ভালোবাসার প্রস্তাব – কোহিনূর আক্তার।

kohinoor akter

ফারুক 1

মধ্যাহ্নে ঠান্ডা ঘর জানালার পর্দা গুলো টেনে দেয়া
ফ্যানটাও চলছিল কপালের ছোট ছোট চুল গুলো
বারবার উড়ে কপালে পড়ছে 
কম্বলটা আধ শরীরের তাতেই আমি ঘুমে বন্দী ,
হঠাত্ ফোনটা বেজে উঠলো
চোখ না খুলে হ্যালো ,
কেমন আছেন
ভালো আছি
কে বলছেন
হা হাহা কোহিনূর বলছেন
হুম
সুন্দরী নূরানী চেহারার কোহিনূর
কে বলছেন
আমার নাম ফারুক
আপনার কাছের মানুষ
সরি
জানি আপনি ঘুমাচ্ছেন
এই বলেই লাইন কাট,
কে ফারুক ,এই নামে কাউকে চিনিনা
আমার কোনো বন্ধুও নেই ।
আবার ঘুম ,,
নাকের কাছে চায়ের সুবাস উ,,হু নড়েচড়ে
আর ঘুম হলো না ।
উঠে চায়ে মুখ দিয়ে মনে পড়ে গেলো কে এ ফারুক

ফারুক 2

বিকেলে আমার লাগানো সবজি খেতে হাঁটছিলাম ,
ফোন ,
হ্যালো
সালাম দিলে নিতে হয় ,
কে বলছেন
প্রতিবার পরিচয় দিতে ভালোলাগে ?
ঠিক আছে বলেন কে আপনি
শুনেছি কবিরা উদাসীন হয় তাই বলে এতোটাই
উদাসীন হবে !
আমি ফারুক
আমি মনে হয় আপনাকে বিরক্ত করছি
তা তো করছেন
নাম নেই পরিচয় সঠিক জানিনা
বার বার আপনার ফোন কেনো ?
কি চান আপনি ?
শুনেছি আপনি অনেক সুন্দরী আর অনেক অহংকারী
হা হাহা
হাসলেন যে
আমি সুন্দরী কি না তা জানিনা তবে আমি
অহংকারী নই ,
তাহলে সহজে মেসেজের উত্তর দেন না কেনো ?
তা আমি আপনাকে বলতে বাধ্য নয় ,
তাহলে স্বীকার করছেন আপনি অহংকারী
সরি ,,,
আপনি কেনো ফোনে আমাকে বিরক্ত করেন
কিছু বলতে চান ?
হ্যাঁ বলতে চাই
বলেন
আমি আপনাকে ভালোবাসি
এ তো প্রতিদিন আমাকে শুনতে হয় কারো না
কারো
মুখে ,
কবি কোহিনূর আক্তার আমি আপনাকে খুব বেশী
ভালোবাসি
ভুল করছেন
ভালোবাসি শব্দটা আমার মেমোরিতে ছেট নেই
এ ছাড়া আমি কেনো আপনাকে ভালোবাসতে
যাবো আপনাকে চিনিনা জানিনা ,,
তা ঠিক তবে চিনে নেন ,অনুমতি দিলে সামনে এসে বলতে পারি ভালোবাসি,
সরি, আপনার সাথে কথা বলার মতো রুচি
আমার নেই।
তা বুঝতে বাকি নেই ,
প্রিয় কবি আপনি কেনো সংসার বিচ্ছেদে প্রথম নায়িকা
হলেন ?
আবার প্রেমেও বিচ্ছেদ ঘটল কেনো ?
এই শুনুন আমার একান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করার
অনুমতি আমি কাউকে দেয়নি
আসা করি আর কখনো ফোন দিয়ে বিরক্ত
করবেন না ।
আমার ফোনটা ধরবেন জানি
আর মেডাম বেশী রাগলে আপনার গালদুটো গোলাপি
হয় । আমার অবশ্য ভালোই লাগে ।
কি ?
সরি কাঁদবেন না পাশে আমি নেই যে পাঞ্জাবী দিয়ে চোখের পানি মুছে দিবো ।
এবার সত্যি আমি খুব রেগে যাচ্ছি ,
ওকে ভালো থাকবেন ,
আমার ফোনটা আপনার জন্য অপেক্ষা করবে কবি !!

ফারুক 3

দোলনায় বসে কফিতে চুমুক
ফোন 
হ্যালো
কে ?
কেনো আবার পরিচয় দিতে হবে
কন্ঠস্বর কি অপরিচিত লাগছে ?
আপনি ফারুক
হ্যাঁ ফারুক
নাম্বার চেঞ্জ করেছেন ?
আচ্ছা তাহলে চোর সাজলেন তো ?
আমার ফোন নাম্বারটাকে আপনি ডেট করেছেন কবি ,
তাই এই নাম্বারে আপনাকে টানলাম ।
আপনি কি ভাবেন আমাকে বলেন ?
সুন্দরী অহংকারী সম্রাজ্ঞী
আর কিছু বলবেন আমার মাথা ধরেছে
জানি আপনি উত্তর দিতে না পারলে মাথা ধরেছে
বলে এড়িয়ে যান ।
তো ?
আজকে আপনার সবজি বাগানে ঘাস তুলেছেন
আর হাতে মস্ত বড় ঠোসা পড়েছে ,
কে বলেছে এসব
যাকে ভালোবাসি তার খোঁজ রাখবো না ?
আচ্ছা কবি এসব কি মানুষকে দেখান
নাকি সত্যি সত্যি এতো কাজ করতে পারেন ?
সরি ,
আমি ঘুমাবো
আর একটু সময় দেন কবি
আচ্ছা আপনার প্রতিটা কবিতায় প্রেমের ছোঁয়া
দেখতে চেহারাটা অবুঝ বালিকার মতো ,
কিছু বোঝে না ।
কিন্তু বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও নেই আপনি একটু মধুর
মতো মিষ্টি করে কথা বলতে পারেন না ,
সব সময়ই ঝাঝালো কন্ঠস্বর কেনো ?
ঠিক ধরেছেন আমার জন্মের সময় ঘরে
কোনো মুধু ছিলনা তাই সরিষার তৈল মুখে
দিয়ে ছিল এই জন্যই কর্কশ আওয়াজ খালি
গলা দিয়ে বের হয় ,
হা হা হা হা হা হা হা তাই,সে সময় আমাকে জানালে
আপনার মুখে দেয়ার জন্য মবিল এনে দিতাম
তাহলে কথার আওয়াজ হতো গানের ফিতা টানার মতো , তাহলে আমি কিচিমিচি কথা বুঝতাম না আর কষ্টও পেতাম না।
আর কিছু ,,,?
আর একটু আমি না আপনাকে সব সময় দেখতে পাই
সয়নে স্বপ্নে জাগরণে ,,,আঃহা কি দেখতে আপনি
কি আমাকে সব সময় দেখতে পান
হ্যাঁ মিথ্যা বলতে যাবো কেনো
আমি সারাদিন কি করি না করি ছোট রুম
বড় রুম সব দেখেন ?
হ্যাঁ ,,,,,,
ওহ মাই গড 

ফারুক 4

হ্যালো,
কি মন খারাপ ?
আমি বলেছি ?
না বলেননি তবে ভাবে বুঝতে পারলাম,
এখন তো ফলের সময় আমা জাম কলা লিচু
নটকো পাঠাবো এক পিচ করে ।
ছোট লোক
বলতে পারেন,তবুও আপনার চেয়ে দু ইঞ্চি লম্বা হবো,
ম কথা বলবো ?
এখনো বাকি আছে কিছু বলার ?
আছে মেডাম আছে জীবনের সংঙ্গা
জীবনের শূন্যতা কষ্ট আর কতোটাই প্রাপ্তি
এ জীবন জীবনের কাছে ! তা কি এ জীবন বোঝে মেডাম !
বেশ তো , আমি কি করতে পারি ,
হা হা হা হা হা হা হা আপনি কবি, সাহিত্যেই যার বেঁচে
থাকা সে বোঝে না জীবন কি ?
আমি ব্যস্ত আছি
জানি কবি জানি তবুও আমার কথা বলতে ইচ্ছে করে
আমার কিছু কথা আছে কবি
তা আপনাকে বলতে চাই ,
বলেন ,
কবি আমি ফারুক ,
আমার বাবা মারা যাবার সময় আমার বয়স ছিল এক বছর ,কিছু দিন পর মায়ের আবার বিয়ে হয়ে যায়
আমাকে ঐ লোকটা মায়ের সাথে নিতে রাজী না হওয়ায় ,আমাকে আমার দিদার কাছে থাকতে হয় ।
খুব একা লাগতো দিদা বুরো মানুষ তাই ঠিক মতো আমার দেখভাল করতে পারতো না ।
এ ভাবেই চলছিল অবহেলিত জীবন ,
আমার খেলার সাথিদের সবার বাবা মা ছিল
তারা কতো কি কিনে খেতো ,
তাদের বাবা মা অনেক আদর করতো
আমার না খুব দেখতে ইচ্ছে করতো আমার মাটাকে
মাটিতে ধুলোয় বসে কাটি দিয়ে মাকে আঁকতাম আর মা মা বলে কতোবার ডাকতাম
কিন্তু ধুলোয় আঁকা মায়ের ছবি কি কথা বলে কবি !
দিদা এসে অনেক মারলো আমাকে মরা এখুনি গোসল করে দিলাম আর তুই ধুলোর মধ্যে বসে আছিস
আজ তোর একদিন না হয় আমার একদিন ,
খুব লাগছিল দিদার কঞ্চির পিটুনি গুলো ।
ফুপিয়ে ফুপিয়ে অনেক সময় বসে কাঁদলাম
আর কখনো মাকে ডাকবো না ।
সোজা নয়ন দীর্ঘিতে চলে গেলাম একা একা

 

[চলবে ]
print

কমেন্ট করুন