লীলাবতী’র স্পর্শ।

হ্যালো……..
তুই কই???
ঘুমাচ্ছি,
হারামজাদা কয়টা বাজে?
ওহ সরি সরি, দোস্ত জাস্ট ১০ মিনিট,
শোন আমি তোর জন্য আধাঘণ্টা যাবৎ ধর্মসাগর পাড়
বসে আছি আর তুই কি-না ঘুমাচ্ছিস।
 যাহ তোর আসা লাগবে না, আমি চলে যাচ্ছি।
দোস্ত তুই যতক্ষণ যাবৎ লাগিয়ে কথাগুলো বললি 
ততক্ষণে আমি চলে আসতে পারতাম।
চুপ তুই আমাকে শেখাচ্ছিস, কোটবাড়ি থেকে তুই ১০ মিনিটে চলে আসবি?
 তোর আসা লাগবে না আমি চলে যাচ্ছি।
  দোস্ত রাগিস কেনো আমি বলছি তো আসতেছি,
ও-কে জলদি আয় একা একা ভালো লাগছে না।
ফোন রেখে, দাঁত ব্রাশ করার সময় নেই, মুখে পানি দিয়েই ২৫ মিনিটের ভিতরেই চলে আসলাম ধর্মসাগর পাড়ে।
পাড়ে এসেই দেখি লীলাবতী গাল ফোলা করে বসে আছে, দেখে মনে হয় বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ব্রেক হয়ে গেছে,
কি আর করার পাশে গিয়ে বসলাম
বললাম কি হয়েছে?
আমার দিকে আজরাইলের মতো তাকালো মনে হচ্ছে এখুনি জান বের করে নিবে।
  দোস্ত একটু মানুষের মতো তাকা প্লিজ।
ওই ফাজিল কুত্তা তোর জন্য আমি এতক্ষণ বসে রইলাম,
 আর তুই এসেই দুষ্টামি শুরু করে দিলি।
দোস্ত তুই যেভাবে তাকাচ্ছিলি তখন তো আমার হার্টবিট শূণ্য হয়ে গেছিলো।
আচ্ছা এখানে ডাকলি কেনো বল?
  দোস্ত অনেকদিন তোর সাথে ডেটিং মারা হয় না তো তাই তোকে
 গতকাল রাতে বলেছিলাম এখানে আসতে।
ওরে কুত্তা এই জন্য, 
যাক বাবা বাঁচা গেলো আমি তো ভয় পাই কখন তুই আবার কিনা কি বলে ফেলিস।দেখ সজিব তুই কিন্তু ভুলেও আমাকে জান বলিস না। আমি কিন্তু তোর জান হতে পারবো না।
আরে যাহ, তোকে আমার টাইম আছে নাকি,
 তোকে আমি জান বলবো,
 কত মেয়ে লাইন ধরে আছে আমাকে জান বলার জন্য 
আর তুই এসেছিস তোর এই চেহারা নিয়ে আমার জান হতে।
হয়ছে, তোকে আমার জানা আছে। এত ভাব দেখাও কেনো? 
এই পর্যন্ত তো একটাও গার্লফ্রেন্ড যোগাতে পারলি না।
আরে শোন তুই আছিস তো তাই গার্লফ্রেন্ড খুঁজি না।
হয়েছে জনাব এবার আপনার চাপাবাজি বন্ধ করুন, অনেকক্ষণ যাবৎ বসে ছিলাম ক্ষিধা লাগছে কিছু খাওয়া।
দুস্ত আমি ডায়েট-কন্ট্রোলে আছি তো তাই আমার সকালে খাওয়া নিষেধ।
ওহ তাই আচ্ছা, শোন আমি যদি ট্রিট দেই তাহলে খাবি??????
আরে পাগলি, আমি তো তোর সাথে মজা নিচ্ছিলাম, 
তুই খাওয়াবি আর আমি না খেতে পারি বল???
বলার সাথে সাথেই সামনে তাকিয়ে দেখি শসা নিয়ে দাড়িয়ে আছে শসাওয়ালা।
আর দু’মিনিট পর হাতে শসা।
লীলাবতী বলে তুই ডায়েট-কন্ট্রোলে আছিস তো তাই তোর ভালোর জন্য শসা কিনলাম নে শসা খা ভালো হবে।
কি আর করার শসা ওয়ালার দোষ দিবো নাকি নিজের দোষ দিবো বুঝতে পারলাম না, শত অনিচ্ছাসত্ত্বেও খেতে হল।
খাওয়ার পালা শেষ…………………
দোস্ত তোকে না আজ পরীর মতো লাগছে,
সত্যি বলছিস? তোর মুখে এই প্রথম শুনলাম।
আরে না দোস্ত তোকে দেখলাম কি মনে করিস তোর প্রশংসা করলে,
তোকে তো ঐ গাছের উপর বসা কাকটার মতো লাগছে,
ওরে কুত্তা, তুই এত ফাজিল কেনো বলতো???? 
স্কুল লাইফ থেকে তোর সাথে আমার বড় হওয়া তোর মতো এত ফাজিল আর দেখিনি। এত দুষ্টামি কেউ করে বলতো???
শোন, আমি যদি তোর সাথে দুষ্টুমি না করি কে করবে বল?????
হয়ছে এত কথা বলতে হবে না,
 চল আমার কিছু শপিং আছে শপিং করতে হবে।
তুই শপিং করবি আমি গিয়ে কি করবো বল,
তোকে আমি শসা খাওয়ালাম আর তুই আমার 
এই সামান্য কাজ টা করে দিতে পারবি না???
কি আর করার পিছনে পিছনে ছুটলাম খন্দকার টাওয়ারে, 
এই শপিং ওই শপিং কত কিছু যে মেয়েদের লাগে গুণে শেষ করা যাবে না।
সময় যায় আর ব্যাগের সংখ্যা বাড়ে।মেয়েদের মনে যে মায়া নেই কথাটা আসলেই ঠিক। এত্তগুলো ব্যাগ নিয়ে পিছন পিছন ঘুরতে হল।
অতঃপর তাহার শপিং শেষ হল।
লিফটে নামতেছি আর আজরাইল টা একগাল কিউট হাসি দিয়ে আমার গাল টেনে বলিলো দোস্ত তুই আসলেই আমার কিউট জানের দোস্ত।
তাহার সেই কিউট মুখখানা দেখে আমার রাগ ০% চলে আসলো। 
মনে হল কোন পরী আমার গাল টেনে দিলো।
শপিং শেষ করে খন্দকারের সামনে থেকে রিক্সা নিলাম লীলাবতীকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে সোজা আমি বাসায় চলে আসলাম।
ফ্রেশ হয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি লীলাবতীর মেসেজ।
  অতি আগ্রহ নিয়ে মেসেজ ওপেন করলাম
Dost Tui Asholei Onek Onek Valo
Kokhonoi Amake Por Vabish Ni
Soto kosto dileo tuui raaag korish na….
Dost Love U ettogula………
আমি মনে মনে হাসতে লাগলাম আর বললাম,
 আরে পাগলি তোর সেই পরীর মতো হাসিটাই তো
আমাকে তোর দেওয়া শত কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।