কোরবানীর পশুর সাথে নিজের মনের পশুত্বকেও কোরবানী করতে হয় – মীর সজিব

দুইজন মানুষ এসে আমাকে একটি পরিস্কার জায়গায় নিয়ে আসলো। একজন আমার সামনের পা, আরেকজন আমার পিছনের পা বাধতে শুরু করলো। আমি যেন নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। হঠাৎ আরেকজন এসে আমাকে ধাক্কায় মাটিতে ফেলতে চাইছে আমি মাটিতে পরতে চাচ্ছি নাহ, তারপর আরো কয়েকজন এর ধাক্কায় আমি মাটিতে পরে গেলাম।

মাটিতে পরতেই দেখি আমার মাথায় একজন খুব শক্ত করে ধরে আছে আমি মাথাটা কিঞ্চিত নাড়াতে পারছিলাম নাহ। আমার শরীরে দেখি ৪ জন মানুষ চাপ দিয়ে ধরে আছে তাদের ভারবহন ক্ষমতাটা এতই ছিলো যে আমার ধম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।

১ মিনিট পরেই হুজুরের মুখ থেকে দোয়ার শব্দ বের হতে লাগলো, তখন স্পষ্টতই শুনতে পাচ্ছিলাম আমাকে একজন ব্যক্তির নামে কোরবানী দেওয়া হচ্ছে। দোয়া পড়া শেষ করতেই হুজুর তার বড় তলোয়ারটা আমার গলায় চাপ দিয়ে আগ-পিছ করতেই আমার চামড়া কেটে গলগলিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলো। আমার উপর ভার দেওয়া মানুষগুলো ও হুজুরের মুখ থেকে আল্লাহু আকবর ধ্বনি বের হচ্ছে। আমি তাহলে কোরবানীই হয়ে গেলাম।
একটা সময় রক্তশূন্য হয়ে গেলাম, ধীরে ধীরে আমার আত্নাটা দেহ থেকে বের হয়ে গেল।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আমাকে কোরবানী করা হলো। নিশ্চয় আমি আল্লাহর প্রিয় ছিলাম।
আমাকে কোরবানীর মাধ্যমে এই মানুষগুলোর আত্মা শুদ্ধতা লাভ করলো। আমি ধন্য। আমার মৃত্যুটাতো কোন কশাই বা বনের কোন হিংস্র জীবের হাতে হতে পারতো, কষ্টকর মৃত্যু হতে পারতো।

তাকওয়া অর্জন ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় না। একজন মুসলিমের অন্যতম চাওয়া হলো আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন। পশুর রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে কুরবানী দাতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :

﴿ لَن يَنَالَ ٱللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ ٱلتَّقۡوَىٰ مِنكُمۡۚ كَذَٰلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمۡ لِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٣٧ ﴾ [الحج: ٣٧]

‘আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে।
[সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭]

print

কমেন্ট করুন