ক্রোধ – মীর হৃদয় ।

26133923_859305377575449_1244567836_o

সম্পর্ক টা তো সার্কিট আর তারের মাধ্যমে জোরা দেওয়া বস্তু নয়, যে একটা সার্কিট নষ্ট হলেই সম্পর্ক ভেঙ্গে যাবে । সম্পর্কটা ইট পাথরের সদৃশ্য কোনো দেয়াল ও নয় যে কিছুদিন পরেই স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যাবে। অথবা এটা লোহার তৈরি কোনো কাঠামো নয়, যে সময়ের ব্যাবধানে জং ধরে যাবে। প্রত্যেকটা সম্পর্ক আধ্যাত্মিক এবং অদৃশ্যমান যা শুধু বিশ্বাসের উপর টিকে থাকে। যে সম্পর্কে যতটা বিশ্বাস আছে সেই সম্পর্কটা তত বেশি মজবুত।

এই পৃথিবীতে কেউ পার্ফেক্ট নয়। কথায় আছে “Nobody is Parfect” আমিও পার্ফেক্ট না যখন আমি পার্ফেক্ট বানান টা ও ভুল লিখি। কিন্তু আমি পার্ফেক্ট হতে পারি যখন আমি কেউ না ” I’m Nobody, so I’m perfect” আবার যখন তুমি আমার কাছে কেউ নাহ তখন তুমি পার্ফেক্ট। আমাদের সমস্যাটা এখানেই আমরা শুধু একে অপরের ত্রুটি খুঁজি। যা করে আমরা আত্মহংকারের বশীভূত হই, নিজেদের কাছে বড় হই ঠিকই কিন্তু অন্যের নজরে হয়ে যাই নিকৃষ্ট। আমরা চলার পথে সকলেই সব সময় হোচট খাই, ব্যাথা পাই, কখনো হয় সেটা শারিরিক ব্যাথা, আর হয় কখনো মানসিক। শারিরিক ব্যাথার প্রথম পর্যায়ের আমাদের মুখের উক্তিতে আসে যে নাম টা সেটা হলো “মা”।

কারন আমাদের বিশ্বাস মায়ের মায়া ভরা স্নেহের কাছে সব ব্যাথা-ই হার মানবে। যে সকল ব্যাথা আমরা চোঁখে দেখি শরিরে অনুভব করি সেগুলো খুব সহজেই সরে যাবে। হউক সেটা পায়ের হার ভাঙ্গা অথবা মেরুদন্ড। এই ব্যাথাগুলো আমরা সকলের কাছে বলতে পারি, যেমন আমার পা ভেঙ্গে গেছে আমি হাসপাতালে। অথবা ইন্টার্নাল কোনো সমস্যা হলে এমন বলি হার্ট এ প্রব্লেম হ্নদপিন্ডে রিং বসাতে হবে, কিডনি প্রব্লেম আইসিউ তে আছি আমাকে এসে দেখে যাও।

কিন্তু যে সমস্ত আঘাতগুলো, ব্যাথাগুলো আমরা কাউকে দেখাতে পারি নাহ বা বলতেও পারি নাহ,যা কিছু চেপে যাই তা থেকেই আমাদের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি। এই মানসিক সমস্যা গুলো অনেক কারণে হয়ে থাকে যেমন ব্রেকাপ বা খুব কাছের কোনো মানুষের অস্বাভাবিক মৃত্যু অথবা খুব কাছের কোনো বন্ধুর হঠাৎ দুরে সরে যাওয়া। ইমোসনাল পেইন আমাদের স্ট্রেস হরমোন অর্থাৎ কর্টিসল ক্ষরণ করে যা শারিরিক কোনো আঘাতের চেয়ে অনেক বেশি কষ্টকর। এমন সময় আমাদের এমন ফিল হয় যেন আমদের মস্তিস্ক হতে রক্তক্ষরণ হচ্ছে যেটা এই মুহুর্তে আমি অনুভব করছি। যেটা খুবই অসহ্যকর। অনেক পছন্দের ছবির ফ্রেমটাতে ও ধুলাবালি জমে ছবি ঝাপসা হয়। পছন্দের ডাইরিটা ও ড্রয়ারের ভিতরে পড়ে থাকে,অনেকদিন লিখালিখি হয় নাহ তাতেও ধূলাবালি জমে। ধুলাবালি পরিস্কার রাখা আমাদেরই দায়িত্ব।

সবকিছুর মতো সম্পর্কেও ধুলাবালি জমে,ঝাপসা হয়। আর সেই ধুলাবালি টা হলো অবহেলা। অবহেলার আকার যতো বাড়তে থাকে অপর জনের অভিমান তত বেশি হয় আর অভিমান টা অভিযোগের সংখ্যা বাড়িয়ে চলে। অভিযোগ মানেই জবাবদিহিতা। কিন্তু এটা কোন সময়ের জবাবদিহিতা? অবশ্যই অনেক পুরানো অভিযোগটার। কথায় আছে লোহা গরম থাকতে না পেটালে সেটাকে বাকানো অসম্ভব। ঠান্ডা হয়ে গেলে পড়ে ভাংবে কিন্তু মচকাবে নাহ। আরেকটা কথা আছে বিলম্বিত বিচার অবিচারের-ই সমান। বিলম্ব মানেই আমদের অভিযোগ গুলো যখন সুবিচার পায় নাহ তখন অভিযোগ গুলো রাগে পরিনত হয়। রাগের দুইটা বহিঃপ্রকাশ আমার জানা- ১: ক্ষমা অথবা কথা বলে মিটমাট অথবা যৌক্তিক ভাবে রাগ বহিঃপ্রকাশ। ২: জমে থাকা রাগ টাকে ক্রোধে পরিনত করা। ক্রোধ খুবই সাংঘাতিক একটা জিনিস। যেটা একটা রক্ত মাংসের মানুষকে অমানুষে পরিণত করে দেয়।

একটা মানুষ যখন আচমকা রাগে আপনাকে একটা খুব খারাপ গালি দিবে বা তার হাতের মোবাইল ফোনটা ভেঙ্গে ফেলবে একটা থাপ্পর দিবে এটা রাগের যৌক্তিক বহিঃপ্রকাশ। একজন রাগে আক্রান্ত মানুষ যখন আপনাকে খুন করবে তখন সেটা রাগের মাথায় করবে। আর একজন ক্রোধে আক্রান্ত মানুষ যদি আপনাকে খুন করে তাহলে সেটা ঠান্ডা মাথায় করবে। আপনি যদি মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক। আর যদি আমার মতো পাগল আর বদমেজাজি হয়ে থাকেন তাহলে রাগের মাথায় একটা গালি দিতেই পারেন। এটা রাগের বহিঃপ্রকাশ এর জন্য বেশি হলেও নিকৃষ্ট কিছু হবে নাহ।

আরেকটা ব্যাপার, যদিও ক্ষমা করা ও ক্ষমা চাওয়ার মতো মন মানসিকতা সবার থাকে নাহ। তবুও আমি লজ্জিত এবং ক্ষমা প্রার্থী।

কমেন্ট করুন