কাল বসন্ত- মীর হৃদয়।

52065917_620784411704804_2997874030008074240_n
মাঘের শেষের দিনটাতে অলিন্দ চিন্তা করে তার বাবুই কে সারপ্রাইজ দেবে। এই ভেবে খুব এক্সাইটেড হয়ে সন্ধ্যা বেলা সিলেট থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পকেটে টাকা কম বলে রাতে ষ্টেষনের কনো এক চায়ের দোকানে পাওরুটি আর কলা খেয়ে ডিনার চালিয়ে দেয়। ট্রেনের টিকেট টাও কাটা হয়নি তার। ভেবেছিলো টিটির হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দেবে। আর না দিয়ে বাচতে পারলে তো হলোই।
প্রায় এক বছর আগে নীলার সাথে অলিন্দের ফেসবুকে পরিচয়। এক বছরে আরো কয়কবার দেখা হয়েছে তাদের। লম্বা দুরত্বের রিলেশন হলেও নীলার প্রতি অনেক বিশ্বাস ছিলো অলিন্দের। অপেক্ষার প্রহর শেষ হলে ট্রেন আসে, অলিন্দ ট্রেনে চরে বসে। বিনা টিকিটে যাওয়ার ফলে কিছুক্ষন পরই দারিয়ে যেতে হয় অলিন্দকে। চট্রগ্রাম পৌছতে পৌছতে সকাল হয়ে যায়। সকালে স্টেশনের পাসে ছোট একটা হোটেলে হাল্কা নাস্তা সেরে নেয়। নীলার বাসা অলিন্দ আগে থেকেই চিনে, গত বার দেখা করার পর সিএনজি থেকে ওর বাসায় নামিয়ে দিয়ে যায় অলিন্দ। স্টেশনে কিছু সময় পার করে দুপুরের কিছুক্ষণ আগে নীলার বাসার দিকে রওনা দেয় সে। নীলার বাসা স্টেশন থেকে ঘন্টা খানেকের রাস্তা।
দুপুর হয়ে এসছে। অলিন্দের অপেক্ষার প্রহর শেষ। টিউশনের টাকা জোগার করে নীলার জন্য একটা হলুদ শারি পরেছে সে। সাথে করেই নিয়ে এসছে নীলাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে। নীলার বাসার সামনে আসতেই নীলার বেষ্টফ্রেন্ড সুমিকে দেখতে পেল অলিন্দ। অলিন্দকে দেখতেই সুমির মুখটা কেমন কালো হয়ে গেল। অলিন্দ সুমির দিকে এগুলো। সুমি থমকে আছে। সুমিকে ভাল জিজ্ঞেস করতেই যেন হুশ ফিরে পেল সে। নিচু শুরে বললো ভালো তুমি কেমিন আছো। বললো এইতো ভাল। সুমি বললো তুমি এখানে কেমন করে? নীলা জানে? অলিন্দ বললো না৷ ওকে সারপ্রাইজ দিব বলে এসেছি। সুমি বললো দারাও আমি নীলাকে ফোন দিয়ে বলছি তুমি এসেছো। অলিন্দ না করলে। ওদের কথা চলাকালীন নীলার বাসার সামনে একটা নতুন বাইকে চরে হ্যান্ডসাম একটা ছেলে আসলো।
নীলার গেইটের সামনে এসে হর্ণ বাজালো। কয়েক মিনিট পরই নীলা নেমে এলো। একটা হলুদ শারি পরা। খুব সুন্দর লাগছিল নীলাকে। নীলা বাইকের পেছনে বসলো আর বাইকটা অলিন্দের পাশ দিয়েই চলে গেল। নীলা তখনো অলিন্দকে দেখেনি। অলিন্দ যেন কিছু ভেবেই পাচ্ছেনা। সুমির ডাকে সারা পেল সে। অলিন্দ কাপতে কাপতে জিজ্ঞেস করলো ছেলেটা কে। সুমির এমন উত্তরের জন্য অলিন্দ কিছুতেই প্রস্তুত ছিল না৷ সুমির কথা শুনে অলিন্দের হাতের হলুদ শারির প্যাকেট টা নিচে পরে গেল। চোখের কোনে পানি টলমল করছে।
সুমি বললো দেখো অলিন্দ তুমি তো অনেক দূরে থাকো সিলেটে। অনেক কষ্ট করে এসেছো। তুমি এতো দুরে থাকো চট্টগ্রামের কোনো খবরই তুমি জানো না। এই ছেলেটার নাম রাহুল। প্রায় এক মাস হলো নীলা আমার সাথে পরিচয় করিয়ে চিয়েছে। এর আগেও ওর কয়েকটা বয়ফ্রেন্ড ছিল। তুমি সিলেট থাকো এখানে আরেকটা প্রেম করলে তুমি টের ও পাবা না। আর ঠিক সেটাই হয়েছে। আমি খুবই দুক্ষিত তুমি যে পরিস্থিতিতে পরেছো এমন যেন আর কারো সাথে না হয়। অলিন্দ চুপ করে আছে, মাটি থেকে হলুদ শারিটা হাতে নেয় সে। শারিটা সুমির হাতে দিয়ে বলে ভাই হিসেবে দিচ্ছি। আমার তো কোন ছোট বোন নেই তুমি এটা নেও। আর আমি যে চট্টগ্রাম এসেছিলাম এ কথা যেন নীলা না জানতে পারে। সন্ধ্যা বেলা নীলার ফোন আসে, নীলা: আজ বসন্তের প্রথম দিন। সারাটাদিন তুমি একটা ফোনও দেও নি, তোমার জন্য সারাটাদিন আমি ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বন্ধুদের সাথে পর্যন্ত বাইরে বের হইনি।
অলিন্দ: (কোনো শব্দ নেই) চুপ করে আছে। নীলা: কি হয়েছে কথা বলছো না কেন? অলিন্দ: কি দেষ ছিল আমার? আমার সাথে এমন না করলে হতো না? নীলা: কি হইছে বাবুই? কি করেছি আমি? কি বলো এইসব? অলিন্দ: ( আবারো চুপ করে আছে)। নীলা : তোমার শরির ঠিক আছে? বলো না বাবুই কি হইছে। (ফোন কাটার সব্দ পেল) নীলা আবার ফোন দিল, কিন্তু অলিন্দের ফোন বন্ধ। ফেসবুক থেকেও নিলাকে বল্ক করে দিল অলিন্দ। সিমটা খুলে ভেংগে ফেলে দিল। এই সব কিছু করার পর রাতে ঘুম আসছিলোনা অলিন্দের। শুধু প্রতারনার কথাই মনে আসছে…
print

Hits: 19

কমেন্ট করুন