মনকথন- ফারহানা কলি।

স্মৃতি গুলো জমে জমে পাহাড় হয়ে ঢাল বেয়ে হয়ে নেমে চলেছে ,বুকের বা পাশের হৃদয় কুঠিরে অস্হিরতার শেকল পায়ে ।অজানা কিসের আহবানে লক্ষীচোরা মন আকু পাকু করে , ভর দুপুরে কোকিল ডাকে । এখন কি বসন্ত নাকি ?

গ্রীষ্মের লু হাওয়ায় ঘামে ভেঁজা মন হাহাকার করে । প্রশান্ত বাতাসে বসে পাল তোলা নৌকায় মাঝির দরাজ গলায় ভেঁসে আসে ভাটিয়ালি গানের সুর । মুহূর্তে মন উদাস হয় । সবুজ ঘাসের উপর আলতো করে হাতের ছোঁয়ায় দুলে ওঠে রাঙ্গা বধুর পায়ের মল। কোমর বিছায় রিনি ঝিনি শব্দে কৃষানের মন মাতাল হয় ।

সন্ধ্যা নামার আগেই ঘরের ফেরার জন্য মন উচাটান ।হেরিকেনের ডিমা আলোয় কৃষানীর মুখ দেখে দিশেহারা হয় রোজ রাতে জমির কৃষক । বুনো মহিষের মতো চাষ করে যায় সারাটা শস্য শরীর , অনাবাদী-আবাদী ক্ষেতে। ভোরের সোনারোদের ঝলমলে আলোতে আবার দেখা হয় সোনালী স্বপ্নের মাঠ । পাহাড়ের বুকে জমে থাকা স্মৃতি গুলো বুনে যায় আপন মনে , ঢালু হতে হতে সমতলের পথ খুঁজে । ঝর্ণার জলে মুছে যাওয়া পথ জলের সাথে মাখামাখি প্রেম করে । পিছলে যাওয়া সবুজ শ্যাওলাদের বুকের পাঁজর খুরে ।

 

০৬.২৯.২০১৮

print

কমেন্ট করুন