আম্পান ( ছোট গল্প) -কোহিনূর আক্তার।

বাবাকে বললাম বাবা এবার ঈদে
সেমাই আনবে না ?
বাবা বললো,আমার মা খাবে আর আমি আনবো না
মহামারী করোনার জন্য ঘর থেকে বের হতে পারিনিরে মা , সমুদ্রেরর ঝিনুক কুঁড়িয়ে বিক্রি
করে, কয় টাকা হয়
তা দিয়ে কোনোভাবে দিন চলে যায়। তবুও পুলিশ সেনাবাহিনী খালি দৌড়ায় । লুকিয়ে লুকিয়ে কুঁড়াই ঝিনুক, ঝিনুকের খাঁচাটাও ভরে নারে মা ।
আচ্ছা বাবা , পোলাও বিরিয়ানি খেতে
খুব মজা তাই না বাবা ?
হ রে মা, খুব মজা ।
বাবা বকবানাত,
না মা বল
বাবা সেদিন সন্ধ্যাদির সাথে ঐ পাড়ে গিয়ে কিছু প্যাকেট জলে ভাসছিল দেখতে পেলাম।
খুলে দেখি কিছু বিরিয়ানি প্যাকেটের ভিতরে ছিল
মুট করে মুখে দিলাম ,কি যে মজা বাবা ,তবে একটু নষ্ট
হওয়ায় গন্ধ গন্ধ লাগছিল ।
মা তুই একি করেছিস, ওগুলো তো বড়লোকদের ঝুটা
খাবার রে মা অসুক হইলে কি হবে বলতো
তোর মাটা উপরে চলে গিয়ে বেঁচে গেছে ।
আর যাবো না বাবা ।
বাবা ও বাবা হা হা হা হা
হাসছিস কেন রে মা
এই যে তুমি ছেঁড়া পাঞ্জাবীটা আবার সেলাই করছো
একই জায়গায় বারবারই সেলাই করছো ।
ওরে পাগলি মা , সমুদ্রের একটু ঝিনুক কুঁড়াতে যাই
ঈদের সময় পুলিশ সেনাবাহিনী কিছু করবে না ।
আচ্ছা বাবা মা আমাকে আদর করতো
হ রে মা খুব আদর করতো ,তোর সারা শরীরে
ঝিনুকের মালা পড়িয়ে সাজিয়ে দিতো ।
বলতো, একদিন আমার মেয়েটি এই ঝিনুকের
মালা সব হীরার মালা হবে ।
আরও কতো কি বলতো ,হাসতো ।
বাবা ও বাবা আমাকেও নিয়ে যাও ঝিনুক কুঁড়াতে
নারে মা জেদ করিস না সমুদ্রের আম্পান নামক
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হতে পারে ।
তোকে নিয়ে বিপদ হবে ।
তুই বাড়িতে থাক ,
না বাবা নিয়ে যাও না বাবা ,আর কোনোদিন যেতে চাইবো না ।
ঠিক আছে চল।
মনা বাবার হাত ধরে ঝিনুক কুঁড়াতে গেলো ।
আজকে অনেক ঝিনুক বাবা। এই বলে মনা দৌড়ে দৌড়ে ঝিনুক কুঁড়াতে কুঁড়াতে বেশ কিছু দূরে চলে গেছে
বাবা ডাকছে দমকা হাওয়া ও শো শো শব্দে বজ্রপাত হচ্ছে। মনার বাবা ডাকছে , মনা ও মনা ঝড় উঠেছে অন্ধকার হয়ে এলো দৌড়ে আয় ।
আমার হাতটা ধর । ইতিমধ্যে আম্পান ঘূর্ণিঝড় প্রবল বেগে আসমান জমিন এক করে ফেললো। মনা চিৎকার
করে বললো বাবা তুমি কোথায়। আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না বাবা । মনার বাবা দিশেহারা হয়ে পড়লো ।
মনার বাবা অন্ধকারে চিৎকার করে ডাকছে এই তো
আমি ,তুই কোথায় মা ?
প্রকট ঝড়ের মধ্যে মনার কন্ঠ ভেসে এলো বাবা , বাবা,
মনে হলো অনেক দূর থেকে মনার কন্ঠ ভেসে এলো ।
মনার বাবা ঘূর্ণিঝড়ের জলচ্ছ্বাসে ভেসে গেলো ।
ভোর হলো, ভেঙে যাওয়া নারকেলের গাছের ভিতর
বালির মধ্যে ডুবে আছে মনার বাবা ।
আবছা আবছা আলোতে চোখ খুলে মনা মনা করে
চিৎকার করে ডাকছে , বেশ কিছু দূরে মনার নিথর শরীরটা পেলো ,মনা ও মনা সেমাই খাবি না মা ।
মনার বাবার আত্মার চিৎকার যেনো সাগরে প্রতিধ্বনিত
হলো বার বার হাজার বার ।
আম্পান যেনো অনেক আয়োজনে মনাকে নিতে
এসেছিল।।
২৬/৫/২০
___________________________________________
আমার এই ছোট ”গল্প,, লেখাটি সমুদ্রের পাড়ের মানুষদেরকে উৎসর্গ করলাম।
———————————————————————-