পাগলী তুমিওতো মেয়ে- আয়েশা ফারিয়া।

25591693_352644345218028_3734597379991378803_n

বড় বড় ফুলকপির টুকরো গুলোর উপর যখন তেল আর পেঁয়াজের বাদামি বেরেস্তা চিকচিক করছিলো তখন কেমন একটা শান্তি লাগছিলো।স্বাদ যেমনই হোক দেখতে তো ভালো লাগছে।আমি তো রান্না পারতাম না।আজকাল করি।না মানে এখন মোটামুটি পারি।মা না থাকলে করি।করি আর সবাইকে দেখাই।কেউ,”স্বাদ হয়েছে” বললে খুব ভালো লাগে।এখন দেখানোর মত বাসায় কেউ নেই।নিজের কাছেই মনে হচ্ছে গরম ভাতের সাথে ফুলকপির তরকারি মুখের ভেতর মোমের মত গলে যাবে।সাথে লইট্যার চচ্চড়ি আর ডাল।আর একটা পোড়া মরিচ।
অমৃত!
যদিও আমার গরম ভাত পছন্দ না………তবুও মনে হলো ভালো লাগবে…..

আগুনের একটু আঁচেই ঘেমে গেছি।কেমন একটা অস্থির ভ্যাপসা গরম।চুলার আঁচ কমিয়ে রান্নাঘরের বারান্দায় দাড়ালাম।এই আসি আসি করা শীতের কুয়াশা অনেক আগেই এসে গেছে।হুট করেই গায়ে লাগাতে কেমন গা কাঁটা দিয়ে উঠলো…………
বাইরের ইউক্যালিপটাস আর মেহগনির ডাল হালকা বাতাসে ঝুঁকে পড়ে ঘরে ঢোকে।ভেজা ভেজা পাতা……হাতে লাগলেই পাতার গুড়ি গুড়ি কুয়াশা লেপ্টে দিতে ইচ্ছে করে…
বারান্দার বাইরে মুখ বের করে কুয়াশা মাখতে ইচ্ছে করে…………
কিন্তু আমি কুয়াশা মাখিনা…..

রাস্তায় একটা পাগলি বসে থাকে সবসময়।শুনেছি ওর বাবা কে সেটা তার মা জানতোনা।মা’ও মরে গেছে…..সে কেনো পাগলি সেটা কেউ জানেনা।কেউ দিলে খায় না দিলে পড়ে থাকে…..ওর খাবার আসে কাগজের ঠোঙায়,পলিথিনে বা রসমালাইর ডিব্বাতে করে…….ওর সাথে কাক-কুকুরও খায়।ও নিষেধ করেনা।বরং কুকুরের খাবার দেখে সে…….মজা পায়…..
গাছের গুড়ির উপর বসে আছে পাগলিটা।একটি ছেড়া লুঙি পরা আর একটা ব্লাউজ পরা।
এই তো সেদিন রাতে বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলাম।হঠাৎ দেখি একজন মধ্যবয়সি লোক এদিক-ওদিক তাকিয়ে দুহাতে মেয়েটার ব্লাউজ টান মেরে ছিড়ে খ্যাককখ্যাক করে হাসতে হাসতে চলে গেলো।পরেরদিন সকালে হাটতে বেরিয়ে দেখি একটা রিকশাওয়ালা একটা বড় ঢিলাঢালা মেক্সি পরিয়ে দিচ্ছে………
কেউ খুলে নিচ্ছে কেউ পরিয়ে দিচ্ছে।তাতে পাগল মেয়েটার কি আসে যায়……

মেয়েটার গায়ে কুয়াশা পড়ছে।পাশের কাঠবাদাম গাছ থেকে পেকে যাওয়া লাল টকটকে পাতা পড়ছে…..সে কুয়াশা মাখেনা।সুন্দর পাতাগুলো দেখেনা।
ওকে আজ কেউ খাবার দেয়নি বোধহয়।কুকুরগুলোও অপেক্ষায় থাকে কেউ কখন পাগলিটাকে খাবার দিবে………..
পাগলি সেসব ভাবেনা।ওর কোনো ভাবনা নেই।ওর ভাবনা গুলো ছড়ানো-ছিটানো…এক করতে পারেনা বলেই সে পাগল……..

আমার ওকে বলতে ইচ্ছে করে,”আমার বাসায় এসো।খুব ভালো রান্না করেছি আমি।খেয়ে দেখো ভালো লাগবে।ফুলকপির রং দেখো।কি সুন্দর তাইনা?আমি একা।বসো আজ আমরা একসাথে খাবো……
দেখো এটা আমার সংসার।খুব সুখ এখানে।দেখো এগুলো আমার শাড়ি।সাজগোজের কত জিনিস দেখো।
তুমিও তো মেয়ে।কি সুন্দর দেখতে তুমি! তোমার সংসার করতে ইচ্ছে করেনা?সুখি হতে মন চায়না?সাজবে?
এসো সাজিয়ে দিবো……..তুমি কখনো রাজকুমারের স্বপ্ন দেখোনি?যে তোমাকে নিয়ে সুখের দেশে যাবে?”……..

কমেন্ট করুন