তোমাতে বিলীন -কোহিনূর আক্তার।

তোমাতে বিলীন
-কোহিনূর আক্তার


কলি,কলি ,
আমাকে থামিওনা কাজল !
তাহলে আমার প্রেম ?
অমাবস্যার চাঁদ তো নিশির দেহ চর হয় না কাজল।
না না আমি মানি না কলি আমি বড় ভালোবাসি তোমায়।
এ অধরা জারণের ঠুনকো প্রলয় মাত্র কাজল।
তাহলে আমার এই আসমান জমিন থরথর কাঁপিয়ে
ওষ্ঠদ্বয়ে ওষ্ঠ বিলীন, নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে মৃদুস্বরে তোমাতে ধ্বংস হতে চাই । স্পর্শের যুদ্ধে আমাকে
বিলীন করো ।ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে আমার বক্ষদেশ যে প্রেম লিলায় মত্ত তুমি,তাও কি মিথ্যা ?
প্রত্যাশার ঢেউয়ে আমার জন্ম কূল ধরার আধিপত্য কেবল
তোমার স্পর্শে ডুবে গেছে, তা কি মিথ্যা অভিনয় নাকি প্রত্যারণা ?

সত্যি , তবে ক্ষণস্থায়ী কাজল !
আমাকে প্রেম সন্ন্যাসী করে ?
কলি তোমার ঐ আঁখিতে জল মাখা কাঁদা আমি
কখোনো প্রেমিক, কখোনো ঠাকুর ,কখোনো বিধির
হস্তে নির্মিত মৃত্তিকা। যখন যা ইচ্ছে করেছো ।
এ কি শাস্তি, নাকি জীবনের ধার্য ইতিহাসের পরামপরা বলো কলি ? কলি, কি করে তুমি ছাড়া আমি বাঁচি।
আমি যে তোমাতে বিলীন।

আমি তো বিধির চরণ দাসী কাজল ,
যুগের পরে যুগ আমার আবির্ভাব ধরার পরে ।
সন্ন্যাসী জীবন এ আমার বিধিরলিপি ।
আমি কারোর বদ্ধ ঘরে দিবা নিশি মোহিত
লীলায় প্রেম যোগিনী নই ।
এই জীবনে সময় যে ধার্য কাজল ।
তাহলে কে তুমি ?
বলো কলি বলো ,কে তুমি ?
মানবী নাকি, সন্ন্যাসী, নাকি আমার সর্বনাশী !
মনো-অরণ্যে রোদন আঁকা জলে আমার প্রেম ভেসে
চলেছে । তুমি তরী হয়ে একবার হৃদয় চত্ত্বরে কষে রাজত্ব করো কলি ,আমি যে তোমাতে বিলীন।

দিবার আলোতে সমস্ত রঙের বাতি অকেজো
কাজল ।আমি যে তোমারই রঙবেরঙের তৃষ্ণার্ত
প্রেম বাতি । যা দিবাতে বিলীন কাজল ।

এতো ফিস ফিস করে বলোনা কলি আমার কর্ণ আহত, জ্বলছে এ হৃদয় জ্বলছে জীবনের প্রেম দাসী শুধু তোমার দাসী কলি । নির্লিপ্ত নীরবে নিভৃতে একাকার
হয়ে যাও শরীরে শরীর,আমার প্রেমে গড়া ঘরে ।
আমি যে তোমাতে বিলীন।

কাজল ! অশ্রুশিক্ত আঁখি এ বড় অবোলা
জীবনকে ধার্য করো প্রেমো ইতিহাসে।
আমাকে খুঁজ তোমার শরীরে আমার স্পর্শে
অনুভূতি ঐশ্বরিক সুখে ।
আমি তোমার জীবনের নীল রঙের ধোঁয়া
যা ঐ অমরত্ব বায়ুতে বিলীন ।
বিদায় কাজল ,,বিদায়।

৮/৫/২০