প্রিয়তমেষু- ফারহানা কলি।

প্রিয়তমেষু,
এক বসন্তের বিকেলে চিঠি খানা আমিও এই ভেবেই লিখেছিলাম যে ,বোশেখের আগুন ঝরা কোন দুপুরে তোমাকে গিয়ে চমকে দিবো।সাদা শাড়ী লাল পাড়, হাতে কাচের চুড়ির রিনিঝিনি শব্দে তোমায় মোহবিষ্ট করে বলব , কই গো আমার বেলী ফুলের মালা কই ?
বসন্ত চলে গেল কোকিলের কুহু কুহু মুহু মুহু ডাক শুনে চোখের কোণে জ্বালা ধরিয়ে ।তারপরও কতো বার ভেবেছি তোমাকে লিখতে বসবো । অথচ দেখো জীবনের উথাল পাথাল সময়ের দৌড়ে কখন যে আমিও নিজেকে খুব করে জড়িয়ে নিয়েছি বুঝতেই পারি নি । ঐ ভাবা পর্যন্তই রয়ে গেল চিঠিখানা।
এবারের বর্ষায় যখনই বৃষ্টি হতো ,আমার ঘরের একোণ ও কোণ বেয়ে জল গড়াত। আমি সেই জলে সিনান করে জুবু থুবু হয়ে এক কোণে বসে থাকতাম। আর মনে মনে ভগবানের নাম যপতাম।
ভাবতাম এ বুঝি আমার পাপের প্রাশ্চিত্ত হচ্ছে। তোমাকে দেয়া একটি কথাও আমি রাখতে পারি নি গো । বুকের ভেতর কান্না লুকানোর জায়গাটুকুও আমি কেড়ে নিয়েছিলাম। তাহলে কি আমার বেলীফুলের মালা পরার অধিকার রইল বলো ? রইল না ।
তাই হয়ত তোমার প্রতিক্ষার অবসান হোক এমনটিও আর চাই নি । তবুও তো জানলাম কেউ একজন আমার অপেক্ষার প্রহর গুনে বসন্তের আগমনী বার্তার কাছে রং বিলোয়।
ঘোর বর্ষার রাতে চোখের জলে বালিশ ভেজায় । বোশেখের কটমটে রোদ্দুর মাখা দিনে চিঠিখানা বুকে নিয়ে নোনাজলের ঘ্রাণ ছড়ায় ।
ইতি,
শতরূপা
মঙ্গলবার ,১৪ ই জুলাই ২০২০ ।