বসন্ত হয়ে এসেছিলে তুমি- ইফতেখার হুসাইন সাকিব।

IMG_20190505_213313
সময়টা বসন্তকাল ছিল। সেদিন ছিল বসন্তবরণ। বসন্তের হাওয়া যখন বইতে শুরু করেছে। সবাই ব্যস্ত বসন্তকে বরন করতে, কোকিল ডাকছে গাছের ডালে বসে, একমুঠো রৌদ্দুর গাছের ডালের মধ্য দিয়ে উঁকি মারছে। ফাগুনের এই দৃশ্য উপভোগ করার জন্য পার্কে বসে ছিলাম। অনেকেই আসছে যাচ্ছে। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছি কিশোর-কিশোরীদের। যে যার মত করে সাজিয়ে এসেছে। যেন বসন্ত ওদেরকে বরন করে নিচ্ছে। ওদিক থেকে চোখ ফেরাতেই নজর পড়ল বছর পনের বা ষোল’র কৌঠায় থাকা একটি লম্বা চুলওয়ালি মেয়ের প্রতি। দেখেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছি। চেয়েই আছি চোখের পলক পড়ে না।
ইয়া লম্বা চুল, খোঁপায় গোলাপ আর বেলীফুল, কানে লম্বা লম্বা দুল, পরনে হলুদ-কমলা রঙের মিশ্রিত শাড়ি। চোখ যেন নামছেই না। মেয়েটি সামনে দিয়ে যেইই চলে যাচ্ছে আমিও সাথে সাথে বসা থেকে উঠে পিছু নিলাম। যেতে যেতে পার্কের অবকাশ পর্যন্ত। মেয়েটিও বুঝতে পেরেছে যে কেউ একজন তাকে লক্ষ্য করছে। মেয়েটির সন্দেহ এড়াতে গাছের আড়াল হয়েছি। একটুপর সামনে এসে দেখি মেয়েটি নেই। হঠাৎ করেই পলকের মধ্যেই হারিয়ে ফেললাম মেয়েটিকে। অনেক খুঁজেছি কিন্তু মানুষের ভীড়ে সেদিন আর খুঁজে পাইনি। বসন্ত খুঁজে পেয়েও পেলাম না। মেয়েটিকে অনেক খুঁজলাম। আমার সাধ্যের ভিতরে সব যায়গায় খুঁজেছি। সোশ্যাল মিডিয়াও বাদ দেই নি। এভাবে দিন গেল রাত গেল প্রায় ১৫/১৬ দিন গেল এভাবে। খুঁজতে খুঁজতে। প্রায় একরকম আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম আবার দিওনি।

আমি একটা টিউশনি করাতাম। ছেলেটি ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ে। ওর নাম সিয়াম। ওরা দুই ভাইবোন। ওর বড়বোন ক্লাস নাইনে পড়ে। সেদিন পড়াতে গিয়েছিলাম। অন্যান্য দিনের মত পড়াচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি সিয়ামের(ছাত্র) বোনের সাথে সেই মেয়েটি বাসা থেকে বাহিরে যাচ্ছে। আমি দেখে অবাক হলাম। যে মেয়েটিকে আমি খুঁজতে খুঁজতে শেষ, সে মেয়েটি কিনা আমার কাছে এসেই ধরা দিচ্ছে। ঘাড় ঘুরিয়ে সিয়ামকে জিজ্ঞেস করলাম উনি কে? বলল আপুর বান্ধবি। আমি আবারও অবাক হলাম। কিছু না বলে তাড়াতাড়ি পড়া শেষ করে বাসায় চলে এলাম। পরেরদিন আবার পড়াতে যাই। গিয়ে সিয়ামকে বললাম তোমার আপুকে ডাক দাওতো? ও গিয়ে ওর আপুকে ডেকে আনল। আমি ওর আপুকে বললাম কিছু মনে না করলে আপনার সাথে একটু কথা বলতাম। উনি বললেন জ্বি ভাইয়া বলেন? আমি নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে হতভম্ব হয়ে বললাম ইয়ে গতকাল আপনার সাথে যে মেয়েটি ছিল উনি কে? বলল আমার বান্ধবী।
উনি তাৎক্ষণিক বলে উঠল কেন ভাইয়া? আপনি চিনেন নাকি? আমি বললাম না এমনিতেই। পরক্ষনেই বলে উঠলাম একদিন উনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারবেন? উনি কিছু না বুঝে বলল আচ্ছা ভাইয়া দেখি, আমি ওর সাথে কথা বলে জানাবো। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। ওইদিন পড়িয়ে চলে এসেছি। এভাবে ৪/৫ দিন যাওয়ার পর একদিন সিয়ামের বোন এসে বলল ভাইয়া আপনি যে দেখা করার জন্য বলছিলেন ওতো বলছে দেখা করবে কিন্তু পাঁচ-দশমিনিটের বেশি সময় দিতে পারবে না। আমি বললাম সমস্যা নাই। কোথায় দেখা করতে বলেছে? আর কখন? বলল পার্কে ৫টার সময়। ওইদিন টিউশনি ওখানে শেষ করে চলে এলাম পার্কে। পার্কে এসে খুঁজে বের করলাম। দেখলাম পার্কের দক্ষিন কর্নারে আরেকটা বান্ধবীর সাথে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আস্তে আস্তে হেঁটে গিয়ে সামনে দাঁড়ালাম। সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই মেয়েটি আমাকে সালাম দিল। আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে সালাম নিলাম(ভাবছিলাম অন্য কাউকে দিছে)। সালাম নিয়ে বললাম কেমন আছেন? উত্তরে বলল ভাল,আপনি? আমিও বললাম ভাল। আমি বললাম আপনাকে একটা কথা বলার ছিল? বলব? মেয়েটি বলল হ্যাঁ অবশ্যই বলেন? আমি বললাম আপনাকে প্রায় মাসখানেক আগে এই পার্কেই দেখেছিলাম। বসন্তের দিনে।
অনেকদিন ধরে খুঁজেছিলাম আপনাকে কিন্তু পাই নি। আচ্ছা আপনার সাথে কি যোগাযোগ করতে পারব? মেয়েটি কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল ফেসবুক আইডি পাইলে আবার বার বার নক করবেন নাতো? আমি হেসে বললাম নাহ্। মেয়েটি তার ফেসবুক আইডি দিল। আমি সাথে সাথেই রিকোয়েস্ট পাঠালাম। ওদেরকে খাওয়ার অফার করলাম। দুজনেই না করে দিল। বলল দেরি হলে বাসায় বকা দিবে। তখন উনাদেরকে বিদায় দিয়ে রাতে বাসা ফিরলাম।
..
রাতে বাসায় গিয়ে নেটওয়ার্ক অনে করে দেখি রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট। খুশিতে নিজেকে তখন বিল গেটস ভাবা শুরু করে দিলাম। পরে রাতে মেয়েটি অনলাইনে আসার পর নক দিলাম। মেয়েটিও রিপ্লাই দিল এভাবে চ্যাট করতে করতে এক পর্যায়ে মেয়েটিকে তার নাম জিজ্ঞাসা করলাম। মেয়েটি এ নিয়ে কিছুক্ষন দুষ্টুমি করার পর বলল আমার নাম আয়েশা । নাম শুনে কতক্ষন সুনাম করলাম,বাহবা দিলাম। মেয়েদের সুনাম করলে নাকি তারা ইমপ্রেস হয়। এভাবে রীতিমতো দুজনের মধ্যে কথোপকথন চলে। যখনই সময় পাই তখনই। দুজন দুজনের সাথে বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করি, হাসি-ঠাট্টা করি।
আমাদের মধ্যে হয়ে উঠে একটি বন্ধুত্বের সম্পর্ক। বন্ধুত্ব বললেও ভুল হবে। বন্ধুত্বের থেকেও গভীর সম্পর্ক হয় আমাদের। দুজন দুজনকে দুজনের পছন্দের কথা বলি। কথা বলতে বলতে একদিন আমরা ট্রুথ অর ডেয়ার গেম খেলা শুরু করি। ট্রুথ অর ডেয়ার গেম খেলতে খেলতে আমি প্রপোজ করে বসি আয়েশাকে। সেও ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে প্রশ্ন করে প্রপোজাল এক্সেপ্ট করে নেয়। আর এভাবেই চলতে থাকে একজোড়া অজানা খরগোশ থেকে চেনামানুষ হয়ে উঠার গল্প। আমার বসন্ত তুমি। যদিও দেরি হয়েছে।

কমেন্ট করুন