আনীলা’র ডায়েরী- ফারহানা কলি।

আনীলা’র ডায়েরী।
০৩.১৫.২০১৯
শুক্রবার।
প্রায় এক মাস হলো মা’কে ফোন করি না। অন্যান্য সময় মাও কাউকে না কাউকে দিয়ে ম্যাসেজ পাঠায় নয়ত ফোন করে । কারো সাথে কথা হলে বলে আমাকে ফোন করতে । এবার মাও কোন খবর নেয় নি । এমন কি আমার ছোট মেয়ে সুহার জন্মদিনে ও কোন বার্তা পাঠায় নি । সুহা বারোতে পা রাখল । অন্যান্য হাজারো শুভেচ্ছা বার্তার মাঝে আমার চোখ শুধু ঐ একজন মানুষের বার্তাই খুঁজে চলেছে । কিন্তু না কোন শুভেচ্ছা বার্তা আসে নি । মন খারাপ হয়েছে আমার খুব ।
মনে মনে তাই রাগটা দিন দিন পাগলা ঘোড়ার মতো ক্ষ্যাপাটে হয়ে উঠেছে । মা’য়ের হাতে এতো ব্যস্ততা। আমার জন্য আমার সন্তানের জন্য দু’মিনিট সময় বের করতে পারছে না । কে জানে হয়ত ভুলেই গেছে আজ সুহার জন্মদিন । সুহা , মা আমি তোকে অনেননক ভালোবাসি। তোর জন্মটা আমাদের কাছে অনাহুত হলেও তুই আমার জীবনে দ্বিতীয় অমূল্য সম্পদ ।প্রথম হলো সুকন্যা। সুকন্যা আমার বড় মেয়ে ।সুকন্যা’র বয়স ষোল । সে এবছর একটা ফুটবল টিমে জয়েন করেছে । আজ তার লীগের প্রথম খেলা আছে । আজকের ইভেন্টে সে অংশগ্রহণ করছে । তাই সকাল থেকেই চলছে তার প্রস্তুতি । মাঝে এই সব দৈনন্দিন জীবনের দৌড় ঝাপে আমিও সব কিছু ভুলে থাকতে পারি।কিন্তু আবিরের সাথে চলে যাওয়া সময়কে ভুলে থাকা কঠিন । বারবার এসে মগজ কুঁড়ে কুড়ে খায়। যতোই দিন যাচ্ছে ততোই বেশি হচ্ছে ব্যাপার গুলো। আমি তাই আর ভুলে থাকার কোন চেষ্টা করি না। আবির আমার এক্স হ্যাজবেন্ড । পূর্ব পরিচিত হলেও তেমন একটা সক্ষ্যতা ছিল না আমাদের মধ্যে ।
আবির যে তার প্রথম প্রেমে হেরে যেয়ে আমার বুকে মুখ গুঁজতে চেয়েছে , সেটা আমি টের পাই বিয়ের ঠিক কিছু দিন পর । তখন সুকন্যা আমার পেটে ।মা হবার উল্লাসে পৃথিবীর সব কিছুই আমার কাছে খুব সুন্দর আর মায়াময় । আর আবির আমার ভেতর খুঁজে ফেরে তার ফেলে আসা দিনের অতীত। এক ধাক্কায় আমি আকাশ থেকে মাটিতে নেমে এলাম । মনে মনে দোয়া করলাম আমার পৃথিবীতে একটি সুস্হ্য সন্তান আসুক । আমি মা হবো । আমি মা হলাম । সুকন্যা’ আমার মেয়ে আমাকে মাতৃত্বের স্বাদে গন্ধে মোহিত করে দিলো । আমি অবিরের সব কিছু উপেক্ষা করে নিজের সন্তানের দিকে মনোযোগ দিলাম । আবির আমার সন্তানের বাবা । এটুকুই তার পরিচয়। এর বাইরে আমি আর কিছুই ভাবিনি। নিজের চলার পথ দুর্গম বুঝেও অনিশ্চিত জীবনের অন্ধকারে থম মেরে বসে রইলাম । যদি কোন আলোর দিশা পাই তার অপেক্ষায় । সুকন্যা আমার সেই আলোর দিশা । যার নূরের আলোয় আমি অন্ধকার ঠেলে জ্বল জ্বল করে জ্বলে উঠতে পাড়ি।