১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮।

28459414_889213831251270_1112931453_n

writter : মীর হৃদয়।

সব দিনের মতো এইদিনেও সন্ধ্যায় পড়াতে গেলাম, বরাবর-ই আমি বাচ্চাদের অনেক আদর করি,সেদিন ওদের জন্য অনেকগুলা চকোলেট নিয়ে যাই। ওইদিন ওরাও সারাদিন ঘুরা ঘুরি করেছিলো, তাই ওরাও ক্লান্ত। একজন তো পরার টেবিলেই ঘুমে ভেঙ্গে পরছিলো। তাই ওকে ছুটি দিয়ে দিলাম। আরেকজন পড়ার টেবিলে বসা। ওইদিন আমার অনেক মন খারাপ ছিলো। সকলের ভালবাসায় সিক্ত ছেলেটার মন এত সহজে খারাপ হয় নাহ। তবুও সেই দিনটা একটু বিশেষ। আমি খাটে বসা ছিলাম। একটা শূণ্যতা অনুভব করছিলাম।কিছু বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো বিরামহীন। নিজের ভাবনায় নিজেকে প্রশ্নের মুখে ফেলি- কিসের অভাব আমার?চিন্তা চিন্তায় মহাকাশের চেয়েও বেশি ভ্রমন করা শেষ করে ছোট একটা ব্যাপার মাথায় আসলো। আমাদের সকল সুখ চাহিদার উপর ভিত্তি করে, আমরা চাইলেই সুখে থাকতে পারি।তখনি আমাদের মন খারাপ হয় যখন আমরা কিছুর অভাব বোধ করি। বেশিরভাগ চাহিদা গুলোই অর্থে পরিমাপ যোগ্য, যার ফলে ধনিদের ক্ষেত্রে এই সুখ গুলো হাতের ময়লা। কিন্তু কতিপয় চাহিদা অর্থের অঙ্কে পরিমাপ যোগ্য নয়।আপনার যত অর্থই থাকুক না কেন আপনার যদি এই কতিপয় চাহিদার মধ্যে একটা উপস্থিত থাকে তাহলে আপনি অবশ্যই দুনিয়ার সবচেয়ে দুর্ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন।

যাই হউক, আসল ঘটনায় আসি…..
সে রাতে পড়ানোর সময় যখন আমি আমার অভাব নিয়ে ভাবছিলাম তখন কেমন যেন আমার চোখ গুলো ফুলা ফুলা ছিলো। চোখ গুলো যেন আমার আদেশ মানছিলো নাহ। আর মনের স্থান, কাল,পাত্র হিসাব না করেই রক্তাক্ত চক্ষুর অশ্রুবর্ষণ চলছিল।চোখ বেয়ে যেন রক্ত ঝরছিলো। তখন কিছুই করার ছিলো নাহ আমার। পড়ানো শেষ না করেই চলে যাই। সেই রাতে খাওয়া ও হয় নি। পরের সকালে গিটার ক্লাসে চলে যাই যার ফলে সকালে খেতে আসা হয় নি। দুপুরে যখন খাওয়ার জন্য আসি কোথা থেকে যেন আমার পাগলা ছাত্র টা ছুটে আসে। আর হঠাৎ- ই আমাকে আকস্মিক ভাবে জিজ্ঞেস করে বসে_
“স্যার আপনি কাল রাতে কান্না করতেছিলেন ক্যান?”

আমি চুপ, আন্টি চুপ, আংকেল চুপ।এই আকস্মিক প্রশ্নে আমি হতবাক!যেন বাকরোধ হয়ে আসছিলো। আমার চারপাশটা যেন একটা ঘোমুটে স্তব্দতার শিকার। ঐ মুহুর্তেরর প্রত্যেকটা সেকেন্ড তখন একেকটা ঘন্টা মনে হচ্ছিলো আমার কাছে।কিভাবে ওর প্রশ্নের জবাব দিবো কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ। কতক্ষন চুপ ছিলাম জানানেই।সবার দৃষ্টি আমার উপর নিক্ষিপ্ত ছিল একটা উত্তরের আকাঙ্ক্ষায়।অনেক ভেবে আমি বললাম_ আমার চশমাটা ভেঙ্গে গেছে,নতুন একটা চশমা কিনতে হবে। কান্দির পার যাওয়া হয় নাহ গেলেই নিয়ে নিবো।
এ কথার সত্যতা কেউ আর যাচাই করেনি।এভাবেইে চাপা পড়ে যায় মনের অার্তনাদ,ঘোমরে থাকে অভিমান।
ছোট একটা মিথ্যার পিছে লুকিয়ে থাকে অনেক কষ্টের একটা গল্প,গল্প নয় বাস্তবতা।ওদের কিভাবে বলি আমার অভাবের কথা-!বহুবছরের শুণ্য মনে মায়ের ভালবাসার অভাব।মায়ের আদর মাখা সিক্ত স্পর্শের অভাব,শাসনে ভরা মায়ের কথার অভাব,বকুনির অভাব,।এই অভাব গুলো যে একান্তই আমার।নাহ,এই অভাব বলা যায় নাহ।কিছুতেই নাহ।

আসলে ভালবাসা দিবস টিবস কিচ্ছু নাহ। প্রকৃত ভালোবাসা একদিনের হয়না।ভালোবাসা মানেই কোন ভালো বাসা অর্থাৎ নির্জন কোন ফ্ল্যাটে দু’টো মানুষের একান্তে সময় কাটানো নাহ্।আসল ভালবাসা তো মায়ের স্নেহ আর ভালবাসায়। ভালোবাসা তো পরিবারে।যা আজ খুবই প্রয়োজন আমার।
“প্রয়োজন হচ্ছে কোনকিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে হবার অনুভূতি”

print

Hits: 11

কমেন্ট করুন