কোটা বৈষম্য দূর কর, নইলে বুকে গুলি কর।- জাহাঙ্গীর আলম।

received_2053888698217999
কি পেলাম আমরা, জামার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের মধ্যে- তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি।”  -বঙ্গবন্ধু
কিছু মনে পড়ে কি জনগণ? হা হা হে হে!
উপরের কথা গুলো আরেকবার পড়েন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এ উক্তিটি করেছিলেন আমাদের স্বাধীনতার জন্য, আজ ৫০ বছর পর উক্তিটি দারুন ভাবে মিলে গেছে এমন বাংলাদেশ’ই কি তিনি চেয়েছিলেন? 
আরো একটা ঐতিহাসিক কথা আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই,  তা’হলো – ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের প্রস্তাবে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন- 
“মূর্খের দেশে কিসের বিশ্ববিদ্যালয়? তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে পারেনা”
তিনি একথার মাধ্যমে কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করেছেন তা আমার বোধগম্য নয়। কিন্তু ৮ই এপ্রিল ২০১৮ তে এসে কোটা সংস্কারে আন্দোলনে পুলিশের এহেন হামলা দেখে কবি গুরুর এই কথাটির তাৎপর্য একটু হলেও পরিষ্কার হলাম।
আফসোস, সময় বদলেছে, সমস্যা বদলায়নি। তখনও রক্ত ঝরছিলো, আজও রক্ত ঝরছে! রক্তের রঙ লাল। আগের মতই, তবে আন্দোলনের সূচনা পাল্টিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন আন্দোলন নেই যেখানে আন্দোলনকারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের বিপরীতে ফুল হাতে আন্দোলন করেছে এবং আন্দোলনে বাধা দিতে আসা ফৌজদের আঘাতের পরিবর্তে ফুল দিয়েছে, সত্যি এমন ঘটনা আমার অজানা। 
কিন্তু ফৌজ কি করলো!   রক্তারক্তি! 
কেউ বলে কোটা থাকতে হবে, কেউ বলে মানি না। সাধারণ জনগণ বলে, আমরা এসব জানি না! ক্ষিধা লাগলে ভাত চাই, পরার জন্যে কাপড় চাই। সাথে একটু নিরাপত্তা। ব্যস!
-সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একেক দপ্তরে কোটা পদ্ধতি একেক রকম। কোটা ব্যবস্থা থাকবে কি থাকবে না অথবা থাকা উচিৎ কি না-সেটা নিয়ে কথা বলছেন তিন কোটার লোক।
১. সুবিধাভোগী
২. সুবিধাবঞ্চিত
৩. বিজ্ঞজন
আমরা যারা এই তিনের কোনো কোটাতেই পড়ি না, আমাদের ভাবনা কী?
সমাজের সেই অংশ, যারা সকালে ঘর থেকে বেরো’য় কাজের সন্ধানে। সে জানে না কোথায় তার জন্য একটু সুযোগ আছে খাঁটুনির। এদের জন্য কোথাও কোনো কোটা পদ্ধতি নেই! কাজ পেলে খাও, না পেলে না খেয়ে থাকো। আফসোস! নির্বাচনের আগে হাতেগোনা কয়েকদিন ছাড়া এদের জন্য ভাববার সময় থাকে না সেই তাদের, যারা মানবতা আর দেশপ্রেমের মৌসুমি স্লোগান দিতে দিতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন!
রমযানের প্রথম সকাল রক্তাক্ত হল কোটা পদ্ধতির কারণে। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রথম শ্রেণির চাকরিতে ৫৫ শতাংশ নেয়া হয় বিভিন্ন কোটা থেকে, আর ও ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে। যারা ভাবছেন, কোটা পদ্ধতি উঠিয়ে দেয়া দরকার, তাদের কথা হচ্ছে, এতেকরে মেধার অবমূল্যায়ন হয়। তুলনামূলক কম মেধাবী বা অযোগ্যরা সুযোগটা পেয়ে যায়। 
আবার কোটা পদ্ধতির পক্ষেও একশ’ এক যুক্তি দাঁড় করানো যায়। উদাহরণ দিই-
বিসিএস ক্যাটাগরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ ও উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ। এখানে অনেকগুলো ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এতো আলোচনা করে কি হবে? কিছু হবার নয়।
পরকথা,
পুলিশবাহিনী দ্বারা এদেশের মেধাবীমুখদের সেই দিন তথা ১৯৫২সালেও হামলা করা হয়েছিল, আর আজকের এইদিনে তারই পুণরাবৃত্তি ঘটলো আরেকবার । এবার দেখার পালা ২৫ শে মার্চের সেই কালো রাত্রির পূণরাবৃত্তির চিত্র । পুলিশ সহ সরকার প্রধানরা তখনও বিপক্ষে অবস্থান করেছিলো,আর আজও তাই।
মানুষ তার পৈচাশিক বৃত্তি ভুলে গেলেও ইতিহাস কখনো ভুলতে পারেনা,তাই আদীমতা আবার মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠেছে,ইতিহাস আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বাকি কথা গুলো কবিতার ভাষায় বলতে চাই-
|| কবিতা : কোটা থেকে মুক্তি চাই
বায়ান্ন দেখিনি, একাত্তর দেখিনি,
দেখিনি তাদের দুঃশাসন।
সময়ের ব্যবধানে দেখিছি কত,
স্বজাতীদের হিংস্র আচরন।
বৈষম্যতার বেড়া জালে আজ,
নিষ্পেষিত জাতী।
কোটার পতি শাসক শ্রেণির,
এ কেমন প্রীতি!
কোটা নামের দানব প্রথা
গিলে খাচ্ছে মেধার মাথা।
যোগ্য যায়গাই অযোগ্যরা
স্বাধীন দেশ স্বাধীন জাতী
তবু কেন এই দানবীয় প্রথা?
করুনা আমি চাইনা কারো
চাই আমদের অধিকার
বঞ্চিতরা জেগে উঠো
আনত চিনিয়ে স্বাধীকার
               সমাপ্ত ||
কোটা পদ্ধতি সংস্কার চাই,
আমার মতে শুধুমাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী, উপজাতি(আদিবাসী) আর তৃতীয় লিঙ্গ(হিজড়া) দের কোটা সুবিধে দেওয়া উচিত, এরা সমাজে বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ হচ্ছে এবং পিছিয়ে আছে।  আর বাদবাকি গুলো সংস্কার করা হোক। আমরা কোটা বাতিল বলতে কোটার নিষ্পত্তি নয় সংস্কার চাইছি।
 মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই সম্মান দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু নাতী পুতি পর্যন্ত কেন এ সুবিধা দেয়া হবে? প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদাণ সহ তাদের সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়িয়ে দেয়া হোক। কিন্তু কোটা সুবিধা আর নয়। 
সবজায়গায় বাপ-চাচা-দাদার চৌদ্দ পুরুষের নাম ভাঙ্গিয়ে খেতে চাওয়া লোকগুলাকে আমার কাছে মেরুদণ্ড হীন একরমক সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী মনে হয়। সরীসৃপরা বুকে ভর করে চলে, আর এরা কোটায়।
আরো যদি মুক্তিযুদ্ধাদের কোটা সুবিধে দিতে চান তবে কোটায় চাকুরি নয়, কোটায় পড়ালেখার দায়িত্ব নিক রাষ্ট্র। তারপর তারা মেধাতালিকায় নাম লেখাতে সাধারণদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামুক। রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য জাতীয় শহীদদের পরিবারকে মাসিক ভাতা ১০ হাজারের পাশাপাশি ব্যবসার জন্য ১০ লাখ টাকা বন্ধক বিহীন লোন দেয়া হোক। এরপর তারা তাদের বাকিজীবন গড়ে নেবেন। আমি চাই পূর্ণ মেধাবীগণ রাষ্ট্র চালাক। কোটার কারণে মানসিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামো হয় নড়বড়ে।
তাই আমাদের স্লোগান হল –
|| কোটা স্লোগান
একাত্তুরের হাতিয়ার,
গর্জে উঠুক আরেকবার।
আমরা দিয়েছি ফুল,
ওরা করলো বুকে হুল।
উড়ছে পাখি দিচ্ছে ডাক,
এক পাক্ষিক কোটাপ্রথা নিপাত যাক।
যুদ্ধ হবে আরেকবার,
করবো কোটা সংস্কার।
ছেড়ে দে মা আন্দোলন করি,
লড়াই করে বাঁচতে জানি।
চাকরি নয়তো বুলেট দে,
বেকার হতে মুক্তি দে।
মেধাবীদের কান্না,
আর না আর না।
আমার দেশ আমার মা,
বৈষম্য মানি না। 
কোটা বৈষম্য দুর কর,
নইলে বুকে গুলি কর। 
          সমাপ্ত ||
তাই বলছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, 
চলমান কোটা-সংস্কার আন্দোলন বর্তমান সরকারকে কোন বেকায়দা অবস্থায় তো নয়ই, উল্টো শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় করে তুলতে পারে আপনাকে।
শুধু সময়োপযোগী একটি সঠিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। 
নির্বাচনের বছরে যৌক্তিক দাবিতে এমন একটি গণ-আন্দোলন পাওয়া যে কোন গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য রীতিমত ভাগ্যের ব্যাপার। 
ধামাধরা কিছু গোপাল ভাঁড়কে রামচড় দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলেই বিষয়টা আপনি পরিষ্কার দেখতে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।
print

কমেন্ট করুন