো।সেই সাথে চাকরীর একটা আবেদন রবিন বরাবর পাঠালো ভিন্ন নামে।
রবিনের অফিস থেকে তার সাক্ষাৎকারের ডাক পড়লো।
ম্যানেজার: আমরাতো কোন বিজ্ঞপ্তি দেইনি।তবে আপনি আবেদন করলেন কেন?
ত্বন্নি: স্যার আমার একটা চাকরী খুব দরকার তাই।
ত্বন্নি: স্যার আপনাদের এমডি স্যার কি আছেন?উনিকি সাক্ষাৎকার নিবেন?
ম্যানেজার: না।আর উনি কয়েকদিন অফিসে আসেননা।উনার মা খুব অসুস্থ তাই বাসায় থাকেন।
ত্বন্নি: ও।
ম্যানেজার বললো আপনার আরেকদিন আসতে হবে।স্যারের সাথে কথা বলে আমি জানাবো।
ত্বন্নি: আচ্ছা।
তন্বি খুব কষ্ট পাচ্ছে আর ভাবছে রবিনের সংসার বউ, বাচ্চা নিয়ে হয়তো খুব গোছালো ভাবেই দিন কাটছে।তাই একটু অন্য ভাবে রবিনকে দেখতে চাই।খুব কষ্ট হচ্ছে তন্বির।কোন ভাবেই আর অপেক্ষা করতে পারছেনা।ভাবছে আর চোখে জ্বল আসছে।
রবিন অফিসে এলেই ম্যানেজার সব খুলে বললো।
রবিন: আচ্ছা আজই দুপুরে আসতে বলুন।
হঠাৎ রবিনের মায়ের চিকিৎসার রিপোর্ট আনার কথা মনে পড়লো।দুপুরের আগেই বেরিয়ে গেলো।
ম্যানেজার: স্যার ঐ মেয়েটা যদি চলে আসে?
রবিন: ও শীট। ঠিক আছে আপনি আমাকে ফোন দিয়ে ওনাকে দিয়েন অন্য একদিন আসতে বলবো।
দুপুরেই ত্বন্নি অফিসে আসলো।
ম্যানেজার : মেডাম সরি।স্যার এর মা খুব অসুস্থ ওনি বাসায় চলে গেছেন আপনার সাথে কথা বলতে চেয়েছেন।
বলেই ম্যানেজার রবিনকে ফোন দিয়ে বললো স্যার উনি আসছেন।ত্বন্নি হাতে ফোন দিলো।
রবিন: আসসালামু আলাইকুমআমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।আমার মা খুব অসুস্থ তাই,,,,,,।
কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে রবিন হ্যালো বললো।
ত্বন্নি কথা বলতে পারছেনা কাপছে, চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।কষ্ট করে বললো।
ত্বন্নি: আমি আপনার বাসায় আসি?
রবিন: দেখুন আমার বাসায় মা আর আমি ছাড়া কেউ নেই আপনার যত্ন!
ত্বন্নি দাবি নিয়েই বললো আমি আসছি।
ম্যানেজার তন্বিকে দেখে ঘাবড়ে গেলো।কাদতে দেখে মনে করলো হয়তো চাকরিতে নিবেনা।তাই বেশি কথা বলছে।তারপর ঠিকানা চাওয়াতে সে বিস্মিত না হয়ে ঠিকানাটা দিলো।মনে হচ্ছে মেয়েটার চাকরিটা খুব দরকার।
দারোয়ান রবিনকে ইন্টারকমে ফোন দিয়ে বললো স্যার অফিস থেকে একজন মেয়ে আসছে?
রবিন: ঠিক আছে বাসায় পাঠিয়ে দাও।
কলিং বেলের আওয়াজ শুনেই রবিন দরজা খুলতেই তন্বিকে দেখে অবাক।
তুমি? ইন্টারভিউ?
ত্বন্নি: জ্বী! তুমিতো খোজ করোনি তাই এই পথ!
রবিন: আসো আসো, ভিতরে আসো।
ত্বন্নি ঘরে ঢুকছে আর অবাক হচ্ছে এতো অগোছালো একটা বাসা।
রবিন: কাজের বুয়া ছুটিতে গেছেতো। তাই সব আমার করতে হচ্ছে।
ত্বন্নি: আর সবাই কোথায়?
রবিন: আছে।আসো মাকে দেখবে।
ত্বন্নি রবিনের মাকে দেখে গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদলো।যেন শত বছরের পুরনো সম্পর্ক।
রবিন: তুমি বসো আমি চা করে আনি।
ত্বন্নি রবিনের মার মাথায় হাত রেখে কথা বলতে বলতে কিছু চিপস বের করলো এই দেখে রবিনের অসুস্থ মা হাসতে হাসতে বললো এগুলো কার জন্য?
ত্বন্নি: কেন! আপনার ছেলের বাচ্চাদের জন্য।
রবিনের মা: দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো।ওতো এখনো বিয়েই করেনি।
ত্বন্নি একথা শুনে কেদে উঠলো আর রবিনের মার কানের কাছে মুখ নিয়ে বললো মা আমি সেই ত্বন্নি!
ত্বন্নি দৌড়িয়ে রান্না ঘরে যেতে যেতে চোখের পানি মুছে নিলো।রবিনকে উদ্দেশ্য করে বললো।এসব কি তোমার কাজ?
রবিন : কে করবে বলো?
ত্বন্নি: কেন? আমার খোজ করেছো কখনো?
রবিন: কতো করেছি।তোমার কোন ঠিকানা রেখে যাওনি কিছু বলে যাওনি। অবশেষে আশা ছেড়ে দিয়েছি।ভাবছি দেখাই হবেনা কোনদিন।হলেও তোমার সংসার থাকবে সেটা হবে আরেক যন্ত্রনা।
ত্বন্নি: বাবা খুব অসুস্থ ছিলেন বাড়িতে গিয়ে আর আসা হয়নি। আমি তোমার জন্য এখনো সংসার পাতিনি।তোমার আশাতেই পথ চলছি।
এখন কি করবো বলো?
দুজনে চা নিয়ে মার কাছে আসলো।মা’তো তন্বিকে পেয়ে খুব খুশি।
মা: রবিন ওর চাকরিটা দিস।
রবিন: মা!
ত্বন্নি: মা একটা প্রতিষ্ঠান দেখাশুনা করি সেটাও করবোনা।অফিসেও যাবোনা।এখানে ডিউটি করবো।
মা: তাহলে সব সময় আমার সাথে থাকতে হবে।
ত্বন্নি: জ্বী! মা।
রবিনের মার কথা শুনতে শুনতে রবিন ত্বন্নির পেছন থেকে টানতে টানতে অন্যরুমে নিয়ে বললো।এখন কি করা উচিৎ?
ত্বন্নি: সব উচিৎ বিয়ের পর।
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com