বহুরূপী ভাবনা। – নীরব চৌধুরী

বহুরূপী ভাবনা। – নীরব চৌধুরী

মধ্যবিত্ত ঘরে যাদের জন্ম তাদের আশার সীমাটা কেনো জানি সব সময়ই আকাশ ছোঁয়া হয়। তেমনি এক মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান নীরব। পড়া-লেখায় সে ছিলো বেশ দুর্দান্ত।  সবে মাত্র এস.এস.সি পরীক্ষার্থী। পরিক্ষার আর মাত্র ৩ মাস বাকি।  এমন সময় সে শুনতে পেলো যে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য কিছু কোচিং সেন্টারের কথা। তেমনি একটি কোচিং সেন্টারের নাম  ‘ স্মরণী কোচিং সেন্টার ‘ ( কুমিল্লা,  ঝাউতলা শাখা )  ।   অবশেষে নীরব চলে গেলো সেখানে।  রীতিমতো ক্লাশ+ টিউটোরিয়াল করে যাচ্ছে সে।  সে সব সময় মর্নিং শিফট-এ ক্লাশ করতো।  একদিন মর্নিং – এ যেতে না পারায় সে ঐ দিন বিকেলে গেলো। আর সেদিনই ঘটলো ঘটনার রোমান্টিকতা।

নীরব রিক্সা থেকে নেমে সেন্টারের দিকে ডুকতেছে এমন সময় একটি গাড়ির হর্ণ শুনে নীরব পিছনের দিকে তাকাতেই সে অবাক হয়ে গেল। ভাবলো আমাদের কোচিং সেন্টারে পড়ে এই মেয়ে অথচ আমি তাকে কখনোই দেখিনি ? দেখবেই বা কেমন করে দুজনের দুই শিফট ছিলো তো।

নীরব ঐ দিন কোন কিছুই না বলে বাসায় ফিরে এলো। পরের দিন তাকে একটা চিরকুটে নীরব লিখে দিল ‘ তোমার নামটা জানতে পারি ‘ ?  ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো ‘ আমার নাম ভাবনা ‘।  পরের চিরকুটে লিখলো ‘আজ বিকেলে দেখা করতে পারবে ‘?  জবাবে ভাবনা বললো পারবো  ।  কোথায় দেখা করবো তাই বলো ?  স্থান নির্বাচিত হলো ” ধর্মসাগর পাড় “।

দেখা হবার পর…..
-নীরবের প্রপোজ ?????
-ভাবনার ইগনোর !!!

দু’দিন যাবার পর ভাবনা ও তার বাবা মোটরবাইকে করে কোচিং সেন্টারের উদ্দেশ্যে রওনা হলো বাড়ি থেকে।  পুলিশ লাইনে এসে ওদের মোটরবাইক একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে ওর বাবা তৎখনাৎ মারা যান। নীরব তখন খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে দুজনকেই হাসপাতাল নিয়ে গেলো। ডাক্তার ওর বাবাকে মৃত ঘোষনা করলো। মেয়েটি বেঁচে আছে তবে জ্ঞান ফিরেছে ৭ দিন পর।  ততক্ষণে ওর বাবার দাফনকাজ সেরে ফেলেছে নীরব দাঁড়িয়ে থেকে। কান্নায় ভেঙে পরা ভাবুর মা ও তার দুটি ছোট বোনকে সান্ত্বনা দিতে নীরব ব্যস্ত। সপ্তাহখানেক পর ভাবু (ভাবনা) নীরবের প্রতি দুর্বল ও নির্ভরশীল হয়ে পড়ল।

এভাবেই ঐখানে কেটে যায় তিনটি মাস। অতঃপর পরিক্ষা অতী নিকটে।  নীরবকে ফিরতে হয় তার নিজ গন্তব্যে।

ফেরার পথে নীরবের প্রতি ভাবুর কিছু সর্ত :

১. সে এখন খুবই একলা তাই যত দ্রুত সম্ভব সে যেনো ফিরে আসে।
২. কলেজে সে একলা যেতে পারবে না (বায়না)।
৩. সব মেয়েরা বয়ফ্রেন্ড নিয়া ঘুরে ও একলা ঘুরতে পারবে না।
আরও অনেকগুলো শর্ত। সব শর্তগুলো মাথায় করে নীরব পরিক্ষা শেষ করলো। ভাবুর ও পরিক্ষা শেষ।  রেজাল্ট বের হলো। দুজনই কৃতকার্য হলো।

বাবুর পিক

অবশেষে বাবুর ফোন…….
তুমি কবে আসছো ?
– আরে আমার কিছু সমস্যা আছে তাই যেতে পারবো না। সমস্যা নেই আমি কয়েকদিন পরপর তোমার সাথে দেখা করে আসবো।

কেনো কি সমস্যা ?
– বাড়িতে আমার মা,ছোট দুইটা ভাই তাদের ফেলে আমি চলে যেতে পারিনা।
ওকে তুমি তোমার পরিবারের সাথেই থাকো আমার কথা ভাবতে হবে না।  এই বলেই ফোন কেটে ভাবু আর কোন যোগাযোগ করলো না। তবে দুজনের মধ্যে ফোনালাপ চলচে ঠিকই।

মাস খানেক যাওয়ার পর নীরব শুনতে পেলো ওর ভাবনা নাকি কারো একজনের প্রেমে পড়েছে। খোজ নিয়ে দেখলো ঐ ছেলেটা হচ্ছে একই কোচিং সেন্টারের নীরবের বেস্ট ফ্রেন্ড।

নীরব তাদেরকে কোন রকম ডিস্ট্রাব না করেইভাবুকে সরল মনে জিজ্ঞেস করলো,
তোমার কাজটা কি ঠিক হলো ?  কেনইবা আমার সাথে এমনটি করলে? তোমার কি ক্ষতিটাই আমি করেছি?

ভাবনা একটাই জবাব করেছে,
– তোমার সব কিছু না জানলেও চলবে।  আর সময় হলে সব জানতে পারবে।

এখন আর নেই সেই ভাবনা+নীরব সম্পর্ক। থাকলেও সেটা কেবল কাবাব মে হাড্ডির মতই। নীরবকে যেন ভাবু এখন চিনতেই পারেনা।  অথচ এই বেচারা কি না করেছে ওর জন্য, ওর পরিবারের জন্য। আসলে বোধ হয় সত্যিকার ভালোবাসা গুলো এমনই হয়। বিধিরও বোধহয় হিংসে হচ্ছিলো ওদের ভালোবাসা দেখে।

নীরব আজো পথ চেয়ে আছে যে, সব রাগ,অভিমান ভূলে ভাবনা আর ফিরে আসবে তার কাছে।  সেই আসাতে আজও সে একাই রয়ে গেলো। দ্বিতীয় কারো প্রতি ভাবুর সেই স্থানটি সে আজও কাউকে দিতে পারেনি। আর পারবেওনা জীবনে।

Headlines
error: আপনি আমাদের লেখা কপি করতে পারবেন নাহ। Email: Info@mirchapter.com
google.com, pub-4867330178459472, DIRECT, f08c47fec0942fa0