নৈতিকতা এবং আমার সার্টিফিকেট- মাসুম বিল্লাহ খান।

25530118_1915811208668781_1647390258_n-1

আমি আমার লেখায় সবসময় চেষ্টা করি বাস্তবতার সাথে মিল রেখে কিছু বিষয় তুলে ধরতে। আজকেও তার ব্যতিক্রম করবোনা। আমি আজকে লিখিতে চাই  ।
*
আমাদের আজকের সমাজে একটা ট্রেন্ড দেখা যায় যে নাচতে ভালো পারে সে হিরো হয়ে যায়। ভালো যে গাইতে পারে তাকে সবাই অভিনন্দন জানায়। ক্লোজআপ প্রতিযোগিতা আমাদের সমাজে খুব বেশি বেশি করে হয়। কিন্তু খুব ভালো যে পড়তে পারে তাকে নিয়ে কোন প্রতিযোগিতা হয়না। খুব ভালো যে ফলাফল করতে পারে তাকে উৎসাহিত করার মত লোক আমাদের সমাজে খুব কম। অথচ ইতিহাসগতভাবে এটা প্রমানিত যে খেলাধুলা, গান, শিল্প বা সাহিত্য দিয়ে কোন জাতির উন্নতি হয়না। তাঁর অর্থ এই নয় যে আমি এগুলোর বিপক্ষে।
*
একটা জাতির সত্যিকারের উন্নতি হয় তার জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং তার প্রযুক্তির যায়গা থেকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা জাতিগতভাবে যদি উন্নতি করতে চাই তাহলে আমাদের মেধাবী সন্তানদের সেলিব্রেট করা উচিত। এটি সমাজে আমরা যতবেশি করতে পারবো ততো বেশি মেধাবী আমাদের সমাজে জন্ম নেবে।
“একটি সমাজে মেধাবীদের কদর না থাকলে সে সমাজে মেধাবীদের জন্ম হয়না”।
আমরা যখন কিছু অর্জন করি তখন খুব উল্লাস করি, আবার যখন ব্যর্থ হই তখন কষ্ট পাই । অসাধারণত্ব হচ্ছে এই যায়গায় কোন আনন্দ আমাদের সীমানা ছাড়া উল্লাস করব না আবার কোন ব্যার্থতাই আমাদের এতটা হতাশ করবেনা যে আমি শেষ হয়ে গেছি।
*
জীবনে বড় হতে হলে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় কিন্তু নষ্ট হতে হলে কোন কষ্ট করতে হয়না। আমি বিজ্ঞান এর ছাত্র ছিলাম। আমরা সবাই নিউটনের গল্পটা জানি যে তিনি একদিন আপেল বাগানে বসে ছিলেন তার মাথার উপর একটি আপেল পড়েছিল । তখন তিনি অনেক গবেষণার পরে বললেন এটা একটা গ্রাভিটেশন কার্ভ। যে এর একটা ফোর্স আছে তাই এটা নিচের দিকে টানে। এই যে গ্রাভিটিশনাল ফোর্স এটি মানুষের মাঝেও কাজ করে যেমন মানুষের পেছনে সবসময় একটি নেগেটিভ ফোর্স কাজ করে যা মানুষকে নষ্ট হতে সহায়তা করে যেমন তুমি না পড়লে ভালো, তুমি নষ্ট হয়ে গেলে ভালো তুমি আনন্দ করলে ভালো, এই গুলা মানুষকে নিচের দিকে টানে তার বিপরীতে নিজেকে কন্ট্রোল করে একটা ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে যাওয়া এটি কিন্তু খুব কষ্টকর।
আমি যদি ভালো করতে চাই তাহলে সবকিছুতেই ভালো করতে হবে। আর যদি নষ্ট হয়ে যেতে চাই তাহলে সব ভালো করার পরেও হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে গেলে চলবে। যেমন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেলেই চলে নষ্ট হতে হলে এর বেশি কষ্ট করতে হবেনা।
*
আজ আমাদের সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় এখানে ভালো কাজের জন্য খুব একটা আগ্রহ নিয়ে কাজ করতে চায়না যতটুকু আবার করে তাও দ্বায় সারানোর জন্যই করে থাকে। মানুষ খেলাধুলার পেছনে কত সময় ব্যয় করছে কিন্তু তা থেকে শিক্ষণীয় কিছুই থাকছেনা যেটুকুই বা থাকছে তাতে অপসংস্কৃতিতে ভরপুর। তাহলে আমরা ভালোর দিকে যাবো কি ভাবে?
যে সামান্য ভালো কিছু করার মানসিকতা নিয়ে আসছে তাকে আবার নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। তার মানে হচ্ছে আমাদের মাঝে নেগেটিভ ফোর্স খুব তীব্র আকারে কাজ করছে আর এই অবস্থা থেকে উত্তরন হতে হলে আপনাকে আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। জিতে গেলে সফল আর হেরে গেলে অন্য কাউকে পথ দেখিয়ে গেলেন।
*
শিক্ষার দিকে তাকালে দেখা যায় এখানে ডিগ্রীধারী লোকের কমতি নেই কেবল কমতি থাকে সৎ লোকের বেলায়। আমাদের গুণীজনদের এত কাগজের সার্টিফিকেট ছিলোনা কিন্তু সৎ লোকের অভাব ছিলোনা আর এখন ডিগ্রীধারী প্রতি কদমে কদমে পাওয়া যায় কিন্তু সৎ লোক দূরবীন দিয়েও খুজে বের করা খুব কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।
*
আমাদের দেশে যখন কেউ কোন কিছুতেই ভাল করে আমরা কিছুতেই তার স্লোগানের কমতি রাখিনা। আমরা তার থেকে আরো ভালো কিছু পেতে আশা করি তার কিছুদূর না যেতেই দেখি দুর্নীতির এক বিশাল ভার তার কাঁধে করে নিয়ে আমাদের জন্য লজ্জার সম্মান উপহার দেয়। এই সফলতার থেকে কি ব্যর্থ লোকগুলির গল্প করা ভালোনা? তাহলে কি লাভ এই মিছে সফলতার?
*
স্বামী বিবেকানন্দ ঘোষ বলেছিলেন “আমি অন্যের অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবার আগে নিজের অর্থে কুড়িয়ে অন্যকে খাওয়াবো”। আমরা স্কুলজীবনে বইগুলি মুখস্থ করেছি কেবল পরীক্ষায় পাসের আশায়। লেখাপড়াটাকে আমরা পুঁজি বানিয়ে ফেলেছি। কেউ এখান থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে আসছিনা। যদি শিক্ষা গ্রহন করতে আসতাম তাহলে কখনোই আমার আপনার কাঁধে কোন পাপের ভূত ভড় করতোনা।
আমি আমার স্থান থেকেই বলছি আমি যদি দুর্নীতি বোঝা কাঁধে নিতে হয় তাহলে কেন এত কষ্ট করে পড়েছিলাম “দুর্নীতি উন্নতির অন্তরায়”?
তাহলে কি এটা আমার নৈতিকতার বিপরীতে চলে গেলোনা?
তাহলে কি কাজে আসলো আমার এত সময় ব্যয় করে এত কষ্ট করে এতগুলি ডিগ্রী লাভ করার?
আমার থেকে কি গ্রামের মুর্খ লোকটি ভালোনা?

 

(চলবে)

print

Hits: 4

কমেন্ট করুন