হঠাৎ ট্রিপ প্রকৃতিতে হারিয়ে যাবার – মীর হৃদয়।

ef31199ab26a7badf3d06d1350f4e140.0

হটাৎ করেই প্ল্যান করা। সবার আগে গুমটি রাজি, আর হারামিদের তো কোনো পাত্তা-ই নেই, তারপরও আমি শিওর ছিলাম যতো কিছুই হউক আমি পিছু হটবো নাহ, এক প্রকার মনের জোরেই ট্রাকিং টা শুরু করার সিদ্ধান্ত হলো, তার উপর ভাগিনা তো শেষ মুহুর্তেও নারাজ, এইচ এস সি পরিক্ষার্থি বলে কথা।

 

সব শেষে সায়েদ ও যোগ দিল আমাদের সাথে, কথা ছিল চাঁদপুর, বাসবারিয়া অথবা নাপিত্তাছরা যাবো, যদিও নাপিত্তাছরা এর আগেও আমি একবার গিয়ে এসেছিলাম সব মুরুব্বিদের সাথে। ট্যুরের দিন সকালেই সিদ্ধান্ত নিলাম নাপিত্তাছরা যাবো, কারন আকাশের অবস্থাটা ছিলো খুব মেঘলাটে, আগের বার যেহেতু রোদের দিন যাই তখনই ঠিক করে রেখেছিলাম পরের বার আসলে অবস্যই বৃষ্টির দিন যাবো। সব ঠিক ঠাক মতো শুরু হয়, কিন্তু ফেনি পৌছতে পৌছতেই ১১ টার উপরে বেজে যায়, যার কারন ছিলো প্রচন্ড জ্যাম, ঠিক যখনই ফেনি পৌছেই বৃষ্টির কবলে পরলাম। যাক বৃষ্টির মধ্যেই খাওয়াদাওয়া করে নিলাম, কারন সময় টা অপচয় কর‍তে চাচ্ছিলাম না কেউই। নাস্তার টাইমে ভাত আর ভাতের টাইমে নাস্তা চলে গেল। তাই দুপুরের নাস্তায় জন্য কলা, পাওরুটি নেওয়া হলো। সাথে অনেকগুলো চকলেট আর ম্যাংগোবার।

b

ফেনি থেকে যখন নয় দুয়ারি নামলাম, ঘরিতে তখন ১ টা বেজে ৫৮ মিনিট। নয়দুয়ারি বাজার থেকে বাস কিনলাম। কিন্তু অবাক হলাম ওইখানে তখনো তেমন ভাবে বৃষ্টি হয় নি। হাল্কা পথ ঘাট ভেজা। মনটা কিছু খারাপ ছিলো অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার কারনে। স্থানিয় বাজার থেকে বাস, পানি, ও স্যালাইন নিয়ে রওনা দিলাম, এইবার পায়ে হাটা শুরু। যেহেতু এটা আমার আর গুমটির দ্বিতিয় বারের ট্যুর হওয়ায় রাস্তা চিনতে কোনো সমস্যা হচ্ছিলো নাহ।পথে আসার সময় আরো কয়েকটা গ্রুপ এর সাথে দেখা, আশ্চর্য ব্যাপার তাদের কারো শরির তেমন ভেজা ছিলো নাহ, অনেকটা নিরাশ হলাম তাদের কথায়, ঝর্নাতে নাকি তেমন পানি নেই। প্রায় ২ কিলো গ্রামীন রাস্তা পেরিয়ে যখন পাহারি পথের কাছে আসলাম তখনই ঝর শুরু হলো। কোনো রকম দৌরে গিয়ে একমাত্র পাহারি দোকানে আস্র‍য় নিলাম। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর ঝর কিছুটা কমলো, তবে বৃষ্টি তখনও অবিরত পরছেই, ভাগিনা আর তনিম এই অবস্থাতেই যাওয়ার জন্য এক পায়ে খারা, আমি একটু পিছু হটছিলাম কারন এই বৃষ্টির মধ্যে এতো দুর্গম রাস্তা পারি দেওয়া সত্যিই অনেক রিস্কি।

কিন্তু পৌছতে পারলে প্রকৃতির ভরা যৌবন দেখতে পারবো এই লোভে থেমে থাকিনি। মাথায় পলি ব্যাগ গুলা বেধে রেডি, সকলেই তাদের জুতাজোরা ব্যাগ এ নিয়ে ফেলেছিল, শুধু আমাকে ছাড়া, আমি ক্যাডস পরেই চলার শিদ্ধান্ত নিলাম, কারন আমি জানি ঝিরিপথে খালিপায়ে হাটা খুবই বিপদজনক। অনেক কষ্টে প্রথম ঝর্নায় পৌছলাম, আর পৌছে মনটা শান্তিতে ভরে গেলো। যেন জাহান্নামের রাস্তাপেরিয়ে জান্নাতে সর্গ দুয়ারে পৌছলাম। সাথে DSLR ক্যামেরা ছিলো, কিন্তু বৃষ্টির জন্য বের করতে পারি নি, কোনো রকমে মোবাইলের ক্যামেরায় কয়েকটা সেল্ফি তুললাম, তাও ফোনটা প্রায় ভিজেই একাকার।

 

কিন্তু তারপর ঝরনাগুলোতে আর কোনো ছবিই তোলা হয় নি শুধু শেষের ঝরনাটা ছাড়া তারও একটা বড় কারন আছে, শেষের ঝরনাটার সামনে গুহার মতো যেখানে দারিয়ে ক্যামেরায় ছবি তোলা সম্ভব ছিলো, কিন্তু ক্যামারাম্যান এর লরাচরা সম্ভব ছিলো নাহ। ওহ একটা গুরুত্তপুর্ণ কথাতো ভুলেই গেলাম, সারা পথজুরেই জোকের উতপাত ছিলো, আমাকে ৪ বার জোকে কামরাইছে, তনিম কে ২ বার, সাদ কে ২ বার, আর গুমটিকে ২ বার, শুধুমাত্র ভাগিনা হ্নদয় ই জোকের হাত থেকে রক্ষা পায়, কিন্তু সে পড়ে গিয়ে কোমরে হাতে প্রচুর ব্যাথা পায়, আর গুমটি ও পরে গিয়ে হাতে ব্যাথা পায় এবং হাতের তালু কেটে অনেক রক্ত বের হয়, ভাগ্য ভালো আমি এক টুকরা কাপর সাথে নিয়ে গেছিলাম যেটা বেধে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। আমরা পাহার এর ভেতর থেকে বের হতে অরায় সন্ধ্যা হয়ে যায়, কিন্তু পাহার থেকে বের হয়ে আরো কিচগু ছবি তুলতে পারি, কারন তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়েছিলো।
সিব শেষে মেইন রাস্তা পর্যন্ত আসতে প্রায় ৭ টা বাজে, আর সম্পূর্ণ ম্যাছ র ফিরতে প্রায় ১১ : ৫৫ এর মতো।
সব মিলিয়ে ভাল আর মজাদার এবং খুব সাংঘাতিক ছিলো এই ট্রিপ টা।

## একটা কথা হলো, চোখে যা দেখা যায়, মনে যে ভয় হয়, যে এক্সাইটেড ফিল হয়, আর চোখের সামনে এমন সর্গ দেখার অনুভুতি কখনোই ব্লগ লিখে বা ছবি দেখিয়ে বুঝানো যাবে নাহ।

print

Hits: 14

কমেন্ট করুন