অ্যা টিনেজার’স রিলেশনশিপ- ইফতেখার হুসাইন সাকিব।

dipu

কিছু সম্পর্ক মধুর হয় আর কিছু তার চেয়ে মধুরতর হয়। প্রত্যেকটা সম্পর্কে একটা কমন বিষয় থাকে।

সেটা হলো ঝগড়া,মান-অভিমান যাইই বলেন। আমার মতে এগুলো ছাড়া একটা সম্পর্ক পরিপূর্ণ হয় না। যে সম্পর্ক মান-অভিমান থাকে সে সম্পর্কে ভালবাসার পরিমানটা নেহাত একটু বেশিই থাকে। আমাদের সামনে আমরা রীতিমতো অনেক সম্পর্ক গড়ে উঠতে দেখি আবার ভাঙ্গতেও দেখি। আমার মতে একটি সম্পর্ক টিকে থাকা নির্ভর করে স্যাক্রিফাইস এর উপর। আপনারা যদি একে অন্যকে স্যাক্রিফাইস না করেন তাহলে নির্ঘাত সেই সম্পর্ক ডাউন হতে দুদিন লাগবে না।

আমরা বিশেষ করে ছেলেরা মেয়েদের চলাফেরায় বিভিন্ন দোষ ধরি বা খুঁজি। একটা সমাজে চলতে গেলে অনেক কিছু ফেস করে চলতে হয়, আমরা অনেকেই হয়তো তা জানিনা। কিন্তু আমরা সম্পর্কে কি করি এই তুমি ওর সাথে ওখানে গিয়েছ কেন? ওর সাথে ক্লোজ হয়ে দাঁড়িয়েছ কেন? আমারে না বলে বাহিরে গিয়েছ কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। আসলে এসব ন্যাকামো বা অতিভক্তি ছাড়া কিছুই না।

একটা মেয়ে তার বন্ধু-বান্ধব থাকতেই পারে। সে তো আর একা চলাফেরা করতে পারে না। সে বন্ধু-বান্ধব এর সাথে বাইরে বের হতেই পারে। এখানেতো এত হস্তক্ষেপের কিছুই নেই। আর হ্যাঁ! যদি মেয়েটি অতিরিক্ত বা খারাপ রাস্তায় চলাফেরা করে তাহলে আপনি তাকে শাঁসাতে পারেন বা ভুল পথে না যাওয়ার জন্য আদেশ উপদেশ বা অনুরোধ করতে পারেন। আর মেয়েরাও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছেলেদেরকে সম্পূর্ন হ্যারেজমেন্ট এর ভিতরে ফেলে দেয়। ফলে ঐ মুহূর্তে ছেলেদের অনেক সময় করার কিছু থাকেনা। নীরবে তা সহ্য করে নিতে হয়।

মেয়েবান্ধবীদের সাথে মেলামেশা অনেকাংশে মেয়েরা পছন্দ করেনা। ফেসবুকে মেয়েদের সাথে এড থাকা? সেটাতো কোনভাবেই নিতে পারে না। এগুলো হল সম্পূর্ন ছেলেমানুষি। সম্পর্কে সন্দেহ থাকতে পারে। সন্দেহ থাকলে ভালবাসা আরও গভীর হয়। কারন আপনি যাকে ভালবাসেন তাকেই সন্দেহ করার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু সন্দেহের হারটা যদি মাত্রাতিরিক্ত হয় তাহলে ভাঙ্গনের সুরটাও অতি নিকটে চলে আসে।

বর্তমানে সম্পর্ক ভাঙ্গার পিছনে মূল রহস্য হল মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহ নামক নেশাটা। এরকম কয়েকটা সম্পর্ক আমার চোখের সামনেই ভেস্তে গেছে। এমন আরও হাজার কারন আছে যদি আপনি সেগুলোকে কানে না নেন।একটি সম্পর্ক টিকে রাখতে হলে আপনাদের একে অপরকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। সবসময় যে আপনার কথা থাকতে হবে এমন না! কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যকাউকে জেতাতে জয়।

সেক্ষেত্রে জয়ের নায়কটা আপনিই থাকেন। আমার বাবা ছোট থেকে এই পর্যন্ত আমাকে এখনও বলেন সমাজে চলতে গেলে ছাড় দিয়ে চলতে হয়। যত পারও মানুষকে ছাড় দিয়ে চলবা। আমি এই কথাটা বিশ্বাস করি এবং অনুসরনও করি।

আসুন আমরা ঝগড়া, মান-অভিমান, মাত্রাতিরিক্ত সন্দেহ এসব ঝেড়ে ফেলে দিয়ে সম্পর্কগুলোকে আমাদের মত করে এগিয়ে নিই। জিঁইয়ে রাখি আমাদের ভালবাসাকে। স্মরনীয় করে তুলি আমাদের মূহুর্তগুলোকে। সম্পর্কগুলোকে মধুর থেকে মধুরতর করে তুলি। দিনশেষে জয়টা ভালবাসারই হয়। #জয়ী হউক পৃথিবীর সকল মধুর সম্পর্কগুলোর।

print

কমেন্ট করুন