ঘরের কাজে সাহায্য করুন- ফারহানা কলি।

রোজার দিনে বাসার সবাই রোজা রাখবে এমনটাই নিয়ম । বয়ো বৃদ্ধ , শিশু কিংবা অসুস্হ্য হলে ভিন্ন কথা । সেক্ষেত্র কোরআন -হাদিসের আলোকে চলতে হবে । আমাদের দেশে রোজা দিনে বাসার সব কাজ কর্ম সেরে ইফতারি , রাতের খাবার , সেহেরীর খাবার সব একদম ঠিকঠাক মতো হতে হবে এমনটিও নিয়মের মতোই । তার সাথে আছে প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজ এবং তারাবীহ নামাজ ।

আমাদের সমাজের বিশেষ করে বাঙ্গালী মা,বউদের জন্য এতো সব কিছু করা কিন্তু মোটেও সহজ কাজ নয় । ঘরের বউটিও কিন্তু সারাদিন রোজা রেখে প্রতি ওয়াক্তের সকল ফরজ কাজ সম্পন্ন করছে। এই প্রচন্ড গরমে তাদেরকে কিন্তু ঠিকই মুখোরোচক হরেক রকমের ইফতারি বানাতে হচ্ছে স্বামী , শশুড়- শ্বাশুড়ি , সন্তানের জন্য । কিন্তু ঠিক একই সময়ে আপনি ইয়ারকন্ডিশান ছেড়ে বসে বসে টেলিভিশন দেখছেন ফেইসবুকিং করছেন আর খাবারের সময় হাত মুখ ধুয়ে সবার আগে প্লেইটা নিয়ে বসে গেছেন । রোজার দিনে ইফতার করা সুন্নত কিন্তু এমন ইফতার করতে বলে নাই যে ইফতার বানাতে বসে নিজের মা , বউ ঘেমে অস্হির হয়ে যাচ্ছে । অথচ আপনি একবার সহানুভূতি দেখিয়েও বলেন না আহা এতো গরমে এতো কিছু করার দরকার নাই। একটা কিছু দিয়ে হলেই হবে । তারপর যদি শ্বাশুড়ি কিংবা স্বামী লোকটি হয় কম জাত ( জাতের না ) তাহলে তো ঐ বউয়ের কপাল সারা জীবন পোড়া। মায়েদের ক্ষেত্রেও একি জিনিস হচ্ছে .. একজন মা আপনার এবং আপনার বাবার জন্য করছে ।মায়ের জন্য মাকে সাহায্য করুন । কিন্তু তা করছেন কি ? সারা দিন রোজা রেখে এই গরমে ইফতার বানানো , রাতের খাবার সেহেরীর খাবার রান্না করে ঐ মা কিংবা বউয়ের শারীরিক অবস্হা কি হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না ।হয়ত তিনি তারাবীহ নামাজ পড়েন ক্লান্ত-শ্রান্ত ঢুলু ঢুলু চোখে ।

আপনাদের এবং সবার জন্য বলছি রোজা মানে সংযম । এই রোজায় ঘরের মা এবং বউকে সুস্হ্যতার সাথে শান্তিতে রোজা রাখতে দিন । মা এবং বউয়ের কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন ।

আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে সুস্হ্যতার সাথে রোজা রাখার এবং নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুন । আমীন ।

print

কমেন্ট করুন