এক টুকরো হিটলার- অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী
এক টুকরো হিটলার- অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী

এক টুকরো হিটলার- অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী

এক টুকরো হিটলার
অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী
দয়া করে আপনারা গুঞ্জন বন্ধ করুন। ন্যুরেমবার্গের এই বিচার ঘরে সূচপতনের শব্দ এনে দেবো। আমি স্মিরনভ, অকাট্য প্রমানের পাহাড় ছুঁড়ে দেবো ন্যাৎসী আসামীদের মুখে। আহ্বান করি সেই সব মানুষের আত্মাদের, যারা মাজডানেক, অসওয়েইসিম, বুখেনভাল্ড বা ডাউচে মানুষ পোড়ানোর ফার্নেসে কুঁকড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছেন…আর তারাও আসুক যাদের দেহকে পঁচিয়ে ফেলা হয়েছিলো বাবিয়ার আর খারকভের ভয়ঙ্কর গর্তে। এই আদালত তবেই ঝলসে উঠতো যদি আসামীর পাটাতনে এই শয়তানগুলো পাগল হয়ে যেত। হুজুর, আমি এখানে এ্যালেক্স তলস্তয়ের কথা বলবো ‘লোভ, হীনতা, নীচতা, আর কাপুরুষতার কেন্দ্রিভূত বিশুদ্ধ সারাংশই হলো ফ্যাসিবাদ।’
মহামান্য বিচারক এই ফ্যাসিবাদী কাপুরুষতার তথ্যচিত্র আলোকরশ্মিতে আদালত কক্ষেই দেখাবো- ১৯৪১ । ২৯ শে নভেম্বর। রোস্তভ শহরের সম্পূর্ণ রাস্তা জুঁড়ে অসামরিক নাগরিকদের মৃতদেহের ডাঁই। ঐ দেখুন একটি মৃত বালকের উঁচু হাতে একটি পোষা বুলবুলি ছটফট করছে…পাখিটিতে হঠাৎ গুলি এসে লাগলো…গুলি এবং পাখির আত্মা দুজনেই মুক্ত… কি আশ্চর্য তাই না ?
আর ঐ যে স্টেশন চত্বরে দেখেছেন কাঠের গুড়ির মত পাটপাট সাজানো। আসলে ওগুলি কাঠেরগুড়ি নয় মৃতদেহ ডাঁই করে রাখা। যদিও প্রথমে মনে হবে ওগুলি সোভিয়েতের লালবাহিনী কিন্তু ভালো করে কছে গেলে দেখা যাবে সাদা ব্যান্ডেজ দিয়ে হাত পা মাথা মুড়ে এ গুলি একেকটা ন্যাৎসী সৈনিকেরই দেহ। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিককে বোঝার মত বয়ে বেড়ানোর চেয়ে মৃত্যুর থেকে সহজতম পন্থা আর নেই…
আরেকটি কক্ষের তথ্যচিত্র দেখুন-ড্যানজিং প্রযুক্তিবিদ্যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কক্ষ। ভূগর্ভস্থ মৃতদেহের কবরখানার গুদামে মুন্ডুহীন লাশ বোঝাই হয়েছে। যদিও ন্যাৎসীদের ভাষায় তা কাঁচামাল। মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করে এ্যালকালিনে ডুবিয়ে টগবগ করে ফোটানো হচ্ছে। মানুষের চর্বি দিয়ে সুগন্ধি সাবান তৈরি হবে। পিশাচেরা সাবান মেখে স্নান করে পবিত্র হবে…
কাঠগড়ায় দাড়ানো এনারা আবার গোসা করে থাকেন, মাননীয় মন্ত্রী বা মাননীয় রাইখমার্শাল বা এ্যাডমিরাল না বললে। আমি স্মিরনভ এনাদের কাছে প্রতিবাদী। আমি অবশ্যই এদের বলতে পরি ঠগ, গলাকাটা, খুনী অপরাধী।
গোয়েরিং একটা শিকারী কুকুরের মত। আর বারবারোসা পরিকল্পনায় মেতে উঠেছিলো হিটলারের সাথে। কেইটেল, জডল, জেনারেল ওয়ারলিমোন্ট, সেই লাল দাড়ি শয়তান যার পিপাসাই ছিলো রক্তের…
মহামান্য, বিচারক আমার প্রতিপক্ষের উকিল বন্ধু রুদেনকো সুপরিপাট্য করে আপনাদেরকে জানিয়েছেন…
যদিও ভাবি হিটলারের মতন লোকেরাও উকিল পায়। হাজার হাজার মানুষকে যারা মেরে ফেলে অথবা মারার জন্যে সুপরিকল্পনা করেন, তারাও উকিল পায়…হাঁ হাঁ হাঁ… আমার হাসি পায়…এইসব নাটুকে ভাঁড় রাষ্ট্রনায়কদের দেখলে আমার হাসি পায়… যাইহোক রুদেনকো আপনাদেরকে যা জানিয়েছেন ভালোই জানিয়েছেন…
ঐ পরিকল্পনায় জনসংখ্যা হ্রাস করতে অজস্র গ্যাস চেম্বার, প্রচুর গ্যাসভ্যান, মৃতদেহ ফেলার প্রচুর মৃত্যুফাঁদ, বিষপূর্ণ পানীয় জলকূপ, দুর্ভিক্ষ আর মহামারী….
হুজুর একটু চেয়ে দেখুন মিঃ হেস কিরকম নির্বিকার। কাঠগড়ায় দাড়িয়ে জীবন্ত মানুষ মারার যন্ত্র এখন নির্বিকার। অথচ অদ্ভুত স্বাভাবিক।

একটু পরেই ফন পলাসকে এনে দেবো সাক্ষ্মীর কাঠগড়ায়, যাকে গুম করে রাখা হয়েছিলো আর মিথ্যে মিথ্যে ফন পলাসের শবাধারে জার্মানীর রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়েছিলেন এডলফ হিটলার। ফন একের পর এক সত্যতা দিয়ে ভরে দেবে আপনার কক্ষ

এরপর সত্যতা নামে… একের পর এক সত্যতা নামে সভ্যতার বুক জুড়ে… এবং দীর্ঘ শতাব্দী ব্যাপি নামতেই থাকে… আর একেক টুকরো হিটলারের মুখোশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রনায়ক নায়িকাদের মুখ ঠেসে…
Anindyaketan Goswami
C/O—Pampa Biswas
Vill+Po—Bhayna Paschim Para
Dist—Nadia
PIN—741502
Contact—৯০৬৪৪৮৪৫৫৯
E-mail- anindyaketan1979@gmail.com
Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। মীর চ্যাপ্টার বর্তমান সময়ের একটি আলোচিত বাংলা ব্লগ সাইট। মীর চ্যাপ্টার ব্লগে আপনিও সামিল হতে পারেন। মীর চ্যাপ্টার ব্লগে লিখুন । মীর চ্যাপ্টার ব্লগে আপনার লেখা পাঠাতে মেইল করুন : Info@mirchapter.com