আমি ডিভোর্সী- মীর সজিব।

অয়নের সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর একাকিত্বতায় দিন কাটছিলো। অয়নের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আমাকে কুড়ে কুড়ে কষ্ট দিচ্ছে। ওর পরিবারের সকল সদস্যদের খুব বেশি মনে পড়ে। শাশুড়ি মায়ের খুব প্রিয় ছিলাম আমি শ্বশুরতো আমাকে কোনদিন মা ছাড়া ডাক দেয় নি।
শাশুড়ি মা’ ডায়াবেটিক’স এর ঔষধ গুলো আজ রেগুলার খাচ্ছেন কিনা তা জানতে খুব ইচ্ছে করে। শ্বশুর মশাই পত্রিকা পড়ার জন্য চশমাটা কেউ খুঁজে দিচ্ছে কিনা জানার খুব আগ্রহ হচ্ছে। তারা ভালো আছেতো!!! নাকি আমার মতো স্মৃতিগুলো তাদেরও কুড়ে কুড়ে কষ্ট দিচ্ছে।

অয়নের সাথে আমার বিয়ে হয় পারিবারিক ভাবেই। দুই পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে কার্যাদি সমাপ্ত হয়। খুব ভালই চলছিলো আমাদের বিয়ের পরের জীবন। বাড়ির একমাত্র পুত্রবধূ হওয়ার ফলে আদরের কোন শেষ ছিলো না।শ্বশুর -শাশুড়ি’র আদরের তো কোন ঘাটতিই ছিলো না।

তবে অয়ন কেমন যেন আমার প্রতি উদাসীন থাকতো। তারপরেও আমি অয়নের এই ব্যাপারটা নিয়ে কখনো কোন মন্তব্য করিনি। একজন স্বামীর প্রতি তার স্ত্রী’র যতটুকু কর্তব্য তার থেকে বেশি করেছি। অনেক রাত করে বাড়ি ফিরলেও আমার কোন নালিশ ছিলনা। অয়নের জন্য রাতের খাবার নিয়ে বসে থাকতাম। তবে অয়নের কাছে এই ব্যাপারটা খুব একটা বেশি ভালো লাগতো না।

অয়ন আমাকে বিয়ের পর কোথাও ঘুরতে নিয়ে যেতো না।এ বিষয় নিয়েও আমার কোন কষ্ট ছিলো না। সবকিছু মানিয়ে নিতাম। শ্বশুর-শাশুড়ির ভালোবাসায় আমি সব সময় সিক্ত থাকতাম।

অয়নের এই বিষয়গুলো আমাকে খুব বেশি কষ্ট দিলেও আমি কোনদিন তা প্রকাশ করি নি। অয়ন খুব একটা বেশি পজেটেবলি নিতো না আমাকে।

এভাবে সময় কাটতে থাকে আমার। হঠাৎ অয়ন ব্যাবসায়িক কাজে মালয়েশিয়া যাবে। ব্যাবসায়িক কাজে মালয়েশিয়া যাবে তাতে আমার বাধা দেওয়ার কোন প্রশ্নই উঠে না। অয়ন মালয়েশিয়া যাওয়ার পর আমার সাথে আর কথা হয়নি তার। বাবা-মা’য়ের সাথে কথা বলেই ফোন রেখে দেয়।

কিছুদিন পর দরজার কলিংবেল পড়লে দরজা খুলে দেখি একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে, কি চায় জিজ্ঞেস করতেই উনি বলেন, আপনিই কি মিথিলা? আমি মাথা নাড়ালাম হ্যা আমিই মিথিলা। আপনার একটি চিঠি আছে, আমার হাতে চিঠিটা ধরিয়ে দিয়েই লোকটি চলে গেলেন। লোকটির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

দরজা বন্ধ করে আমার রুমে চলে আসি, খামটি ছিঁড়ে ভিতরের কাগজটা দেখেই আমার মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে। আমি এই দৃশ্যটি দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। অনেকক্ষণ কান্না করেছি। বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ি’র চোখের পানি দেখে আমার আরো বেশি কষ্ট লেগেছে।
বিধাতা’র খেলাটা তাহলে আমাকে নিয়েই খেললেন। আমার অপরাধ কি কালো হয়ে জন্মেছি বলে!!! কালো মেয়েদের কি একটি সংসার থাকতে পারে না?

আমিতো বিধাতা’র সৃষ্টি মানুষ ছিলাম, আমাকে তো বিধাতায় বানিয়েছেন।

– ছোট গল্প।

print

কমেন্ট করুন