বসন্তের এই বৃষ্টিতে।

বসন্তের এই বৃষ্টিতে।

সকাল ৮ টা।
হঠাৎ ফোনের বিরক্তি কর রিংটোন।
বিরক্তিকর ভাবে ফোনটার দিকে তাকালাম।
ফোনের দিকে তাকিয়ে বিরক্তি ভাব যে কোথায় গেলো,
বরং আরো ভয় পেয়ে গেলাম।

 

আজ-তো ডালিয়ার সাথে দেখা করার কথা।
মোবাইলটা ভয়ে ভয়ে রিসিভ করলাম, ওপাশ থেকে সেই ভয়ংকর কণ্ঠ:
বলতো তোর সমস্যা কোথায়? আজকে কি কথা ছিলো? আমাকে একা বসিয়ে রাখলি কেনো? তোর লজ্জা করেনা একা একটি মেয়েকে বসিয়ে রাখতে??
আমি আর কি বলবো ভয়ে ভয়ে বললাম জান তুই আর মাত্র ২০ টা মিনিট ওয়েট কর। আমি সোজা তোর কাছে চলে আসবো,
ওপাশ থেকে সেই কণ্ঠ তোর আসা লাগবে না, আমি তোর কেউ না মুখের উপর ফোন রেখে দিলো।

 

আমি ফোন রেখে ঝটপট ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পরলাম, সোজা চলে আসলাম ধর্ম সাগর পাড়,
আমাকে দেখেই সুন্দর মুখটাকে বাংলার ঘষেটি বেগম বানিয়ে ফেললো।
কি আর করা রাগ তো ভাঙ্গাতে হবে,
চারদিক একবার চেয়ে চোখ বন্ধ করে কানে ধরে সরি বললাম।

 

আমার প্রিয় সোনা ঘষেটি বেগমের মুখটা আবার সেই মায়াবতীর মতো হয়ে গেলো। কিছু বলা নেই করা নেই হঠাৎ করেই জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলো।
আমার আবার একটা সমস্যা দাদা মেয়েদের কান্না সহ্য করতে পারি না।
আমার হার্টবিট আরো বেড়ে গেলো, কি আর করার।
আমার লীলাবতী কান্না করতে করতে বলতে লাগলো,

 

তুই আমাকে আগের মতো ভালোবাসিস না।
আগের মতো আমাকে কোন গুরুত্বই দিস না।
এসব বলতে বলতে চোখের পুকুর শুকিয়ে ফেললো।
চোখ লাল হয়ে গেছে। অবশ্য লাল চোখে লীলাবতী কে আরো নিষ্পাপ লাগছে।

 

মায়াকান্না শেষ করে লীলাবতী কে নিয়ে রিক্সায় চড়ে বসলাম।
যেই রিক্সায় উঠলাম বসন্তের বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো । বুঝায় যাচ্ছে প্রকৃতি আমার পক্ষেই।দু’জনে বৃষ্টিতে কাক ভেজা হয়ে গেলাম।
বৃষ্টি তে রাস্তা অনেকাংশ খালি , রাস্তায় আমি আমার লীলাবতী আর রিকশাওয়ালা।রিকশাওয়ালা একমনে সে রিক্সা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বৃষ্টি ভেজায় লীলাবতী কে আরো বেশী আকর্ষণীয় লাগছে,
বৃষ্টির এক একটা ফোটা লীলাবতীর গাল বেয়ে নিচে পরছে।
ঠোঁট গুলো যেন কোথাও হারিয়ে যেতে চাচ্ছে।
যেই তার ঠোঁটের পানে চাইলাম।তৎক্ষণাৎ তার ঠোঁট আমার ঠোঁটে হারিয়ে গেলো,
আল্লাহ বাঁচাইছে যে কেউ রাস্তায় নেই।

 

কত মিনিট যে অন্য জগতে ছিলাম মনে নেই।
কিছু সময়ের জন্য আমি ‘এলিয়েন’ হয়ে গেছি।
বসন্তের এই মেঘলা দিনে এমন একটি সময় ,
লীলাবতী আমাকে উপহার দিবে ভাবতেই পারি নি।

 

একটাই প্রশ্ন লীলাবতী তুই আমাকে এত ভালোবাসিস কেনো??
যাক বৃষ্টি শেষ হল রাস্তাও শেষ, লীলাবতীকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে,
আমি সরাসরি বাসায় চলে আসলাম।
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com
google.com, pub-4867330178459472, DIRECT, f08c47fec0942fa0