কাশফুলের সাদা পরী।
কাশফুলের সাদা পরী।

কাশফুলের সাদা পরী।

পশ্চিম আকাশে সূর্য যাওয়ার পূর্বক্ষণে কাশবনে ভিড় বাড়ে দর্শনার্থীদের। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে যায়, কেউবা প্রিয়তমাকে নিয়ে।
হালকা বাতাসে কাশফুলের দোলের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয় তারা। কেউবা সেই অনুভূতিগুলোকে ক্যামেরায় ফ্রেমবন্দি করে।
কাশফুলের গন্ধ নেই, কাশফুল প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়ার ফুলও নয়।
তবে কাশবনের কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা।
কাশফুল এর রোমাঞ্চতায় কবি তার ভাষায় বলেছেন ঃ
শরৎ সেজেছে কাশফুলে
থরে বিথরে বালুচরে!
সাদা মেঘের শতদল উড়ছে
অপরূপা নীলাম্বরে!
নদীর তীরে কাশফুলের কমল-ধবল রূপে জ্যোৎস্না-প্লাবিত রাতে জাগে স্বপ্নের শিহরণ।
রূপসী বাংলার রূপ সাগরে শরতের রূপ যেন আকৃষ্ট করে সবাইকে।
শুভ্র ফুলের সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে এদিক-ওদিক। তুলতুলে পালকের মতো কাশফুল শহুরে ক্লান্তজীবন ভুলিয়ে মনে এনে দেয় স্নিগ্ধতা।
কাশপ্রকৃতিতে বৈকালিক সময় কাটানো বেশ উপভোগ্য। কাশফুলের সুবাদে শরৎ ঋতু হয়ে ওঠে প্রকৃতিরানী।
আসবে শরত, ফুটবে ফুল, হবে না এক ফোঁটা ভুল। নদী তার শেষ জলটুকু দিয়ে যেমন কাশবনকে আবার জাগিয়ে তোলে,
কাশবন তেমনি তার অবারিত সৌন্দর্য দিয়ে নদীকে করে রূপ-লাবণ্য।
রবি ঠাকুরের কথায়,
‘শরত-আলোর কমলবনে
বাহির হয়ে বিহার করে যে ছিল মোর মনে মনে॥
তারি সোনার কাঁকন বাজে আজি প্রভাতকিরণ-মাঝে,
হাওয়ায় কাঁপে আঁচলখানি- ছড়ায় ছায়া ক্ষণে ক্ষণে॥’
শরৎ মানেই যেন আকাশ আর মাটির মেলবন্ধন। ঘন সবুজ কাশের বনে আকাশের কয়েক টুকরো মেঘ যেন উড়ে এসে কাশফুল হয়ে ফুটে থাকে।
কাশফুল কেবল প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না। কাশ ঘাস শুকিয়ে গ্রামদেশে মাদুর, ঘরের বেড়া ও ঘরের চালার ছাউনি তৈরি হয়। এছাড়া কাশবন থেকে পাওয়া খড় ও ঝাটি পান-বরজের জন্যও ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে অনেক জায়গাতেই কাশ খড় দিয়ে পান-বরজের ছাউনি তৈরি হয়। এছাড়াও পান-লতাকে উপরে উঠতে কাশফুলের শলার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। মীর চ্যাপ্টার বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত বাংলা ব্লগ সাইট। মীর চ্যাপ্টার ব্লগে আপনিও সামিল হতে পারেন। মীর চ্যাপ্টার ব্লগে লিখুন । মীর চ্যাপ্টার ব্লগে আপনার লেখা পাঠাতে মেইল করুন : Info@mirchapter.com