একজন বাবা ও ডিপ্রেসড ছেলের গল্প। মীর হৃদয়।

একজন বাবা ও ডিপ্রেসড ছেলের গল্প। মীর হৃদয়।

একজন করা শাষন করা বাবা আর একটা ডিপ্রেসড ছেলের গল্প। গল্পটা সম্পুর্ণই বাস্তবিক। এবং প্রতিনিয়ত আমার চোখের সামনে ঘটছে। বাস্তবিক জীবনে সকলেই সকলের যায়গায় সঠিক, তা আরো একবার প্রমানিত হলো আজ আমার চোখে।

প্রথম ধাপ~
বাবা বাংলাদেশি, মা ভিনদেশি। অনেক বছর আগে ছেলেটা, আর তার বোন দেশে এসেছে। তারপর মাঝে মাঝে বিদেশ। ভ্রমন হলেও বর্তমানে তারা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক, শুধুমাত্র ছেলেটার মা বাদ দিয়ে। মা এখনো বাহিরে থাকে, ছেলেটার নানা,নানুর সাথে। শুনেছি ওইখানে নাকি বড়সড় চাকুরি বা ব্যাবসা আছে। ছেলেটার আম্মুও মাঝে মাঝে আসে বাংলাদেশে।

কথার মাঝে ভুলেই গেছিলাম ছেলেটার নাম আদনান। বন্ধু বলতে তেমন কেউই নেই ছেলেটার। একটা মাত্র বড় বোন যার সাথে সব মনের কথা খুলে বলতো। কথা বলে মন ভাল রাখতো কিছুদিন আগে তারও বিয়ে হয়ে গেছে। এখন ছেলেটার প্রতিনিয়ত রুটিন ও বদলে গেছে। কখন যে দিন হয় আর কখন যে রাত তার কোনো খেয়াল তার নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাইভেটে যাবে, ক্লাসে মন মরা হয়ে বসে থাকবে। ক্লাস শেষে বাসায় আসবে, মন চাইলে খাবে না হয় ঘরে বসে থাকবে। লেপটপ, আর মোবাইল, আর ডিভিডি তার একমাত্র সঙ্গী। পরালেখায় ও সে খারাপ নয়। হাতের লেখায় যেনো মুক্তো ঝরে। আর মেধা মাশাল্লাহ বলার মতো।

কিন্তু, এমন একটা পার্ফেক্ট ছেলেও আজ মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত। আপন বলতে যে বাবা আছে তিনি মনে করেন ছেলেকে যথেষ্ট টাকা পয়সা দেই। ছেলে আমার একটাই, একটু চাপে রাখি যেন বিগরে না যায়। একজন বাবা হিসেবে যথেষ্ট করেন, তিনি তার সন্তানদের জন্য। ভাল শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও চাকুরি করছেন নাহ। ছেলে-মেয়েকে মানুষ করার জন্য নিজের রোজগার করার সঠিক মুহুর্তটা ও রান্নাবান্না করে আর গল্পগুজব করে কাটাচ্ছেন। ব্যাপার টা এমন হয়ে দারিয়েছে উনি এতো কিছু করেও সন্তানের মন যোগাতে পারেনি। কারন ভেতর থেকে খুব নরম হলেও বাহির থেকে তিনি খুব করা মেজাজের লোক।

আদনান ভাবে, আমার বাবা আমাকে একদমই ভালবাসে না, তিনি সব সময় আমাকে বকা দেন। কখনো আদর করে কথা বলেন নাহ। এখানে আদনান বাবার মধ্যেই একজন বন্ধুকে খুজে, কারন সে কারো সাথে বন্ধুত্ব করতে পারে নাহ।
আর বাবা তার সন্তানকে একজন আদর্শ ছেলে হিসেবে দেখতে চায়। কিন্তু আদনানের মানুষিক অবস্থার জন্য সে তার যতো রাগ আর একাকিত্বের দায় এগুলো তার বাবার গায়ে চাপিয়ে দেয়।

একজন বাবা হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার সেক্রিভাইস করে বসে আছেন যিনি ওনাকে কোনোভাবে দোস দেওয়া যায় নাহ। সব কিছুই চাওয়ার আগে পেয়ে গেছে আদনান কিন্তু বন্ধু বানানোর দায়িত্ব তো আদনানের নিজের ওর বাবার নয়। তারপরও বাবা ছেলের মধুর সম্পর্ক হতে পারে, যদি বাবা তার ছেলেকে একটু বন্ধু-শুলভ দৃষ্টিতে দেখে।

পরিশেষে আমার কমেন্ট: প্রত্যেকেই প্রত্যেকের যায়গা থেকে সঠিক। তোমার যায়গা থেকে যেটাকে 6 দেখাচ্ছে আমার যায়গা থেকে সেটাকে 9 দেখাতে পারে। কিন্তু এর জন্য মন মরা থেকে লাভ কি।

Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: [email protected]