চিঠি – ফারহানা কলি।

ফারহানা কলি
প্রিয় অরিন্দম,
আপনি করে ডাকার ভেতর যে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে তা আপনি নিজেই বুঝবেন ।
তুই , তুমি যাই ডাকার চেষ্টা করুন না কেন ফিরে আবার আপনিতেই আসবেন , এই আমি বলে রাখলাম ।
খুব ইচ্ছে থাকা স্বত্তেও আপনাকে লেখা হয়ে ওঠে না । জীবনের দেখানো পথটা আমার বড্ড পিচ্ছিল । দিনকে দিন মনে হয় তাতে শ্যাওলা পড়ে আরো পিচ্ছিল হয়ে উঠছে । জানি না কতোটা সহনীয় হবে আমার জন্য , তবুও আমি হারমানতে রাজী নই একদম ।
আপনি কেমন আছেন অরিন্দম ? বেশ কতো গুলো মাস পেড়িয়ে গেছে । জানতে যে ইচ্ছে হয় না তা কিন্তু মোটেও সত্যি নয় । ভীষন ইচ্ছে হয় জানতে , আমি খুব কৌতুহলী মানুষ কি না । তবে শুনেছি আপনি সমুদ্দুরে বেড়াতে গিয়েছেন । কেমন দেখলেন সমুদ্দুর ?
নোনা জলের স্পর্শে মনের দু:খ বিলীয়ে দিতে আমি কৃপণতা করি না । আপনার কথা জানতে চাই ।
আমাদের এখানে শীতের প্রচন্ড দাপট। চারিদিকে শ্বেত শুভ্র তুষারে থৈ থৈ করছে । তবে এই ধুসর সময় আমার চোখে ক্লান্তি এনে দেয় , তাই চেরী ফোঁটার অপেক্ষায় দিন গুনছি । বসন্তের এই গাছে গাছে ফুল ফোঁটার সময়টা অদ্ভুত সুন্দর । প্রতিটি গাছে হরেক রকমের শুধু ফুল আর ফুল কোন পাতা নেই । কি যে সুন্দর লাগে দেখতে । চারিদিক মৌ মৌ করে ফুলের ঘ্রাণে। গাছে গাছে ফুল ফোঁটা শেষ হলে সবুজ কচি পাতারা উঁকি দিতে থাকে ডালে ডালে। আমি প্রতৃতির এই সৌন্দর্যে বরাবর মুগ্ধ হই । দুই দশক ধরেই এসব দেখছি তবুও মুগ্ধতা কাঁটে না আমার ।
অরিন্দম জীবনটা বোধ হয় এমনি একবার কিছুতে মন বসে গেলে আর নিস্তার নেই ।মনটা অধিকতর অস্হির হলেই সব কিছু ফেলে একদিকে চলে যেতে ইচ্ছে করে । কিন্তু উপায় কি বলুন ? সংসার আর জীবনের মাপ কাঠিতে সব কিছু পই পই থাকা চাই । কোন একটা কম বেশি হলেই সব্বনাশ । বদনাম তো মেয়েদেরই বেশি হয় তাই না বলুন ?
ফিরতি চিঠি কবে লিখতে পারবো জানি না ।
ভালো থাকবেন অরিন্দম ।
ইতি ,
শতরূপা ।
পুন:শ্চ : কবিতা লিখা টা ছাড়বেন না কিন্তু ।
কলি
শতরূপা
০৩.০৪.২০১৯
নিউ ইর্য়ক।
print

কমেন্ট করুন