লতা -কোহিনূর আক্তার।
লতা -কোহিনূর আক্তার।

লতা -কোহিনূর আক্তার।

ছোট গল্প পর্ব (১)
কছে নেই ।
আদিবাসী উর্মু ভীষণ রেগে গিয়ে গাছটা কেটে ফেললো।
লতা ঠিক সব জানতে পারলো আর অনেক কষ্ট পেলো।
লতা একদিন রাস্তায় পাশে দিয়ে হাঁটছিল ।
এমন সময় একটি জবা নিয়ে এলো একটি ছেলে ।
এসে বললো মন-খারাপ করো না, আমি রোজ তোমাকে জবা দিবো ।
লতা মাথা নিচু করে সম্মতি জানালো ।
এ ভাবে রোজ রতন জবা দিয়ে যায় , লতাকে ।
লতার কচি মনের ঘরে রতন বাস করে ।
একদিন সন্ধ্যায় রতন লতাকে রাস্তার পাশে জড়িয়ে ধরে
বলে এই লতা তুমি কিছু বোঝ না ।
আমি তো তোমাতে বিলীন হতে চাই লতা ।
লতা স্তব্ধ মনে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলছিল ।
লতার নিঃশ্বাস রতনের নিঃশ্বাসে মিশে গেল।
ঠোঁটে ঠোঁট স্পর্শে সৃষ্টি হলো নতুন অনুভূতির তৃষ্ণা ।

ছোট গল্প পর্ব (২)
-কোহিনূর আক্তার
আরও কিছু দিন কেটে গেলো লতা ও রতনের প্রেম গভীর হয়ে গেলো।
একদিন লতা বুঝতে পারলো সে মা হতে যাচ্ছে।
রতনে সাথে দেখা করলো । রতনকে জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো –
রতন আমি মা হতে যাচ্ছি ।
একি বলো লতা
হা রতন আমাকে বাঁচাও, চলো বিয়ে করি ।
রতন কথা বললো না স্তব্ধ হয়ে গেলো ।
রতন জানে লতার ভাই রাজনীতি করে সে অত্যাচারী
এক নেতা । এই মূহুর্তে রতন কি করবে ভেবে কিছু
সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না ।
রতন কথা বলো ,কথা বলো ।
আমি জানিনা আমি কি করবো । এ ছাড়া তোমার ফ্যামিলি আমার মতো বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দিবে না । চলো লতা পালিয়ে অনেক দূরে গিয়ে ঘর করি ।
আমাদের সন্তান তখন সমাজ সংসারের বাঁধা হবে না ।
হা তাই করো আমাকে নিয়ে যাও
আমি তোমার সন্তানের মা হতে চাই ।
নিশিতে তোমার প্রিয় মাধবী হতে চাই।
ভিজা চুলে উপচ সুন্দরী হতে চাই ।
আমি তোমাতে বিলীন হতে চাই ।
শুধু তোমাকে চাই চাই রতন ।
আমার এই হাত দুটি ধরো । আর তোমার করে
করে নাও গো ।
তোমাকে ছাড়া আমিও বাঁচতে পারবো না লতা,আজ রাতে চলো আমরা দুজন হারিয়ে যাই ।
রাত গভীর হতে লাগলো। রতন লতার বাসায় লতাকে
আনতে গেলো লতা দরজা খুলে দৌড়ে রতনকে জড়িয়ে
ধরলো । এমন সময় লতার ভাই রাজু ওদের সামনে এলো ।
কে কে কথা বলছো না কেন ?
কে লতা তুই ?
এই ছেলে কে ?
দাদাভাই আমি রতনকে ভালবাসি।
আমি ওর সন্তানের মা হতে যাচ্ছি।
কি বললি তুই ?
কি বললি ?
লতা রতনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে
রতন কি বলবে তা বোঝার আগেই এক ঝটকায়
লতাকে আলাদা করলো রাজু ।

ছোট গল্প পর্ব (৩)
-কোহিনূর আক্তার
লতাকে সরিয়ে নিয়ে, রতনকে ভীষণ মারধোর করলো ।
রাজু ও তার দলের ছেলেরা। রতন মারা গেছে
তাই রতনকে বস্তায় ভরে নদীর ধারে
ফেলে দিলো রাজু।
পরের দিন সকাল বেলা গ্রামের লোকজন রতনকে বস্তা
ভর্তি দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডঃ বলেছে হয়তো রতনকে বাঁচানো যাবে না ।
রতনের বাবা রিটায়ার্ড আর্মি অফিসা ।
রতনের বাবা সর্বস্ব দিয়ে হলেও ছেলেকে বাঁচাতে চায়।
কিন্তু এখন করার কিছু নেই । সব এখন মহান আল্লাহ্
কৃপা ।
লতার ফ্যামিলি লতাকে ঔষুধ খাওয়ায়ে রতনের বাচ্চাটি নষ্ট করে ফেলে ।কিছু দিন লতা অসুস্থ হলেও
বিয়েটা বন্ধ হয়নি । লতার বিয়ে দিয়ে দিলো ।লতা সেখানে চলেও গেলো । কিন্তু লতা ভালো নেই সবসময়ই
কান্নাকাটি করে রতনের জন্য। শ্বশুরবাড়ির লোকজন
বলে নতুন বউ তো মা বাবার জন্য মন খারাপ তাই কান্নাকাটি করছে ।লতার বর লতাকে খুব ভালবাসে ।
সব সময় লতা লতা করে কাটছে তার দিন ।
প্রায় দু মাস কেটে গেলে রতন বেঁচে গেলো কিন্তু চিরতরে পা দুটি হারালো । রতনের দিন কাটে হুইলচেয়ারে বসে । রতন বাবাকে বললো
বাবা লতা ছাড়া আমি যে মৃত ।
চুপ চুপ আর লতা লতা করতে হবে না ।
তোকে যদি লতা ভালবাসতো তাহলে কবুল কইয়া শ্বশুরবাড়ির যেতো না ।
কি বললে বাবা লতার বিয়ে হয়েছে।
না বাবা তুমি মিথ্যা বলছো ।
লতা আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না ।
বাবা চোখের পানি মুছতে মুছতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো ।
চলবে ,,,,,,।
৪/৯/২০
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। মীর চ্যাপ্টার বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত বাংলা ব্লগ সাইট। মীর চ্যাপ্টার ব্লগে আপনিও সামিল হতে পারেন। মীর চ্যাপ্টার ব্লগে লিখুন । মীর চ্যাপ্টার ব্লগে আপনার লেখা পাঠাতে মেইল করুন : Info@mirchapter.com