আঠারো টি বছর – ফারহানা কলি।

48206613_10217537201521253_6601734638010368000_n

আঠারো টি বছর
-ফারহানা কলি

কন্ কনে্ ঠান্ডা শীতের রাতে , দুজন মানুষ পাশাপাশি হাঁটি ।
হাতে ধোয়া উড়া কফির কাপ ।
একটু পর পর চুমুক দেয়ই ।
কারো মুখে কোন কথা নেই ।
মনে হচ্ছে অনন্তকাল ধরে হেঁটে চলেছি আমরা ।
এভাবেই হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে ফিরে তাকাই ,

তুমি কি কিছু বলছো ?
কই না তো কিছুই বলছো না ।
আমারই শোনার ভুল হয়ত ।
কিন্তু আমি দেখেছি , তুমি লুকিয়ে লুকিয়ে আমাকেই দেখছো ।

একটা মানুষ এতো ভালোবাসতে পারে,
তোমার চোখের দিকে না তাকালে, কেউ বিশ্বাস করবে না ।

আমিও না।

তারপর আবার নিরবে হাঁটি ,
নিরবে পাশাপাশি দু’জন হেঁটে যাই ।
কফিতে চুমুক দেয়ই ।

বিষাদের ভালো লাগা ছড়িয়ে ,
সুখ-দু:খ,হাসি-কান্নায় জড়িয়ে।
ভালবাসা-কষ্ট ,মায়া-মমতা,ঝগড়া-ঝাটি ,
করতে করতে পেরিয়ে গেছে আঠারোটি বছর।

আঠারো টি বছর !

আঠারো টি বছরে তুমি একটুও কি বদলেছো ?
তুমি কি জানো আমি কতোটা বদলেছি ?

মনে মনে ভাবি আর হাঁটি আমরা দু’জন ।

আমি তোমার সেই ছোট্ট লাল টুকটুকে বউ,
নীল রঙ্গের নীলাঞ্জনা ।
যাকে অন্য কোন রঙ্গে তুমিই দেখতেই চাইতে না।

আকাশের মতো উদাস মনে,
যার বুকের ক্যানভাসে ,
তুমি আঁকিবুকি করতে নিশিদিন।
যার চোখের তারায় তুমি মেলে দিতে,
প্রজাপতি হয়ে ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন ।
যার মন ভালো করার এক মাত্র খেলনা ছিলে তুমি।

আঠারো টি বছর !
তুমি কি জানো আমি কতোটা বদলেছি ?

এখন ঠান্ডা শীতের রাত গুলো খুব কষ্ট দেয় আমায়।
হাঁটুর ব্যাথাটা খুব বেড়েছে জানো ?
কোন ঔষুধেই আর কমছে না এবার ।

চশমার মোটা কাঁচ আরো মোটা হচ্ছে ।
গেল বছরই না নতুন করিয়ে নিলাম ।
অথচ দেখো,
ইন্সুরেন্সের অপেক্ষায় বসে থাকার সময় দেয় না শরীর।

ক’দিন ধরে সুগারটাও বড্ড ওঠা নামা করছে।
ইনসুলিন দু’বেলা খাওয়ার আগেই নিচ্ছি কিন্তু ।
একটু বেশি হাঁটলেই হাঁপিয়ে যাই আজকাল।

কাঁশির দমকে রাতের ঘুম কেঁটে যায়।
কোন কোন রাত নির্ঘুম পাহারায়,
সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকি অনবরত।

আঠারো টি বছর ?
আঠারো টি বছরে তুমি একটুও কি বদলেছো ?
তুমি কি জানো আমি কতোটা বদলেছি ?

০২.০১.২০১৯
হিল সাইড ,নিউ ইর্য়ক।

print

কমেন্ট করুন