খারাপ ছেলে সুজন – কোহিনূর আক্তার ।

(ছোট গল্প)
অনেক দিন পর আজকে বাসায় এলাম
পালিয়ে থাকতে সবসময়।
ঠিকমতো ঘুমাতে পারি নাই,
কতোদিন বাড়ির খাবার খাই না।
মা ও মা , মা চলে গেলো আমার সাথে কথা বললো না
ও মনে পরেছে গতোবার মায়ের কানের দূল চুরি করে
পালিয়েছিলাম । তাই কথা বলছে না ।
ভাবি ও ভাবি , কি রান্না হয়েছে গো ?
তোমার পছন্দের খাবার।
আঃ কতোদিন মায়ের রান্না খাই না ,
কি ঘ্রাণ বেরিয়েছে।
রেনু ও রেনু,,,, ।
দাদা কখন এলি দাদা ?
এইতো এলাম , খুব ক্ষুধা পেয়েছে একটু খাবার
দে না বোন ।
বস দাদা ,
এই রেনু ,আমার পাঞ্জাবীটা কই রে ?
মা পুরে ফেলেছে দাদা !
কেনো রে ,
কানো জানিস না দাদা ,তোকে পুলিশ না পেয়ে
বাবাকে ধরে নিয়ে যায়, তার পর বাবা আর এলো
না এলো বাবার লাশ ।
দাদা, তুই ভালো হয়ে যা দাদা
তোর জন্য আমরা কেউ ভালো নেই ।
আচ্ছা বকবক করিস না ক্ষুধা পেয়েছে খেতে দে ,
জানিস রেনু , আমি কোনো কাজ করতে গেলেই
বাবা বলতো পারবি না ,পারবি না ।
মা বাবার উপর রাগ করতো ।
বাবা বলতো ,আমার ছেলে কাজ করবে না সে হবে
রাজা বাদশা ,আর আমি রাজা বাদশার বাবা ।
হা হা হা হা হা,
কোনো কাজ পারবি না পারবি না ,বলতে বলতে আজ
সত্যি কোনো কাজ পারি না ।
লেখা পড়া শেষ হলো । একবছর কতো জায়গায়
চাকুরির জন্য ঘুরলাম। হলো না কোনো চাকুরি ।
আমি সংসারের বোঝা হয়ে গেলাম।
মায়ের মুখের দিকে তাকাতে পারতাম না ।
মা কতো আর টাকা দিবে !
মা বাবাকে না জানিয়ে মায়ের ঔষুধের টাকাটাও দিয়েছে। আমি নিতে চাইতাম না,মা বলতো ধর নে বাবা
তোর একটা ভালো চাকুরি হলে তখন অনেক ঔষুধ কিনে দিস । সবসময় টেনশনে থাকতাম ,
এদিকে সুমির বাবা সুমিকে বিয়ে দিয়ে দিল ।
আমি পাগল প্রায় , তাই বন্ধুদের সাথে একটু নেশা করলাম। অনেক রাত হওয়ায় ,বাবায় দরজা খুলে দিলো । আমার মুখে মদের গন্ধ পেলো বাবা
তাই বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে খুব পিটালো ।
আমি রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম।
মা চিৎকার করে কাঁদছি, আর বলছিল যাস না বাবা।
যাস না ।
আমি সে রাতেই বাসা থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে
রাস্তায় গেলাম, ডাকাতি করতে ।
শালার বুড়াকে বার বার বললাম যা আছে বের করে
দে । বুড়া বলছিল না দেবো না ,বাড়িতে আমার জামায়
এসেছে যৌতুকে টাকা নিতে ,অনেক কষ্টে নালন পালন করা গরুটা আজকে বিক্রি করেছি ,তাকে দিবো বলে।
বুড়ার নাক্যামি কথা শুনতে ভালো লাগছিল না ।
তাই এক ঘুষি মারলাম , একঘুষিতেই শালার বুড়া মারা গেলো । আমি কি জানতাম বুড়া অসুস্থ ছিল ।
সেই থেকে আমি হয়ে গেলাম খুনি ।
খেতে দে না রে বোন ,
আচ্ছা বস খাবার আনছি ,
দাদা পুলিশ,
মা , তুমি অবশেষে ধরিয়ে দিলে মা ।
মারে তোমার এই খারাপ ছেলেকে একবার ভাত খাইয়ে
দাও না মা । শেষ বারের মতো একটু আদর করে দাও মা ।
মা চিৎকার করে কাঁদছে আর বলছে পুলিশ
ওকে নিয়ে যান ,নিয়ে যান।
সুজন পুলিশের গাড়িতে বসলো।
রেনু প্লেটে ভাত নিয়ে পুলিশের গাড়ির কাছে এসে বললো।
দাদা ও দাদা খাবিনে , হাত বাঁধা তো কি হয়েছে , হা কর
আমি খাইয়ে দেয় ।
সুজন অশ্রু সিক্ত মুখে একটু হাসি দিল ,
হাসিটা শেষ না হতেই পুলিশের গাড়িটা অনেক দূরে
চলে গেলো ।
২/৫/২০